kalerkantho

বুধবার । ৮ বৈশাখ ১৪২৮। ২১ এপ্রিল ২০২১। ৮ রমজান ১৪৪২

ছিনতাইকারীর টানে মা ছিটকে নিচে, শিশু চলন্ত ট্রেনে

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ছিনতাইকারীর টানে মা ছিটকে নিচে, শিশু চলন্ত ট্রেনে

চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্ত নগর মহানগর গোধূলি এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভৈরব স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয় বুধবার রাত পৌনে ৯টায়। ছয় বছরের শিশুসন্তানকে নিয়ে ভৈরব স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠেন এক নারী। পাঁচ মিনিট পর ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যায়। সন্তান নিয়ে ভিড় ঠেলে তখনো ওই নারী কামরার ভেতরে পৌঁছতে পারেননি। তাঁর হাতে ছিল একটি ব্যাগ। প্ল্যাটফর্ম থেকে ১০০ গজ সামনে যেতেই ব্যাগটি ধরে টান দেয় এক ছিনতাইকারী। তাতে চলন্ত ট্রেন থেকে ওই নারী ছিটকে লাইনের পাশে পড়ে যান। মা ছিটকে পড়লেও শিশুটি ছিল ট্রেনের ভেতরেই।

মুমূর্ষু অবস্থায় সাবিনা ইয়াসমিন (৩৫) নামের ওই নারীকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায় স্থানীয় লোকজন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। গত রাতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর জ্ঞান ফেরেনি। আর ট্রেনে থেকে যাওয়া তাঁর শিশুসন্তান মেরাজকে প্রথমে বিমানবন্দর রেলওয়ে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়, পরে তাকে পাঠানো হয় ভৈরব রেলওয়ে পুলিশের কাছে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে মেরাজের খালা থানায় এসে তাকে নিয়ে যান।

এই ঘটনায় ভৈরব রেলওয়ে পুলিশ রাতেই বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটক করেছে; যারা স্টেশন এলাকায় নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানায়, রাতেই সাবিনা ইয়াসমিনের মাথার সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। তাঁর এখনো জ্ঞান ফেরেনি। রাতেই তাঁর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে আসে। সাবিনা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার চরনারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী মৃত মিলন মিয়া।

পুলিশ ও পরিবার সূত্র জানায়, সাবিনা ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। কর্মস্থলে ফেরার জন্য বুধবার চটগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্ত নগর মহানগর গোধূলি ট্রেনের যাত্রী হয়েছিলেন।

ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি ফেরদৌস আহমেদ বিশ্বাস বলেন, ‘এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত আমরা ১০ জনকে আটক করতে পেরেছি। তাদের জমানো (পেন্ডিং) মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে আদালতের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

যাত্রীদের অভিযোগ, ঢাকা-চট্টগ্রামসহ পূর্বাঞ্চলীয় রেলপথে ভৈরব জংশন স্টেশন এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চলন্ত ট্রেনে এবং ট্রেনে ওঠানামার সময় প্রতিদিন একাধিক যাত্রী নানাভাবে অপরাধীদের হামলার শিকার হয়।

মন্তব্য