kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে রপ্তানি কমতে পারে ৮-১০%

আন্তর্জাতিক আর্থিক খাতে আস্থা ফিরে পাবে বাংলাদেশ : ড. দেবপ্রিয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে রপ্তানি কমতে পারে ৮-১০%

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হলে আন্তর্জাতিক আর্থিক খাতে আস্থা ফিরে পাবে বাংলাদেশ। যদিও শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৮ থেকে ১০ শতাংশ কমতে পারে। এতে বছরে প্রায় ২৫০ কোটি ডলারের (২১ হাজার কোটি টাকা) সমপরিমাণ রপ্তানি আয় কমবে।

গতকাল রবিবার এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত এবং উত্তরণের পরবর্তী করণীয়গুলো নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি আলাপচারিতায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশে বাড়বে বিদেশি বিনিয়োগ। ঋণমান নির্ণয়কারী সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিকভাবে মানদণ্ড দেবে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদেশি ঋণ পাবে বাংলাদেশ। সঙ্গে রেমিট্যান্সও বাড়বে।

উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা ধরে রাখতে সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ উতরে সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর তাগিদ দিয়েছেন ড. দেবপ্রিয়। তিনি জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) সদস্য। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হলে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক কিংবা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ঋণ কাঠামো পরিবর্তিত হবে বাংলাদেশের জন্য। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় তহবিল পাবে না বাংলাদেশ। সাত বছরের মধ্যে ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিতে বিশেষ সুবিধা হারাতে হবে। ওষুধ রপ্তানিতে গুনতে হবে অতিরিক্ত অর্থ। তবে অব্যাহত থাকবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সুবিধা আর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। ইউরোপ আর কানাডায় পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধাবঞ্চিত হবে দেশ। শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৮ থেকে ১০ শতাংশ কমতে পারে। তবে শুল্কমুক্ত সুবিধা ২০৩১ সাল পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন আর ব্রিটেন দেবে বাংলাদেশকে।

গত শুক্রবার রাতে সিডিপি স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুপারিশ করেছে। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হয়ে যাবে।

অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় বলেন, সিডিপি তিনটি সূচকের ভিত্তিতে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের বিষয়টি পর্যালোচনা করে। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা—এই তিন সূচকেই যোগ্যতা অর্জন করায় বাংলাদেশের আর এলডিসিভুক্ত দেশের তালিকায় থাকার সুযোগ নেই। তাই সামনে বাংলাদেশ কী বিশেষ সুবিধা হারাচ্ছে সে বিষয়ে গুরুত্ব না দিয়ে, উত্তরণকালীন কৌশল বা কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।

কয়েকটি পরামর্শ দিয়ে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, প্রথমত, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সম্পদ সংগ্রহ করতে হবে। কর আদায়ের পরিমাণ বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকে এ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হিসেবে ধরতে হবে এবং প্রতিবছর কী পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, তার সুষ্ঠু পরিসংখ্যান থাকতে হবে। তৃতীয়ত, স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ আর পঞ্চম পরামর্শ, টেকসই আর পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিত করা। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসতে হবে বলে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, তিন বছর পর অর্থাৎ ২০২৪ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ সিডিপির কাছে অনুরোধ জানায় আরো দুই বছর যেন দেওয়া হয়। যেহেতু করোনার প্রাদুর্ভাব সব দেশেই আছে, তাই সিডিপি এ বিষয়টিকে খুব নমনীয়ভাবে দেখেছে। যার ফলে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিটি রক্ষিত হয়েছে। ২০২৪ সালের পরিবর্তে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ এ তালিকা থেকে বের হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে এ তালিকা থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে নেপাল ও লাওসকেও বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

 

মন্তব্য