kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

ইউপি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইউপি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নেবে না বিএনপি। গত শনিবার অনুষ্ঠিত দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল রবিবার সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা মনে করেছিলাম, সরকার স্থানীয় নির্বাচন অন্তত সুষ্ঠু করার ব্যবস্থা করবে আর নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনার উদ্যোগ নেবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদসহ পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে যা হয়েছে, তাতে আমরা হতাশ। এ অবস্থায় আগামীতে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনগুলোতে আমরা দলীয়ভাবে অংশগ্রহণ না করার ব্যাপারে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

ফখরুল বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলেই চরম প্রতিকূল অবস্থায়ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে এই নির্বাচন কমিশন কোনো নির্বাচনই নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত করার যোগ্য নয়। বর্তমান অনির্বাচিত সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই এই কমিশনের কাজ।

আগামী দিনে সব নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকেই বিরত থাকবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এ বিষয়ে দলের স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলে আপনাদের জানাব। এখন পর্যন্ত নেওয়া সিদ্ধান্ত হচ্ছে, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আমরা আর দলগতভাবে যাচ্ছি না। ইউনিয়ন পরিষদে আমাদের দলের কাউকে আর মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে না।’

কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জনগণের সাংবিধানিক অধিকার—অন্যায়ের প্রতিবাদ করা বা তাদের মতকে প্রকাশ করা এসবকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করছে, আক্রমণ করছে। আর সে জন্য এই সরকার যতগুলো আইন করেছে তার মধ্যে নিকৃষ্টতম হচ্ছে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট। এই অ্যাক্টের মধ্য দিয়ে সরকার চরমভাবে একনায়কতান্ত্রিক একটি সরকারে পরিণত হয়েছে। তারা কোনোভাবেই জনগণের ন্যূনতম সাংবিধানিক অধিকারটুকুকেও সম্মান দিতে রাজি নয়।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আজ (গতকাল) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ছাত্রদলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ লাটিপেটা, টিয়ার শেল ও শটগান ব্যবহার করে শতাধিক নেতাকর্মীকে আহত করেছে। তাঁদের অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে খবর পেয়েছি। এই হামলা থেকে আবারও প্রমাণিত হলো এই সরকার মত প্রকাশে ন্যূনতম স্বাধীনতা দিতেও নারাজ। তারা গণতান্ত্রিক অধিকারগুলোকে হরণ করে নিয়েছে। আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

এর আগে গত শনিবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে মহাসচিব ছাড়াও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

 

মন্তব্য