kalerkantho

বুধবার । ৮ বৈশাখ ১৪২৮। ২১ এপ্রিল ২০২১। ৮ রমজান ১৪৪২

বিএনপির সমাবেশে সংঘর্ষ লাঠিপেটা

থানায় পুলিশের দুই মামলা ২৯ নেতাকর্মী রিমান্ডে

রমনা ও শাহবাগ থানায় করা মামলায় ৭২ আসামির মধ্যে ২৯ জনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



থানায় পুলিশের দুই মামলা ২৯ নেতাকর্মী রিমান্ডে

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘বীর-উত্তম’ খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশ ঘিরে পুলিশের লাঠিপেটা এবং ধাওয়াধাওয়ি ও সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে। বিএনপির অর্ধশত নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ঢাকা মহানগরের দুই থানায় দুটি মামলা করেছে পুলিশ।

গত শনিবার রাতে দায়ের হওয়া এই দুই মামলায় বিনা উসকানিতে সরকারি কাজে বাধাদান, অবৈধভাবে সমবেত হয়ে হামলা ও হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। রমনা থানায় করা মামলায় ৩২ আসামির মধ্যে ১৩ জন এবং শাহবাগ থানায় করা মামলায় ৪২ আসামির মধ্যে ১৬ জনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত গতকাল রবিবার দুই মামলায় ২৯ আসামিকে দুই দিন করে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন।

মামলাগুলোতে হামলার নির্দেশদাতা উল্লেখ করে পলাতক আসামি হিসেবে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের প্রথম সারির বেশ কিছু নেতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় বাঁশের আটটি লাঠি ও কিছু ইটের টুকরা জব্দ করা আলামত হিসেবে দেখানো হয়েছে। মামলায় দাবি করা হয়েছে, বিএনপির নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছেন।

শাহবাগ থানার ওসি মামুন অর রশিদ বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে হামলায় জড়িত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাঁদের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।’

রমনা থানার এসআই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধাদান ও হামলা চালানোর অভিযোগে একটি মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, মৎস্য ভবন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলা চালান। গ্রেপ্তারকৃত ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে তারা জড়ো হয়ে হামলা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। এই মামলায় পলাতক উল্লেখ করা আসামিরা হলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভুইয়া জুয়েল, যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফকরুল ইসলাম রবিন, সেগুনবাগিচা ইউনিটের সভাপতি হযরত আলী, ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক তানজিল হাসান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি রুবেল, রমনা থানা যুবদলের সভাপতি সাইফুজ্জামান শামীম, সম্পাদক দিদারুল ইসলাম বাবু, পল্টন থানার যুবদল নেতা মিজানুর রহমান অলি, ওমর ফারুক সুমন ও রমনা থানা বিএনপির সহসভাপতি জাকির।

শাহবাগ থানায় দায়ের করা মামলায় ৪২ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এই মামলায়ও রিজভী, সোহেল, টুকু, জুয়েল, নিরব, শ্যামল, খোকন ও রবিনের নাম রয়েছে। পলাতক হিসেবে উল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে আরো রয়েছেন মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান তালুকদার, সম্পাদক আবুল বাশার, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক শরাফত আলী সফু, ২০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহিদ নবাব, সম্পাদক স্বপন ও ওয়ার্ড নেতা আবুল হাশেম। এই মামলায় কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি জাকির হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি পারভেজ রেজাসহ ১৬ জনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তারের কথা বলা হয়েছে। শাহবাগ থানায় করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা।’

এদিকে শাহবাগ থানার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই গোলাম হোসেন খান ১৬ আসামিকে গতকাল আদালতে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ড চান। এ ছাড়া রমনা থানার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সহিদুল ওসমান মাসুম ১৩ আসামির সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরীর আদালত শুনানি শেষে ২৯ আসামিকে দুই দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা