kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

দুই হাজার কোটি টাকা পাচার

বরকত ও রুবেলের ৫৭০৬ বিঘা সম্পত্তি জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বরকত ও রুবেলের ৫৭০৬ বিঘা সম্পত্তি জব্দ

দুই হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের মামলায় ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তাঁর ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের পাঁচ হাজার ৭০৬ বিঘা সম্পত্তি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে তাঁদের ১৮৮ ব্যাংক হিসাবে থাকা পৌনে ১০ কোটি টাকা এবং বাস,  ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কারসহ ৫৫টি গাড়ি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে মামলার তদন্তের স্বার্থে সিআইডি তাঁদের সম্পত্তি, ব্যাংক হিসাব ও গাড়ি জব্দের জন্য আদালতে আবেদন করেন। পরে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

এদিকে গত ৮ অক্টোবর এ মামলায় বরকত ও তাঁর ভাই রুবেলসহ পাঁচজনের ৮৮টি ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেন আদালত। ব্যাংক হিসাব জব্দ হওয়া অন্য তিনজন হলেন বরকতের স্ত্রী আফরোজ আক্তার পারভীন, রুবেলের স্ত্রী সোহেলী ইমরোজ পুনম ও আব্দুস সাদেক মুকুল।

গত বছরের ২৬ জুন ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তাঁর ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলকে প্রধান আসামি করে অবৈধ উপায়ে দুই হাজার কোটি টাকা আয় ও পাচারের অভিযোগে ঢাকার কাফরুল থানায় মামলাটি করে সিআইডি। ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন সংশোধনী ২০১৫’র ৪(২) ধারায় এ মামলা করা হয়।

এ মামলায় আদালতের মাধ্যমে রুবেল ও বরকতকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা তাঁদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অনেকের নাম প্রকাশ করেন। রুবেল-বরকতের স্বীকারোক্তি ও তথ্যানুযায়ী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহামুদ শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে এ মামলায় শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খন্দকার লেভী ও জেলা শ্রমিক লীগের অর্থ সম্পাদক বেল্লাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ফরিদপুরের এলজিইডি, বিআরটিএ, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি বিভাগের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন সাজ্জাদ ও ইমতিয়াজ। এ ছাড়া মাদক ব্যবসা, ভূমি দখল করে অবৈধ সম্পদ করেছেন তাঁরা। এসি, নন-এসিসহ ২৩টি বাস, ড্রাম ট্রাক, বোল্ডার, পাজেরো গাড়ির মালিক হয়েছেন। টাকার উল্লেখযোগ্য অংশ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেন তাঁরা। প্রথম জীবনে এই দুই ভাই রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে এক বিএনপি নেতার ফাই-ফরমাশ খাটতেন। তখন তাঁদের সম্পদ বলতে তেমন কিছুই ছিল না।

এজাহারে আরো বলা হয়, তদন্তে জানা গেছে এই দুই ভাই অন্তত দুই হাজার কোটি টাকার বেশি সম্পদ অবৈধ উপায়ে উপার্জন করেছেন। গত বছরের ১৬ মে রাতে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটে। সুবল সাহার বাড়ি শহরের গোয়ালচামট মহল্লার মোল্লাবাড়ি সড়কে। এ ঘটনায় গত বছরের ১৮ মে সুবল সাহা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। সুবল সাহার বাড়িতে হামলার মামলার আসামি হিসেবে গত বছরের ৭ জুন রাতে শহরের বদরপুরসহ বিভিন্ন মহল্লায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ সাজ্জাদ হোসেন, তাঁর ভাই ইমতিয়াজ হাসানসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে।

মন্তব্য