kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

রায়পুরে কেন্দ্র পাহারা দেবে আওয়ামী লীগ

ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা প্রতিহতের ঘোষণা বিএনপির

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রায়পুরে কেন্দ্র পাহারা দেবে আওয়ামী লীগ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে জেতাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভোটকেন্দ্র ও আশপাশ এলাকায় অবস্থান করবে। ইলেকট্রনিক ভোট মেশিনে (ইভিএম) ভোটারদের ভোট দিতে প্রভাবিত করলে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী। এ ছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের মধ্যে উত্তাপ রয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় দেখা যাচ্ছে বহিরাগতদের উপস্থিতি।

পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল হোসেনের আত্মীয় আমিন উল্লাকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে হুমকি দেওয়া হয়েছে। আবু হোসেনের দাবি, গতকাল শনিবার বিকেলে লক্ষ্মীপুরের যুবলীগ নেতা টিপু, নোমানসহ কয়েকজন এসে তাঁকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে হুমকি দেন। এ সময় বাড়াবাড়ি করলে পরিণতি খারাপ হবে বলে শাসিয়ে গেছেন তাঁরা।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী এ বি এম জিলানী অভিযোগ করেন, গত শুক্রবার তাঁর বাসার সামনে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এদিকে ৯টি ওয়ার্ডের ৯টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করেছে পুলিশ প্রশাসন। প্রতিটিতে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।

অন্যদিকে রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মিলনায়তনে সম্প্রতি নৌকার প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী  বৈঠক করে আওয়ামী লীগ। এতে কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে ৫৭ জন সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী নৌকায় প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তবে কাউন্সিলর ভোট হবে নিরপেক্ষ। এ ঘটনায় কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশ হলে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন রুবেল ও হ্যাচারির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ওয়াহিদুর রহমান মজুমদারকে শোকজ করা হয়েছিল।

বিএনপি প্রার্থী এ বি এম জিলানী বলেন, ‘কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রকাশ্যে নৌকায় ভোট দিতে আওয়ামী লীগ অঙ্গীকার করিয়েছে। আমার বাড়ির সামনে তারা ককটেল বিস্ফোরণ করিয়েছে। রামগতির মতো রায়পুরেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে জেতাতে ইভিএম কবজায় নিয়ে তারা ভোটারদের নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করতে পারে।’

আওয়ামী লীগের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন রুবেল বলেন, ‘বিএনপিসহ অন্য প্রার্থীরা সুষ্ঠুভাবে তাঁদের প্রচারণা চালিয়েছেন। কাউকেই বাধা দেওয়া হয়নি। বিএনপি প্রার্থী আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে ভোট নিয়ে বিতর্কিত কথা বলছেন। রায়পুরে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের মাধ্যমেই নৌকা বিজয়ী হবে।’

রায়পুর থানার ওসি আবদুল জলিল বলেন, ‘রবিবার নির্বাচনের দিন রায়পুরের ১৩টি কেন্দ্রেই পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তায় থাকবে। তবে ৯টি কেন্দ্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করবে।’

রায়পুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার দিপক বিশ্বাস বলেন, ‘রায়পুরে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ হবে। তবে বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগের বিষয়ে আমরা জানি না। তিনি লিখিতভাবে আমাদের কিছু জানাননি।’

 

মন্তব্য