kalerkantho

রবিবার। ৫ বৈশাখ ১৪২৮। ১৮ এপ্রিল ২০২১। ৫ রমজান ১৪৪২

স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণের আগেই চলে গেলেন রুমেল

সিলেট অফিস   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণের আগেই চলে গেলেন রুমেল

রুমেল-অন্তরা দম্পতির এই ছবি এখন শুধুই স্মৃতি। ছবি : কালের কণ্ঠ

চিকিৎসক দম্পতি তাঁরা। স্বামী ইমরান খান রুমেল সিলেটের উইমেনস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক আর স্ত্রী শারমিন আক্তার অন্তরা একই কলেজে ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং ৪২তম বিসিএস পরীক্ষার্থী। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় ঢাকায় ছিল পরীক্ষা। তাই স্ত্রীকে নিয়ে ভোরে বাসা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন রুমেল, কিন্তু পথে তাঁদের থামিয়ে দিল এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। রুমেল (৩৬) পাড়ি জমালেন না-ফেরার দেশে আর গুরুতর আহত অন্তরা (৩০) লড়ছেন মৃত্যুর সঙ্গে।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার রশিদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন রুমেলসহ আটজন। আহত হন অন্তরাসহ অন্তত ২০ জন। রুমেল-অন্তরা এনা পরিবহনের যাত্রী ছিলেন। তাঁদের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে হলেও বসবাস সিলেটে।

ডা. রুমেল সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের সাবেক প্রধান ডা. আমজাদ হোসেন খানের একমাত্র ছেলে। নগরের ফাজিলচিস্ত এলাকার বাসিন্দা ডা. আমজাদের দুই ছেলে-মেয়েই চিকিৎসক। ছেলের বউ ও মেয়ের স্বামীও চিকিৎসক। নাতি-নাতনি নিয়ে কাটানো আনন্দের এ সময়ে দুর্ঘটনার সংবাদ যেন তাঁর সব কিছু তছনছ করে দিয়েছে। রুমেল জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। দুই মেয়েশিশু নিয়ে রুমেল-অন্তরার সংসার। একটির বয়স পাঁচ বছর, অন্যটির দুই বছর।

রুমেলের শ্বশুর মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘আমার মেয়ে অন্তরার স্বপ্ন ছিল বিসিএস ক্যাডার হয়ে মানুষের সেবা করবে। অসহায় আর ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়াবে। সে জন্য বিসিএস পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিল। তার স্বামীও তাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই রুমেল চলে গেল।’

পরিবার জানায়, ভোরে এনা পরিবহনের একটি বাসে করে সিলেট শহর থেকে ঢাকার পথে রওনা দেন রুমেল ও অন্তরা। ৪৫ মিনিটের মধ্যে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের রশিদপুরে আসামাত্রই দুর্ঘটনার শিকার হয় তাঁদের বাস। বিপরীত দিক থেকে আসা লন্ডন এক্সপ্রেসের একটি বাস ধাক্কা দিলে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

দুর্ঘটনায় ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়েই ওসমানী হাসপাতালে ছুটে যান ডা. আমজাদ। যে হাসপাতালে তিনি দীর্ঘকাল কাজ করেছেন, সেখানেই পড়ে আছে ছেলের লাশ। মর্গের সামনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। ছেলেকে হারিয়ে হতবিহ্বল ডা. আমজাদকে এখন ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে পুত্রবধূ অন্তরাকে কিভাবে বাঁচানো যায়, সেই চেষ্টায়। হাসপাতালে ছুটে আসেন রুমেলের মা ফরিদা খানম ও তাঁর স্বজনরাও। তাঁদের আহাজারিতে হাসপাতাল এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। ঢাকার উদ্দেশে বিদায় দেওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ছেলের মৃত্যুর খবর মেনে নিতে পারছেন না মা। একই অবস্থা রুমেলের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের।

ডা. রুমেলের বোন ডা. ইন্নরী খান বলেন, ‘আমার ভাই স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকা যাওয়ার সময় দুই মেয়েকে আমাদের কাছে রেখে গেছেন। সকাল সাড়ে ৭টায় খবর পেলাম তাঁরা সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।’

ওসমানী হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অন্তরার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা