kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

হাকালুকি থেকে মুখ ফেরাচ্ছে অতিথি পাখি

মাহফুজ শাকিল, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার)   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাকালুকি থেকে মুখ ফেরাচ্ছে অতিথি পাখি

হাকালুকি হাওরের আকাশে উড়ছে অতিথি পাখি। তবে সংখ্যা অনেক কম। ছবি : কালের কণ্ঠ

এশিয়ার বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি খ্যাত হাকালুকি হাওরে এ বছর গত কয়েক বছরের তুলনায় পাখি এসেছে কম। গত ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি দুই দিন হাকালুকি হাওরের ৪৩টি বিলে পাখিশুমারি শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ তথ্য জানিয়েছেন। আর এর আগে গতিবিধি পর্যবেক্ষণে হাওরে রিং পরানো ৩৩ প্রজাতির যে ৩৭০টি পাখির বার্ড রিংগিং (পাখির পায়ে রিং লাগানো) করা হয়েছিল এবার তার একটিরও সন্ধান মেলেনি।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ প্রতিষ্ঠান (আইইউসিএন), প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন (পিওজেএফ) এবং বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের (বিবিসি) সদস্যরা যৌথভাবে এ শুমারি চালান। শুমারির নেতৃত্ব দেন দেশবিখ্যাত পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বার্ড ক্লাবের সদস্য সারোয়ার আলম, অণু তারেক, সাকিব প্রমুখ।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার ২৮ হাজার হেক্টর এলাকাজুড়ে হাকালুকি হাওর। ২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে ৯ সদস্য দুটি দলে বিভক্ত হয়ে হাওরের ছোট-বড় বিভিন্ন বিলে শুমারির কাজ শুরু করেন। বিকেল পর্যন্ত চলে এই শুমারি। একইভাবে ২৪ ফেব্রুয়ারিও শুমারির কাজ পরিচালনা করা হয়।

ইনাম আল হক গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শুমারিকালে হাওরের ৪৩টি বিলে ৪৫ প্রজাতির মোট ২৪ হাজার ৫৫১টি জলচর পাখি দেখা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৪ প্রজাতির হাঁস। পিয়াং হাঁস মিলেছে দুই হাজার ১২টি। হাওর, খাল, বিলে মোট আট হাজার ৩৮৯টি পাখির দেখা মিলেছে। এর মধ্যে সাত হাজার ৯১৬টি শামুকভাঙা পাওয়া গেছে। হুমকির মুখে আছে এমন কিছু মংস্য রং ভুতিহাঁসের দেখা মিলেছে। আর দেখা মিলেছে ১০-১২টি কাস্তেচরা পাখি। এ ছাড়া হাওরে যে পাখির খোঁজ মিলত না সেই গ্লোসিআইবিস প্রজাতির পাখির দেখা মিলেছে এবার।’

এর আগে গত বছর শুমারিকালে হাওরে ৫৩ প্রজাতির ৪০ হাজার ১২৬টি জলচর পাখির দেখা মিলেছিল। এর মধ্যে ছিল মহাবিপন্ন বেয়ারের ভুতিহাঁস, সংকটাপন্ন পাতি ভুতিহাঁস এবং সংকটাপন্ন প্রায় মরচে রং ভুতিহাঁস, ফুলুরিহাঁস, কালা মাথা কাস্তেছড়া, উত্তুরে টিটি ও উদয়ীগয়ার।

হাকালুকির হাওয়া বন্যা, কালাপানি, রঞ্চি, দুধাই, গৌড়কুড়ি, চোকিয়া, উজান-তরুল, ফুট, হিংগাউজুড়ি, নাগাঁও, লরিবাঈ, তল্লারবিল, কাংলি, কুড়ি, চেনাউড়া, পিংলা, পরোটি, আগদের বিল, চেতলা, নামা-তরুল, নাগাঁও-ধুলিয়া, মাইছলা-ডাক, চন্দর, মালাম, ফুয়ালা, পলোভাঙা, হাওরখাল, কইর-কণা, মোয়াইজুড়ি, জল্লা, কুকুরডুবি, বালিজুড়ি, বালিকুড়ি, মাইছলা, গড়শিকোণা, চোলা, পদ্মা, কাটুয়া, তেকোনা, মেদা, বায়া, গজুয়া, হারামডিঙা, গোয়ালজুড় এই ৪৩টি বিলে পাখিশুমারি চলে।

হাকালুকি হাওরটি কোনো উন্নয়ন প্রকল্পেও অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় হাওরে বিষটোপ ও ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করায় দিন দিন অতিথি পাখির আগমন কমছে। মৎস্য অভয়াশ্রম থাকলেও সেই অভয়াশ্রমগুলোয়ও শিকারিরা হানা দেয়। শীতকালে এসব বিলকে ঘিরে অতিথি পাখির বিচরণে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো হাওরাঞ্চল। হাওরের ইকোসিস্টেম রক্ষায় অবিলম্বে হাওরকে উন্নয়ন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি হাওরতীরের মানুষের। ১৯৯৯ সালে সরকার এ হাওরকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া বাই সিএ) ঘোষণা করে।

গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়ে ইনাম আল হক বলেন, ‘আগের বছরগুলোয়ও আমরা হাকালুকিতে ফেব্রুয়ারির শুরুতে পাখিশুমারি করেছি। এবার শুমারি করতে দেরি হয়েছে। এ ছাড়া বেশির ভাগ বিলে পানি কমে গেছে। যেসব পাখি গভীর পানিতে থাকে, সেগুলোকে এবার দেখা যায়নি। শুধু কম পানিতে থাকা পাখির দেখা মিলেছে।

দেরিতে শুমারি হওয়ায় পাখির সংখ্যা কম হয়েছে।’

মন্তব্য