kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

গণফোরামে বিভক্তি আরো স্পষ্ট

► সভাপতির পদ থেকে ড. কামালকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব
► তাদের প্রস্তাবের দুই পয়সার মূল্য নেই : মোকাব্বির

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গণফোরামে বিভক্তি আরো স্পষ্ট

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামে দুই অংশের বিভক্তি আবারও স্পষ্ট হলো। বিরোধ মেটাতে ১১ সদস্যের স্টিয়ারিং কমিটি গঠনের পরিবর্তে উল্টো গতকাল শনিবার মোস্তফা মহসিন মন্টু সমর্থকদের বর্ধিত সভায় সভাপতির পদ থেকে কামাল হোসেনকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব উঠেছে। যদিও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক পক্ষের ডাকা ওই বর্ধিত সভায় দলের প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেনকে সভাপতির পদ থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করেন সাবেক নির্বাহী সভাপতি মহসিন রশিদ। তিনি বলেন, দলের মধ্যে অনেক বিভাজন চলছে। এই বিভাজন বন্ধ করতে ব্যর্থ হলে সভাপতির পদ থেকে ড. কামাল হোসেনকে বাদ দেওয়া উচিত। কমিটির সাবেক সদস্য সত্তার পাঠানও একই প্রস্তাব করেন। পরে জেলা পর্যায়ের কয়েকজন নেতা তাঁদের প্রস্তাব সমর্থন করেন।

তবে মোস্তফা মহসিন মন্টু এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হিট অব দ্য মোমেন্টে মহসিন রশীদ সাহেব ওই কথাটা বলে ফেলেছেন। প্রকৃতপক্ষে আমরা তাঁকে বাদ দেওয়ার কথা বলছি  না। বিষয়টি ড. কামাল হোসেনের নিজের ওপর নির্ভর করছে। তিনি একজন সম্মানিত ব্যক্তি। আগামীতে উনি থাকবেন কি না এই সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই দেবেন।’

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান কালের কণ্ঠকে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘কিসের বর্ধিত সভা? কে কাকে বাদ দিয়েছে? ড. কামাল হোসেনকে বাদ দেওয়ার কোনো অধিকার ও সুযোগ তাদের নেই। যারা এ ধরনের প্রস্তাব করেছে, তাদের দুই পয়সার মূল্য নেই।’

এক প্রশ্নের জবাবে মন্টুবিরোধী বলে পরিচিত এই নেতা বলেন, ‘মন্টুসহ এরা আগেও বহিষ্কৃত হয়েছে। গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ড করলে আবারও তাদের শোকজ করার পর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কামাল হোসেনকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব ‘হাস্যকর’ উল্লেখ করে অ্যাডভোকেট শফিক উল্লাহ বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনের আদর্শে ও নেতৃত্বে এখনো গণফোরাম চলছে। সুতরাং তাঁকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাবে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না।’

একসময় সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া ও মোস্তফা মহসিন মন্টুর নেতৃত্বাধীন দুটির অংশের বিরোধ চরমে পৌঁছলে গণফোরামে ভাঙনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বহিষ্কারের মতো ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে গত ডিসেম্বরে দুই অংশের বিরোধ মেটানোর উদ্যোগ নেন দলটির সভাপতি কামাল হোসেন। সিদ্ধান্ত হয়, আগামী জাতীয় কাউন্সিল পর্যন্ত স্টিয়ারিং কমিটির মাধ্যমে দল পরিচালিত হবে। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় ড. রেজা কিবরিয়া দলের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ফলে সাবেক সাধারণ সম্পাদক মন্টুবিরোধী বলে পরিচিত এই অংশের এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোকাব্বির খান, শফিক উল্লাহ ও মোস্তাক আহমেদ। মন্টু সমর্থকদের বিশ্বাস, এই তিনজনের পরামর্শেই এখন ড. কামাল চলছেন।

জানা গেছে, স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করে দলের ঐক্যবদ্ধ থাকার এই ঘোষণার জন্য এরই মধ্যে প্রেস ক্লাবে দুটি সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েও ড. কামাল হোসেন তা বাতিল করেছেন। মন্টু সমর্থকদের মতে, মোকাব্বির খানদের পরামর্শে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল তাঁরা বর্ধিত সভা ডাকেন। এমন পরিস্থিতিতে দু-পক্ষের ভাঙন আরো স্পষ্ট হয়।

বর্ধিত সভা শেষে দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মহসিন মন্টু বলেন, গণফোরামের আগামী কাউন্সিলে কাউন্সিলররা সিদ্ধান্ত নেবেন, কামাল হোসেনকে সভাপতি হিসেবে রাখা হবে কি না। বর্ধিত সভায় জানানো হয়, ২৮ ও ২৯ মে ঢাকায় দুই দিনব্যাপী কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য