kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

চলন্ত ট্রেনে ঢিল ছিনতাই, বন্ধের চেষ্টা যাচ্ছেতাই

ঢাকা-ভৈরব আখাউড়া রেলপথ

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




চলন্ত ট্রেনে ঢিল ছিনতাই, বন্ধের চেষ্টা যাচ্ছেতাই

ট্রেনের গতি ৭০ কিলোমিটারের মতো। কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস নামের ট্রেনটি নরসিংদীর মেথিকান্দা স্টেশনে ঢোকার মুহূর্তে নারী যাত্রীর হাতব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে ব্যাগ নিয়ে আবার ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরই মধ্যে ব্যাগ থেকে গায়েব ১০ হাজার টাকা। গত ৯ নভেম্বরের এই ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে ফ্যান গ্রুপে পোস্ট দেন সানা উল্লাহ নামের এক যাত্রী।

গত বছরের ৬ মার্চ ট্রেনে চড়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাচ্ছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম। রাত ১০টার দিকে ট্রেনটি গাজীপুরের টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশনে থামলে জানালার পাশে থাকা রাকিবুলের মোবাইল ফোন ছিনতাই হয়। ট্রেন থেকে নেমে পিছু নিয়ে ছিনতাইকারীকে ধরেও ফেলেন রাকিবুল। এরই মধ্যে তাঁর বুকে ছুরি চালানো হলে তিনি প্রাণ হারান।

ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট রেলপথের আখাউড়া থেকে ঢাকা পর্যন্ত এলাকায় এমন ছিনতাইয়ের ঘটনা নিত্যদিনের। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব এলাকায় ব্যাগ নেওয়ার জন্য ছিনতাইকারীদের হ্যাঁচকা টানে মহানগর গোধূলি ট্রেন থেকে ছিটকে পড়েন সাবিনা ইয়াসমিন নামের এক নারী যাত্রী। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের চরনারায়ণপুর গ্রামের ওই নারী আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

একাধিক ভুক্তভোগী ও ট্রেনযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উল্লিখিত রেলপথের অন্তত আট-দশটি স্থানে ট্রেনে নিয়মিত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া ট্রেনে ঢিল ছোড়ার ঘটনাও ঘটছে অহরহ। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। মাঝেমধ্যে কিছু ছিনতাইকারী ধরা পড়লেও ছিনতাই পরিস্থিতির লাগাম টানতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পাথর ছোড়ার ঘটনায় সচেতনতা সৃষ্টি করা হলেও সেটা থামছে না।

কথা হয় ঢাকায় বেসরকারি চাকরি করা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার রাধানগরের পলাশ সাহার সঙ্গে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, “গত ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে বাড়ি আসছিলাম। ট্রেনটি গাজীপুরের পুবাইল স্টেশন ছাড়ার পর আমাদের ‘ঞ’ বগিতে বাইরে থেকে ঢিল ছোড়া হলে এক নারীর ওপর এসে পড়ে। পাশে ‘ঝ’ বগিতেও একাধিক ঢিল ছোড়া হয়।”

আখাউড়া বড়বাজারের শামীম শিশির বলেন, ‘করোনার কারণে ট্রেন বন্ধ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। ট্রেনটি ভৈরব স্টেশনে ঢোকার মুহূর্তে এক নারী যাত্রীর ব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এই পথে চলতে গিয়ে আমি নিজেও বেশ কয়েকবার ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছি। টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশনে যাওয়ার পর আমিসহ একাধিক যাত্রীর চোখে মরিচের গুঁড়াও ছিটিয়ে দেওয়া হয়।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটি চক্র এসব ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে নারীদের একটি চক্রও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটাচ্ছে। পুরুষ ছিনতাইকারীরা ট্রেনের ছাদ থেকে বিশেষ কায়দায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায়। নারী ছিনতাইকারীরা কৌশলে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায়। ছিনতাইকারীদের মূল টার্গেট থাকে মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ও টাকা।

আখাউড়া রেলওয়ে থানা গত বছরের অক্টোবর মাসে তিন নারী ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে। চট্টগ্রামগামী আন্ত নগর প্রভাতী ট্রেনে চলন্ত অবস্থায় ওই নারীরা ছিনতাই করে পালানোর সময় তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

২৯ অক্টোবর কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করার পর চট্টগ্রাম-ঢাকা পথের সোনার বাংলা ট্রেনে পাথর ছোড়া হলে ‘জ’ বগির জানালার কাচ ভেঙে যায়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। ট্রেনটি আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে আসার পর জানালায় কাচের বদলে হার্ডবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়।

ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি ফেরদৌস আহমেদ বিশ্বাস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভৈরব থেকে টঙ্গী পর্যন্ত এলাকায় আগের তুলনায় ছিনতাই অনেক কমেছে। আমি যোগদানের পর এক মাসেই ২৭ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করি। বুধবার রাতের ঘটনায় ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎপরতা আরো বাড়ানো হয়েছে।’

 

মন্তব্য