kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে হত্যার অভিযোগ

সিসি ফুটেজসহ আলামত জব্দ মামলার প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিসি ফুটেজসহ আলামত জব্দ মামলার প্রস্তুতি

রাজধানীর কলাবাগান থানা এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তাজরিন মোস্তফা মৌমিতার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় বাড়ির মালিকের ছেলে ফাইজারসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে পরিবার। গতকাল রবিবার এই তথ্য জানিয়ে মৌমিতার ফুফা মো. মুসাব্বির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাতেই আমরা মামলা করব কলাবাগান থানায়।’

কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ চন্দ রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে কালের কণ্ঠকে বলেন, মৌমিতার পরিবার এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে রাতে তারা থানায় মামলা করতে আসতে চেয়েছে। অভিযোগ দায়েরের পর বাদীর তথ্য যাচাই-বাছাই করব।

এটা হত্যা, নাকি আত্মহত্যা—জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই স্পর্শকাতর মনে হচ্ছে। তদন্তের পর এটি আত্মহত্যা না হত্যা, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে। এই ঘটনায় আদনান নামের একজনকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। আমাদের তদন্ত চলছে।’

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের আশপাশের একটি ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরাসহ আরো কিছু আলামত জব্দ করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক বিভাগ। সেই তথ্যও যাচাই-বাছাই চলছে। তবে ওই ক্যামেরায় তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। যদিও প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ এখন পর্যন্ত জানাতে পারেনি যে মৌমিতাকে কেউ ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছে নাকি তিনি নিজেই লাফিয়ে পড়েছেন।

তবে মৌমিতার পরিবার বলছে, মৌমিতাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এতে বাড়ির মালিকের ছেলে ফাইজার ও তাঁর বন্ধুরা জড়িত থাকতে পারেন। পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করলে সত্য বেরিয়ে আসবে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মৌমিতার মৃত্যুর পরও মূল অভিযুক্ত ফাইজারের বাবা কামাল উদ্দিন আহমেদ (বাসার মালিক) ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। ঘটনার পর মৌমিতার পরিবারের সদস্যরা ছাদের তালার চাবি আনতে গেলে কামাল এমন আচরণ করেন। পরে মৌমিতার স্বজনরা চাবি নিয়ে ছাদে গিয়ে সিগারেট ও নেশা করার সরঞ্জাম দেখতে পায়।

মৌমিতা আত্মহত্যা করেছেন কি না জানতে চাইলে মৌমিতার ফুফা মো. মুসাব্বির বলেন, ‘এমনটি হতেই পারে না। কারণ মৌমিতা খুবই সহজ-সরল এবং ভালো মেয়ে ছিল। মেধাবীও ছিল। সব সময় হাসি-খুশি থাকত। সে যদি মানসিকভাবে খারাপ থাকত, তাহলে মা অন্তত জানত। ঘটনার দিনও মায়ের সঙ্গে হাসিখুশি সময় কাটিয়েছে। মেয়ের মৃত্যুতে মা-বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।’

পারিবারিক সূত্র জানায়, মৌমিতা ও তাঁর পরিবার কলাবাগান ৮ নম্বর রোডের ২ নম্বর বাড়ির চতুর্থ তলায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে। গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মৌমিতা সাততলা ভবনটির ছাদে ওঠেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরিবার জানতে পারে, মৌমিতা ছাদ থেকে পড়ে গেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার রাতে রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে মৌমিতাকে দাফন করা হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, ফাইজার দীর্ঘদিন ধরে মৌমিতাকে উত্ত্যক্ত করছিলেন। ফাইজার বাসার ছাদে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিতেন। মৌমিতা পড়ালেখা শেষে মাঝেমধ্যে বিকেলে ছাদে উঠলেও তাঁকে উত্ত্যক্ত করতেন ফাইজার। মৌমিতার পরিবার বিষয়টি ফাইজারের পরিবারকে জানালে তারা ছেলের পক্ষ নেয়।

 

 

মন্তব্য