kalerkantho

বুধবার । ৮ বৈশাখ ১৪২৮। ২১ এপ্রিল ২০২১। ৮ রমজান ১৪৪২

রিজার্ভ চুরির টাকা ‘উদ্ধার কৌশলে’

আটকে চার্জশিট

এস এম আজাদ   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রিজার্ভ চুরির টাকা ‘উদ্ধার কৌশলে’

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ বা নিউ ইয়র্ক ফেডে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা তদন্তের শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দেশের ইতিহাসে বড় এই ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (আন্তর্দেশীয় অপরাধ) মামলাটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা, ম্যানিলাভিত্তিক রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনসহ (আরসিবিসি) ফিলিপাইনের চার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও জুয়াড়ি, শ্রীলঙ্কার বেসরকারি সংস্থা শালিকা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা ও জুয়াড়ি, চীন ও জাপানের জুয়াড়ি মিলিয়ে প্রায় অর্ধশত ব্যক্তির জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে। সাইবার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে রিজার্ভ চুরির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, চুরি হওয়া রিজার্ভের টাকা সরানো ও আত্মসাৎ এবং এই অপরাধে দায়িত্বে অবহেলা—এই তিন ধরনের অপরাধে যুক্ত তাঁরা। এর মধ্যে ফিলিপাইনের আছেন ২৫ ব্যক্তি। তবে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না মেলায় চীন, জাপান ও শ্রীলঙ্কার নাগরিকদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য মেলেনি। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে-বিদেশে প্রায় পাঁচ বছর ধরে তদন্তে সিআইডি এই অপরাধের সঙ্গে কারা কিভাবে জড়িত, কিভাবে অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে, তা বের করা হয়েছে। তবে চুরির পর ক্যাসিনো ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরানো টাকা উদ্ধার প্রক্রিয়ায় তদন্ত কিছুটা পিছিয়ে আছে। এখন আসামিদের বিচারের মুখোমুখি করে ছয় কোটি ৬৪ লাখ ডলার (৬৬১ কোটি টাকা) উদ্ধারের কৌশল খোঁজা হচ্ছে। এ কারণে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলে দেরি হচ্ছে। পাশাপাশি টাকা উদ্ধারে নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের আদালতে একটি মামলা নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষায় আছে।

পাঁচ বছর আগে ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে গচ্ছিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির অপচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। বিভ্রাটের কারণে রাউটিং ব্যাংকের সন্দেহ হলে দুর্বৃত্তরা শ্রীলঙ্কামুখী দুই কোটি ডলার হাতিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়। বাকি আট কোটি ১০ লাখ ডলার আরসিবিসি হয়ে প্রবেশ করে ফিলিপাইনের বিভিন্ন ক্যাসিনোয়। চুরি যাওয়া অর্থের মধ্যে এক কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার ফেরত আনা গেছে। বাকি ছয় কোটি ৬৪ লাখ ডলারের হদিস নেই। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে সিআইডি মামলার তদন্ত করে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (ইকোনমিক ক্রাইম) মোস্তফা কামাল কালের কণ্ঠকে বলেন, এরই মধ্যে তদন্তের কাজ শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ছয় দেশের অন্তত ৪০ ব্যক্তিকে শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে ২৫ জন ফিলিপাইনের। এঁদের তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করে চার্জশিট দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

সূত্র জানায়, সিআইডি আলামত ও ফরেনসিক পরীক্ষায় পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, চীন, জাপান ও ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় যৌথ তদন্ত করে। আন্তর্দেশীয় এই তদন্তপ্রক্রিয়ায় সিআইডির তদন্তদল কয়েকবার ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কা সফর করে। এতে দুই ডজন বিদেশির সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য মেলে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আট কর্মকর্তার সম্পৃক্ততাও খুঁজে পান তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এসব কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

সূত্র মতে, সন্দেহভাজন বিদেশি আসামিদের ব্যাপারে তথ্য চাইলেও তিন দেশ থেকে পর্যাপ্ত তথ্য মেলেনি। তবে ফিলিপাইন ও ভারত তাদের দেশের অপরাধীদের তথ্য পাঠিয়েছে। ফিলিপাইন পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে তদন্ত করে এগিয়েছে সিআইডি। শ্রীলঙ্কা ও জাপান ইন্টারপোলের মাধ্যমে আংশিক তথ্য দিয়েছে। চীন তাদের দেশের অপরাধীদের ব্যাপারে কোনো তথ্য দেয়নি।

সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, তদন্তে যেভাবে আসামিদের সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে তাতে অপরাধ প্রমাণ করা যাবে। ফলে পর্যাপ্ত তথ্য না পেলেও জড়িতদের ব্যাপারে চার্জশিট দেওয়া যাবে।

আরসিবিসি হয়ে বিভিন্ন ক্যাসিনো, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার তথ্য মিলেছে ফিলিপাইনের তদন্তেও। আরসিবিসির ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফিলিপাইনের আদালতে সে দেশের অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং কাউন্সিল একটি মামলা করে। ওই মামলায় আরসিবিসির সাবেক কর্মকর্তা মায়া সান্তোস দেগিতোকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেন দেশটির একটি আদালত।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা