kalerkantho

সোমবার । ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ৮ মার্চ ২০২১। ২৩ রজব ১৪৪২

মিয়ানমারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ইইউয়ের

‘বর্তমান বিশ্বে অভ্যুত্থানের স্থান নেই’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘বর্তমান বিশ্বে অভ্যুত্থানের স্থান নেই’

মিয়ানমারে জান্তা সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে প্রস্তুত রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গতকাল সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে ইইউয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই হুঁশিয়ারি দেন। এদিকে মিয়ানমারের রাজপথ আপাতত শান্ত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। গণতন্ত্রের দাবিতে রাজপথে মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এর মধ্যে গতকাল ধর্মঘট পালনের পাশাপাশি দেশজুড়ে সবচেয়ে বেশি মানুষের বিক্ষোভ হয়েছে। যদিও বিক্ষোভ দমাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়েছে জান্তা সরকার।

গতকাল ব্রাসেলসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে বসেন ইইউভুক্ত ২৭ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনও ছিলেন। বৈঠকের শুরুতে একটি যৌথ বিবৃতি দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। তাতে মিয়ানমারসহ বেশ কয়েকটি ইস্যু ছিল। মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থান সম্পর্কে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই অভ্যুত্থানে যারা জড়িত কিংবা যাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ আছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’ বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘আমরা জরুরি অবস্থা তুলে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সামরিক বাহিনীকে আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে আহ্বান জানাচ্ছি নির্বাচিত সরকারের হাতে যেন অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়।’

গত নভেম্বরের নির্বাচন নিয়ে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর টানাপড়েন চলছিল। এর মধ্যে ১ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। গ্রেপ্তার করা হয় স্টেট কাউন্সেলর সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ ‘ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির’ (এনএলডি) শীর্ষ নেতাদের। জারি করা হয় এক বছরের জরুরি অবস্থা। সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এক বছর পর নতুন নির্বাচন দেওয়া হবে। তবে সাধারণ মানুষ এই প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করছেন না। তাঁরা অবিলম্বে গণতন্ত্র পুনর্বহালের দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের দমাতে ধরপাকড় কিংবা ইন্টারনেট বন্ধ করা থেকে শুরু করে গুলি চালানোর মতো কঠোর পদক্ষেপও নিচ্ছে জান্তা সরকার। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এ পর্যন্ত চার বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। গতকাল জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের বার্ষিক ভাষণে তিনি বলেন, ‘বর্তমান এ বিশ্বে সামরিক অভ্যুত্থানের কোনো স্থান নেই। আজ মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর প্রতি আমি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন না চালায়। বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বানও জানাচ্ছি আমি।’ ঘরে-বাইরে নিন্দা ও সমালোচনা অব্যাহত থাকলেও আন্দোলন দমাতে আরো কঠোর হওয়ার হুমকি দিয়েছে জান্তা সরকার। গতকাল সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিক্ষোভকারীরা এখন অল্পবয়সী ও আবেগপ্রবণ তরুণদের উসকানি দিচ্ছে। এতে তরুণরা এমন পথে হাঁটছে, যেখানে তাদের মৃত্যুও হতে পারে।’

এর আগে তরুণদের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া জনপ্রিয় মুখ মং সৌংখা। ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘আমি জেড জেনারেশনকে (যাদের বয়স ১৫ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে) এই আন্দোলনে দেখতে চাচ্ছি। চলো, আমরা একত্রিত হই।’

শনিবার মান্দালয় শহরে পুলিশের গুলিতে দুজনের মৃত্যু হলেও দমে যাননি বিক্ষোভকারীরা। গতকাল শহরটিতে কয়েক লাখ মানুষ রাজপথে বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভ হয়েছে রাজধানী নেপিডো এবং দেশটির সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুনেও। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা