kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

মাদকবাহী ট্রাক পিষে মারল র‌্যাব সদস্যকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাদকবাহী ট্রাক পিষে মারল র‌্যাব সদস্যকে

প্রতীকী ছবি

গাজীপুরের টঙ্গী থেকে ট্রাকে গাঁজার একটি চালান মাওনা হয়ে ময়মনসিংহে যাচ্ছে—এমন খবর পেয়ে র‌্যাব পোড়াবাড়ী এলাকায় ব্যারিকেড বসায়। ভোর সাড়ে ৬টার দিকে সন্দেহভাজন ট্রাকটি দেখার পর থামার সংকেত দিলে সেটা দ্রুত চলে যেতে থাকে। র‌্যাবের দুজন সদস্য একটি মোটরসাইকেল নিয়ে ট্রাকটিকে ধাওয়া করেন। বাঘেরবাজার এলাকায় ট্রাক থেকে বস্তা ফেলে তাঁদের গতিরোধের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু র‌্যাব সদস্য ইদ্রিস মোল্লা ট্রাকটি ধাওয়া করে যেতে থাকেন। ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার সিডস্টোর বাজারের কাছে ট্রাকটির পথ আগলে দাঁড়ান তিনি। কিন্তু চালক ট্রাকটি চালিয়ে দেন ইদ্রিসের ওপর দিয়ে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি।

গতকাল রবিবার এ ঘটনা ঘটে। পরে ভালুকা থেকে ট্রাকটি জব্দ করা হলেও ট্রাকচালক ও তাঁর সহকারী পালিয়ে গেছেন। র‌্যাবের ধারণা, ট্রাকে মাদক কারবারিরা ছিল। তারাও গাঢাকা দিয়েছে।

নিহত ইদ্রিস মোল্লা (২৮) র‌্যাব-১-এর গাজীপুর ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। তিনি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কেল্লাই গ্রামের ইমান আলী মোল্লার ছেলে।

র‌্যাব-১ সূত্র জানায়, টঙ্গী থেকে ট্রাকটি ৩০ কেজি গাঁজা নিয়ে ময়মনসিংহে যাচ্ছিল। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে র‌্যাব সদস্যরা গাজীপুর নগরের পোড়াবাড়ী এলাকায় র‌্যাব ক্যাম্পের সামনে ব্যারিকেড বসান। ট্রাক সংকেত উপেক্ষা করে চলে যেতে থাকলে মোটরসাইকেল নিয়ে সেটাকে ধাওয়া করেন র‌্যাবের জ্যেষ্ঠ উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) গোলাম মোস্তফা ও কনস্টেবল ইদ্রিস মোল্লা। গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘেরবাজার এলাকায় পৌঁছলে ট্রাক থেকে এক বস্তা গাঁজা ফেলে তাঁদের দুজনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ডিএডি মোস্তফা মোটরসাইকেল থেকে নেমে গাঁজা উদ্ধারের জন্য থেকে যান। ইদ্রিস মোল্লা ট্রাকটি ধাওয়া করতে থাকেন। একটি মাইক্রোবাসে করে র‌্যাবের একটি দলও পেছন পেছন যায়। ভালুকার সিডস্টোর বাজারের কাছে মোটরসাইকেল নিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে ট্রাকটিকে আটকানোর চেষ্টা করেন ইদ্রিস। ট্রাকচালক মোটরসাইকেলসহ ইদ্রিস মোল্লাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যান। মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান ইদ্রিস।

র‌্যাব-১-এর গাজীপুর ক্যাম্পের অধিনায়ক কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় ভালুকা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভালুকা থানার ওসি মো. মাইনুদ্দিন  বলেন, মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

ইদ্রিস মোল্লা ২০১১ সালের ২২ ডিসেম্বর পুলিশের কনস্টেবল পদে যোগ দেন। ২০১৯ সালের ৩০ মে প্রেষণে র‌্যাবে যোগদান করেন তিনি। গত ১৪ জুলাই গাজীপুর ক্যাম্পে যোগ দেন ইদ্রিস।

ইদ্রিস পোড়াবাড়ীতে র‌্যাব ক্যাম্পের পাশে স্ত্রী শারমিন আক্তারকে নিয়ে বাস করতেন। তাঁর মৃত্যুর খবর শুনে শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবারে। স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে মূর্ছা যান স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্রী শারমিন। বাবা ইমান মোল্লা, মা হাছনা বেগম ও শারমিনের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। শারমিনের ভাবি পারুল বেগম সাংবাদিকদের জানান, এক ভাই এক বোনের মধ্যে ইদ্রিস ছিলেন ছোট। ইমান মোল্লা সামান্য কৃষক। এক বছর আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। দুই বছর আগে শারমিনকে বিয়ে করেন ইদ্রিস। তাঁর আয়েই চলত পুরো সংসার।



সাতদিনের সেরা