kalerkantho

সোমবার । ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ৮ মার্চ ২০২১। ২৩ রজব ১৪৪২

চাবি খোয়ায় ট্রেন ছাড়ল চার ঘণ্টা পর

সিরাজগঞ্জ ও ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাবি খোয়ায় ট্রেন ছাড়ল চার ঘণ্টা পর

ঢাকাগামী আন্ত নগর ট্রেন সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস সাধারণত ছাড়ে সকাল ৬টায়। তবে গতকাল ট্রেনটি সিরাজগঞ্জ থেকে যাত্রা শুরু করে নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার ঘণ্টা পর। বিলম্বের কারণ নিয়ে শুরুতে দুই ধরনের বক্তব্য প্রচার করা হয়। দেরির কারণ হিসেবে ইঞ্জিন বিকলের কথা যেমন বলা হয়, তেমনি ট্রেনের চাবি হারানোর কথাও বলা হয়। কারণ যা-ই হোক, তিন দিনের ছুটি শেষে অফিসগামী যাত্রীরা পড়ে চরম ভোগান্তিতে। দাপ্তরিক কাজের জন্য ঢাকাগামীরাও প্রকাশ করেছে ক্ষোভের কথা।

রেল কর্মকর্তারা বলছেন, নিরাপত্তা প্রহরী থাকার পরও গত রবিবার রাতে সিরাজগঞ্জ বাজার স্টেশন থেকে ট্রেনটির ইঞ্জিনরুম থেকে চাবি (রিভার্সার হ্যান্ডল) চুরির ঘটনা ঘটে। গতকাল সকালে বিষয়টি জানামাত্রই ঈশ্বরদী থেকে চাবি আনার ব্যবস্থা করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ট্রেনটি ছাড়তে দেরি হয়েছে। ঘটনা তদন্তে পাকশী রেলওয়ের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা মো. আব্দুস সোবহানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসের চালক রবিউল ইসলাম দাবি করেন, গত রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ট্রেনটি ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জ বাজার স্টেশনে পৌঁছায়। এরপর ট্রেনটির দরজা-জানালা বন্ধ করে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা নিজ নিজ বাসায় চলে যান। গতকাল সকালে ট্রেনের ইঞ্জিন চালু করতে গিয়ে দেখা যায় রিভার্সার হ্যান্ডল নেই। এরপর ঈশ্বরদী থেকে দ্রুত রিভার্সার হ্যান্ডল পাঠাতে বলা হয়।

সিরাজগঞ্জ বাজার রেলস্টেশনের বুকিং সহকারী জিয়াউর রহমানের ভাষ্য, প্রতিদিন রাতে এই স্টেশনেই থাকে সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি। সকাল ৬টায় ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। কিন্তু সোমবার সকালে চালক ইঞ্জিন চালু করতে গিয়ে দেখেন সেটি বিকল হয়ে পড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলস্টেশন থেকে মালবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন আনা হয়। সেটি দিয়ে সকাল ৯টার দিকে ট্রেনটিকে জামতৈল স্টেশনে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনে করে বিকল্প চাবি আনা হয়। সেটি দিয়ে সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

তবে সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, চাবি কিভাবে চুরি হলো, তা বোধগম্য নয়। নিয়ম অনুযায়ী ইঞ্জিন বন্ধ করার পর চালকের সঙ্গে চাবি নিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তিনি তা করেননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

ট্রেনের যাত্রী কিরণ খন্দকার বলেন, ‘আমার আজ (সোমবার) হাইকোর্টে জরুরি কাজ ছিল। ভেবেছিলাম ভোরে ট্রেনে রওনা দিয়ে সকাল ১১টার মধ্যে কোর্টে পৌঁছতে পারব; কিন্তু আর তা হলো না।’

আরেক যাত্রী আব্দুল হাকিম বলেন, ‘আমি মন্ত্রণালয়ে চাকার করি। তিন দিনের ছুটিতে এসেছিলাম। সকালে গিয়ে অফিস করব; কিন্তু সাড়ে তিন ঘণ্টায়ও ট্রেন ছাড়েনি। এমন দুর্ভোগে পড়ব জানলে গত রাতেই (রবিবার) বাসে করে চলে যেতাম।’

এদিকে ঘটনা তদন্তে গতকাল দুপুরে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ভারপ্রাপ্ত) শাওন কবির। তিনি জানিয়েছেন, চাবি খোয়া যাওয়ার ঘটনায় সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা (পাকশী) মো. আব্দুস সোবহানকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জিআরপি থানার ওসি আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘চাবি চুরি যাওয়ার কোনো তথ্য আমাদের জানানো হয়নি। আমাদেরকে বলা হয়েছিল, ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। পরে জেনেছি, চাবি চুরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ বা জিডি করা হয়নি।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা