kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

গায়ের জামা দেখে কঙ্কাল শনাক্ত স্ত্রীর

টাকার লেনদেনের দ্বন্দ্বে নুরুল ইসলামকে হত্যা!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টাকার লেনদেনের দ্বন্দ্বে নুরুল ইসলামকে হত্যা!

ব্যবসার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে রাজধানীর রূপনগরে নিখোঁজ হার্ডওয়্যারের ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম গাজী (৫০) হত্যার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। গায়ের জামা দেখে স্ত্রী নুরুলের কঙ্কাল শনাক্ত করার পর অপহরণে অভিযুক্ত মামলার আরেক আসামি শাকিলকে (২৫) নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর গতকাল বুধবার বিকেলে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে অপহরণের দায়ে গ্রেপ্তার রয়েল (৩০), কালু (২২) ও সোহেলকে আবার রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে রূপনগর থানা পুলিশ।

জানা গেছে, শাকিলের দোকান থেকে ডিজেল (জ্বালানি তেল) আনার জন্য অগ্রিম টাকা দিয়েছিলেন নুরুল ইসলাম। এর মধ্যে পাঁচ হাজার টাকার তেল শাকিল দিচ্ছিলেন না। এ নিয়ে প্রায়ই দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও গালাগালের ঘটনা ঘটত। এক পর্যায়ে নুরুলের স্ত্রীর সঙ্গেও খারাপ আচরণ করে শাকিল। এ ছাড়া আসামি রয়েল নুরুলের দোকানে কাজ করার সুবাদে প্রায়ই টাকার লেনদেন নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করতেন। নানা ধরনের হুমকিও দিতেন রয়েল। একসময় রয়েলকে দোকান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এর জেরে মামলার অন্য দুই আসামিকে সঙ্গে নিয়ে শাকিল ও রয়েল নুরুল ইসলামকে অপহরণের পর হত্যা করে।

নিহতের স্ত্রী রহিমা বেগম ও ছেলে ফরহাদ (২৩) কালের কণ্ঠকে জানান, গত ১ নভেম্বর দুপুরে সোহেল নুরুলকে মিরপুর ১২ ইস্টার্ন হাউজিং কাজীবাড়ীর মোড়ের দোকান থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাঁদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তিন দিন পর সোহেলকে ফোনে পেয়ে নুরুলের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সোহেল বগুড়ায় আছেন জানিয়ে বলেন, তিনি (নুরুল) রয়েলের কাছে আছেন। এরপর একেকবার একেক কথা বলে তিনি ধরা দিতে চাচ্ছিলেন না। পরে সোহেল এলাকায় এলে ধরিয়ে দিলেও পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। এরপর কালু বলে নুরুল ডিবি পুলিশের কাছে আছে। এক লাখ টাকা দিলে ছাড়িয়ে আনা যাবে। পরে ৪০ হাজার টাকা দিলেও নুরুল ইসলামকে এনে দিতে পারেনি কালু। এ ছাড়া নুরুল ইসলাম নিখোঁজের পর থেকে শাকিল বেড়িবাঁধ এলাকার দোকান ছেড়ে দিয়ে গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে চলে যান।

ঘটনার তিন মাস পর গত শনিবার বিকেলে পল্লবীর বেড়িবাঁধসংলগ্ন সাদ ফিলিং স্টেশনের পাশ থেকে একটি কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। কঙ্কালটি নিখোঁজ নুরুল ইসলামের হতে পারে এমন সন্দেহ জাগলে তাঁর স্ত্রী রহিমা বেগমকে (৪০) খবর দেওয়া হয়। পরের দিন থানায় কঙ্কালের সঙ্গে লেপ্টে থাকা কালচে শার্ট দেখে তিনি কঙ্কালটি তাঁর স্বামীর বলে শনাক্ত করেন।

রূপনগর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ টেস্টের জন্য নিয়েছে। সেটা নুরুল ইসলাম গাজীর স্ত্রী-সন্তাদের সঙ্গে মেলাতে হবে। দুই সপ্তাহের ভেতর হয়ে যাবে। এরপর নিশ্চিত হওয়া যাবে সেটা নুরুল ইসলাম গাজীর লাশ কি না। এরপর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

মন্তব্য