kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ বৈশাখ ১৪২৮। ২২ এপ্রিল ২০২১। ৯ রমজান ১৪৪২

বাইডেন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা মিয়ানমারে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাইডেন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা মিয়ানমারে

ছবি: ইন্টারনেট

গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উত্খাত করে ক্ষমতা দখল করায় মিয়ানমারের সামরিক জান্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত বুধবার রাতে তাঁর দপ্তর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের জানান, তিনি এসংক্রান্ত নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। মিয়ানমারে আটক রাজনীতিবিদদের অবিলম্বে মুক্তি ও বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে হুঁশিয়ার করেন। এর মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ বাইডেন প্রশাসনের প্রথম বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হচ্ছে মিয়ানমার।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রাথমিকভাবে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত জেনারেল ও তাঁদের পরিবারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে যুক্তরাষ্ট্র শুধু নিজে নয়, মিয়ানমারের ওপর প্রভাব রাখতে পারে এমন দেশগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করছে। এরই অংশ হিসেবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন গত দুই দিনে ভারত, জাপান ও সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনালাপে মিয়ানমার পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে কথা বলেছেন এবং উদ্বেগ জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া জেনারেলদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে বেশ কিছু ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। ওই দেশে মিয়ানমার সরকারের ১০০ কোটি ডলারের তহবিল আছে। মিয়ানমারের জেনারেলরা তা ব্যবহার করতে পারবেন না। এ ছাড়া তাঁদের পরিবারের কাছের সদস্য এবং তাঁদের ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে।

বাইডেন বলেন, তাঁর দেশ মিয়ানমারের রপ্তানি বাণিজ্যের ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে। তবে স্বাস্থ্যসেবা, নাগরিক সমাজ ও মিয়ানমারের জনগণ সরাসরি উপকৃত হয়, এমন খাতগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, মিয়ানমারের জনগণের কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে। সারা বিশ্ব তাদের দেখছে। মিয়ানমারের বিষয়ে আরো ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্র তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নিয়ে কাজ করবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি সভায় গত সপ্তাহেই মিয়ানমারের সামরিক জেনারেলদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব উঠেছিল। গত বুধবার রাতে প্রতিনিধি সভার পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে আইন প্রণেতারা একটি ব্রিফিংয়ে অংশ নেন। সেখানে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধিরা মিয়ানমারে চলমান ঘটনাগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি সম্ভাব্য করণীয়র কথাও জানান। ওই ব্রিফিংয়ে আইন প্রণেতাদের বক্তব্যে মিয়ানমারে সামরিক জান্তার ওপর কার্যকর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, মিয়ানমার পরিস্থিতি বাইডেন প্রশাসনের জন্য বিদেশে প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ। গত ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চিকে আটক করার মাধ্যমে সামরিক অভ্যুত্থান শুরু হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই হোয়াইট হাউস এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানায়। সে সময় প্রেসিডেন্ট বাইডেন মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইঙ্গিত দেন। এরপর দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর মিয়ানমারের ক্ষমতার পালাবদলকে ‘ক্যু’ হিসেবে অভিহিত করার পরপরই সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান, দেশটি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে অবিলম্বে ক্ষমতা ছাড়ার আহ্বান জানাচ্ছে। গত শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমার ইস্যুতে বিবৃতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টার একটি প্রতিফলন।

পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমার ইস্যু অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরছে। মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি পাওয়া নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। মিয়ানমারের সঙ্গে সহযোগিতাও সতর্কভাবে পর্যালোচনা করছেন তাঁরা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মিয়ানমারের সামরিক জেনারেলদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি কোনো যোগাযোগ নেই। সামরিক অভ্যুত্থানের সময় ও পরে সু চির সঙ্গে চেষ্টা করেও তাঁরা যোগাযোগ করতে পারেননি।

এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু মিত্রের সঙ্গে মিয়ানমারের জেনারেলদের যোগাযোগ আছে উল্লেখ করে নেড প্রাইস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আপনাদের বলতে পারি, বার্মায় (মিয়ানমারে) গণতন্ত্র ও বেসামরিক নেতৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।’

মন্তব্য