kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন

ভোট বাতিল চেয়ে মামলা বিএনপি প্রার্থী শাহাদাতের

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভোট বাতিল চেয়ে মামলা বিএনপি প্রার্থী শাহাদাতের

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন বাতিল এবং নতুন নির্বাচন চেয়ে নির্বাচনী ট্রাইবুন্যালে মামলা করেছেন বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী (পরাজিত) ডা. শাহাদাত হোসেন। গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের নির্বাচনী ট্রাইবুন্যালের বিচারক যুগ্ম জেলা জজ খায়রুল আমিনের আদালতে মামলাটি করা হয়।

মামলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী (বিজয়ী) রেজাউল করিম চৌধুরীকে প্রধান বিবাদী করা হয়েছে। এ ছাড়া বিবাদী করা হয়েছে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার, নির্বাচন কমিশনের সচিব ও প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা এবং পরাজিত পাঁচ মেয়র পদপ্রার্থী আবুল মনজুর, এম এ মতিন, খোকন চৌধুরী, মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ ও মো. জান্নাতুল ইসলামকে।

গত ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর ২৯ দিনের মাথায় বিএনপির প্রার্থী এই মামলা করলেন।

মামলা করার বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেছেন বাদী ও ও মহানগর বিএনপির সভাপতি বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। আর্জি বিষয়ে তিনি বলেন, ২০০৯ সালের সিটি করপোরেশন আইন, ২০১০ সালের নির্বাচনী বিধিমালার ৫৩ বিধির ২ নম্বর উপবিধিতে তিনি মামলাটি করেছেন। আর্জিতে  নির্বাচনের ফল বাতিল ও নতুন নির্বাচন চাওয়া হয়েছে। আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছেন।

ডা. শাহাদাত আরো বলেন, ‘পাঁচ শতাংশ ভোটকে ২২ শতাংশ দেখানো হয়েছে। এটা ভোট ডাকাতি। নির্বাচন বাতিল করে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ কমিশনের অধীনে নির্বাচন চাই।’ তিনি বলেন, ‘ভোটের দিন দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে চার থেকে ছয় শতাংশ। আর সন্ধ্যায় ভোট দেখানো হলো প্রায় ২২ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের কাছে আমরা প্রতি ঘণ্টার ভোটের তথ্য জানতে চেয়েছিলাম। সাত দিন সময় দেওয়ার পরও কমিশন সেই তথ্য দিতে পারেনি। আবার নির্বাচনে চার হাজার ৮৮৫টি ইভিএম ব্যবহৃত হয়েছে। সেখানে মাত্র ১০টি বুথে ইভিএমের প্রিন্টেড কপি দেওয়া হয়েছে। বাকি ইভিএমগুলোর প্রিন্টেড কপি দিতে পারেনি কমিশন।’

বাদীর আইনজীবী মোহাম্মদ দেলোয়ার বলেন, ‘প্রহসনের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের আচরণ ছিল অসহায় প্রাণীর মতো। মাস্তান বাহিনী দিয়ে কেন্দ্র দখল করা হয়েছে। এই নির্বাচনে মেয়র পদে ফল বাতিল চেয়েছি আমরা।’

মামলার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান এবং চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবুল হাশেম বক্কর।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চসিক নির্বাচনে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী শাহাদাত হোসেনকে প্রায় তিন লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগদলীয় প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। এই নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন। ভোট দিয়েছেন চার লাখ ৩৬ হাজার ৫৪৩ জন। ভোট প্রয়োগের হার ২১.৫২ শতাংশ।

মন্তব্য