kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

ইউপি নির্বাচন নিয়ে বিশ্লেষকরা

বিএনপি অংশ না নিলেও পরিস্থিতি বদলাবে না

বিশেষ প্রতিনিধি   

২ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিএনপি অংশ না নিলেও পরিস্থিতি বদলাবে না

আসন্ন ইউপি নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলে নির্বাচন পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হবে না বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তাঁরা বলছেন, নির্বাচন এখন একপক্ষীয় হয়ে গেছে। ক্ষমতাসীন দলের নিজেদের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। অন্যান্য দল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সেভাবে আসতে পারছে না। সে ক্ষেত্রে বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ না নিলেও কিছু যায়-আসে না।

স্থানীয় শাসন বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুদার বিষয়টি সম্পর্কে অভিন্ন মত প্রকাশ করেন।

ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিএনপি এ নির্বাচনে প্রতীক না দিলেও কোনো প্রভাব পড়বে না। যে ধরনের নির্বাচন হচ্ছে তাতে ক্ষমতাসীন দলের প্রতীক থাকলেই যথেষ্ট। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী এবং একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরো বেশি হবে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. হুমায়ুন কবীর বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন সব সময় চায় প্রতিটি ব্যক্তি, প্রতিটি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। আমাদের কাছে তারা যে সহযোগিতা চাইবে সে সহযোগিতা দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশন সে বিষয়ে সহযোগিতা প্রদান করবে। এখানো তফসিল ঘোষণা করিনি। তফসিল ঘোষণার সময় বিষয়টি দেখব।’

প্রসঙ্গত, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বাকি মেয়াদের মধ্যে ইউপি নির্বাচনটিই হচ্ছে বড় নির্বাচন। এবারের রোজার আগে আগামী ১১ এপ্রিল প্রথম ধাপে দেশের ২০ জেলায় ৬৩টি উপজেলার ৩২৩টি ইউপিতে ভোট হবে বলে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। এবারও এই নির্বাচন হবে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে।

কিন্তু গত রবিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, তাঁরা দলগতভাবে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে যাচ্ছেন না। ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপি থেকে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে এটা প্রমাণিত হয়েছে, এই নির্বাচন কমিশন কোনো নির্বাচনই নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠান করার যোগ্য নয়। বর্তমান অনির্বাচিত সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই এই নির্বাচন কমিশনের কাজ।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে ইউনিয়ন পরিষদ

নির্বাচনের ইতিহাস স্বস্তির নয়। এর আগে এই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতিটিতেই সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সে কারণে চলমান পৌরসভা নির্বাচনে অনিয়ম ও সহিংসতা প্রতিরোধে নির্বাচন কমিশনকে যে ধরনের নিষ্ক্রিয় অবস্থায় দেখা গেছে তাতে আসন্ন ইউপি নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক সহিংসতার আশঙ্কা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

ড. বদিউল আলম মজুমদারের মতে, বিএনপি দলীয়ভাবে অংশ না নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে এবার আন্তর্দলীয় সহিংসতা কম হতে পারে। তবে ক্ষমতাসীন দলে অভ্যন্তরীণ সহিংসতা ব্যাপক হতে পারে।

সর্বশেষ ২০১৬ সালে ইউপি নির্বাচনে প্রাণহানি ঘটে ১১০ জনের। ব্যাপক সহিংসতা, ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, বিনা ভোটে জয়ী হওয়া, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদেরই অনিয়মে জড়িয়ে পড়া—এসব ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি এবং দেশের নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ রেখেই শেষ হয় ছয় ধাপে অনুষ্ঠিত দেশের নবম এবং দলীয় প্রতীকের প্রথম ইউপি নির্বাচন। ওই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্ব্বী না থাকায় ক্ষমতাসীন দলের (বিদ্রোহীসহ) ২১৮ জন প্রার্থী বিনা ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নির্বাচনী সংঘর্ষে নিহতদের জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করে তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করার কথা জানান। ওই নির্বাচন প্রথমবারের মতো দলভিত্তিক হলেও তৎকালীন নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিলেও কয়েকজন পুলিশ সুপার (এসপি) ও থানার ওসি প্রত্যাহার এবং সাতক্ষীরার এসপি ও পাঁচ ওসিকে ঢাকায় ডেকে এনে ভর্ত্সনা করা ছাড়া আর কোনো কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারেনি কমিশন। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কমিশন গাজীপুরের এসপিকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়; কিন্তু মাত্র ১৩ দিনের মাথায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিশনের অনুমতি না নিয়ে ওই আদেশ প্রত্যাহার করে নেয়।

পাঁচ বছর আগের ওই নির্বাচনে কমিশনের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ ছিল, বরগুনার সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করা। এ ছাড়া রাজশাহীর সংসদ সদস্য এনামুল হক ও ওমর ফারুক চৌধুরী, শেরপুরের হুইপ আতিউর রহমানকে সতর্ক করা হয়েছিল।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা