kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন

আলজাজিরা সত্য তথ্য দিলে সরকার তদন্ত করত

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আলজাজিরা সত্য তথ্য দিলে সরকার তদন্ত করত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও তাঁর ভাইদের নিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা অভিযোগ তদন্ত করা প্রয়োজন মনে করছে না সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল সোমবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘কোনো সত্যিকার তথ্য থাকলে আমরা অবশ্যই তদন্ত করতাম এবং সংশোধনমূলক উদ্যোগ নিতাম। অপরাধীদের আমরা শাস্তি দিতাম। আলজাজিরা যদি সত্যি তথ্যগুলো দিত, তাহলে সরকারের জন্য সহায়ক হতো। কিন্তু এটা বড় নাটক হয়েছে এবং আমাদের জন্য খুব উপকারে আসেনি।’

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় আলজাজিরার ওই প্রতিবেদন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না এবং ওই প্রতিবেদন নিয়ে বাংলাদেশ সরকার চাপে পড়েছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার সঙ্গে এতগুলো কংগ্রেসম্যান, পাওয়ারফুল কংগ্রেসম্যান, সিনিয়র সিনেটরের আলাপ হয়েছে। কেউ এটি (আলজাজিরার প্রতিবেদন) নিয়ে আলোচনা করেনি। এটি বাংলাদেশেই খালি আলাপ করে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভয়েস অব আমেরিকার হয়ে একজন বাংলাদেশি তাঁর সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় আলজাজিরার প্রসঙ্গ তুলেছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাংলা কিছু টিভি চ্যানেল এ বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করেছে। জবাবে তিনি বলেছেন, সুন্দর নাটক লিখেছে। কিন্তু নাটকটা অনেক জায়গায় বেমানান হয়েছে।

ড. মোমেন বলেন, ‘আলজাজিরা বলল যে আজিজ আহমেদের দুই ভাই। ওরা দুষ্ট লোক। এখন উনিও দুষ্ট লোক।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তিনি একসময় যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে থাকতেন। সেই রাজ্যের সিনেট প্রেসিডেন্ট ছিলেন বিল বাউজার। তিনি ছেড়ে দেওয়ার পর ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটসে তিনি প্রেসিডেন্ট হন। তিনি সুপরিচিত লোক। কিন্তু তাঁর ভাই হুটনি বাউজার ছিলেন মাফিয়া। এক ভাই মানুষের উপকার করেন। আরেক ভাই মানুষ মারেন। এক ভাই খারাপ হলেই আরেকজন খারাপ হবেন, এটা তো হয় না।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে শান্তি রক্ষা সরঞ্জাম কেনায় জেনারেল আজিজের সম্পৃক্ততার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজিজ আহমেদের সঙ্গে এর সম্পৃক্ততা নেই। আজিজ তখন সেনাপ্রধানও হননি।

ড. মোমেন বলেন, ২০১৬ সালে তিনি যখন নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন, তখন দারফুর, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচুর শান্তিরক্ষী মারা যাচ্ছিলেন। শান্তিরক্ষী মারা গেলে ৭০ হাজার ডলার করে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। তখন যুক্তরাষ্ট্র, বিশেষ করে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সামাস্থা পাওয়ার শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তায় নজরদারি সরঞ্জাম পাঠানোর কথা বলেন। সবচেয়ে বেশিসংখ্যক শান্তিরক্ষী পাঠানো দেশ হিসেবে বাংলাদেশ রাজি হয়েছে। অনেকে তখন রাজি না হলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে রাজি হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালে হংকংয়ের এক ডিলারের মাধ্যমে বাংলাদেশ নজরদারি সরঞ্জাম সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। ২০১৮ সালে ওই ডিলার তা সরবরাহ করে। বর্তমান সেনাপ্রধান তখন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির মহাপরিচালক। আলজাজিরা তাঁকে জড়িয়ে হাঙ্গেরির গল্প তৈরি করেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার ‘বডিগার্ড’ ছিল না। আওয়ামী লীগ নেতারাই বিপদের সময় তাঁকে পাহারা দিয়েছেন। আলজাজিরার প্রতিবেদনে মালয়েশিয়া সফররত আজিজ আহমেদকে স্বাগত জানাতে তাঁর ভাই বিমানবন্দরে এসেছেন বলে দেখানো হয়েছে। সেই বিমানবন্দর দেখানো হয়েছে ইউরোপে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে ভাই-বোন কাছাকাছি থাকে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, আজিজ আহমেদ ও তাঁর ভাই আলাদা গাড়িতে যাচ্ছেন। আজিজ আহমেদ যে গাড়িতে যাচ্ছেন তার নাম্বার প্লেট কুয়ালালামপুরের। আর তাঁর ভাইয়ের নাম্বার প্লেট ইউরোপীয়। আলজাজিরা এখানেও ভালোভাবে বিষয়টি মেলাতে পারেনি।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা