kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

‘এগুলো দুর্ঘটনা নয় হত্যাকাণ্ড’

লায়েকুজ্জামান   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘এগুলো দুর্ঘটনা নয় হত্যাকাণ্ড’

প্রতিবছরই সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি মৃত্যুও বাড়ছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সারা দেশে ৪২৭টি সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য জানিয়েছে একটি বেসরকারি সংগঠন। ওই সব দুর্ঘটনায় মারা গেছে ৪৮৪ জন। আর আহত হয়েছে ৬৭৩ জন। আগের বছরের শেষ মাস অর্থাৎ ডিসেম্বরে ৪০২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬৪ জন নিহত ও ৫১৩ জন আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে একই সংগঠন।

চলতি মাসে গতকাল শুক্রবার এক দিনেই বগুড়া, সিলেট ও নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ১৮ জন নিহত হয়েছে। সিলেটের দুর্ঘটনাটি ছিল দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ। একটি বাস এনা পরিবহনের; অন্যটি লন্ডন এক্সপ্রেস নামের পরিবহন প্রতিষ্ঠানের বাস। এই দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে আটজনের।

এনা পরিবহনের বাসের বেপরোয়া গতি নিয়ে গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন পরিবহনের বাসচালক ও তাঁদের সহকারী, যাত্রী সাধারণের সঙ্গে কথা বলেও এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

যদিও এনা পরিবহন কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেছে, তারা সড়কে তাদের বাসের গতি নির্দিষ্ট করে দিয়েছে।

কালের কণ্ঠ’র হিসাবে গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত মোট সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৬টি। এতে নিহত হয়েছে ৫৬ জন এবং আহত হয়েছে ১২১ জন।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের তথ্য নিয়ে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। গত ৮ জানুয়ারি সংগঠনটি ২০২০ সালের সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংগঠনটি সড়ক দুর্ঘটনার বেশ কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছে। এগুলো হচ্ছে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক মানসিক অসুস্থতা, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ ও যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনগণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত ‘সড়ক দুর্ঘটনার বার্ষিক প্রতিবেদন-২০২০’ এ বলা হয়েছে, গত বছর দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে চার হাজার ৭৩৫টি। এতে প্রাণ হারিয়েছে পাঁচ হাজার ৪৩১ জন এবং আহত হয়েছে সাত হাজার ৩৭৯ জন। ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের চেয়ে ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনার হার বেড়েছে ০.৮৯ শতাংশ। আর জীবনহানির হার বেড়েছে ৪.২২ শতাংশ। আহতের হার বেড়েছে ৩.৮৮ শতাংশ। বিভিন্ন পত্রিকা, অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে সংগঠনটি এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে যে কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য এনা পরিবহন বেশি সমালোচিত হয়েছে। ২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সরাইল উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারানো বাসের চাপায় তিন নারী পথচারী নিহত হন। ২০১৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বিজয়নগর উপজেলায় বাস চাপায় মাইক্রোবাসের আট আরোহী প্রাণ হারায়। ওই বছর সরাইল উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে তিন যাত্রী নিহত হন। নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার আমতলা এলাকায় বাস চাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়। এসব দুর্ঘটনার জন্য এনা পরিবহনের বাসকে দায়ী করা হয়।

জানতে চাইলে এনা পরিবহনের স্বত্বাধিকারী খন্দকার এনায়েতউল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিলেটের দুর্ঘটনায় আমার গাড়ির কোনো দোষ নেই। আমার গাড়ির চালক ও হেলপার মারা গেছেন। লন্ডন এক্সপ্রেসের বাসের চালক ঘুমিয়ে ছিল। যে কারণে ওই বাসটি অন্য পাশে চলে আসায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।’

এনায়েতউল্লাহ আরো বলেন, ‘সড়কে আমার গাড়ির গতি ৮০ কিলোমিটার নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আমার বাসের প্রত্যেক চালকের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে।’

 

মন্তব্য