kalerkantho

রবিবার। ২২ ফাল্গুন ১৪২৭। ৭ মার্চ ২০২১। ২২ রজব ১৪৪২

মারমুখী ছিলেন অনেক কাউন্সিলর প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মারমুখী ছিলেন অনেক কাউন্সিলর প্রার্থী

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে প্রচারণাকালে সহিংসতায় দুজন নিহতসহ বেশ কিছু আহতের ঘটনায় অনেকে আগেই আশঙ্কা করেছিলেন ভোটের দিনও সংঘাত হবে। গতকাল বুধবার ভোটের দিন অনেক ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ও তাঁদের অনুসারীরা কেন্দ্র দখল নিয়ে সেই সত্যই বাস্তবে রূপ দিলেন।

গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ডের সুলতান আহমদ দেওয়ান সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভেতরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব অবস্থান করছেন। কেন্দ্রের ভেতরে-বাইরে নারী ও পুরুষ ভোটারের দীর্ঘ লাইন। দুই প্রার্থীর কয়েক শ অনুসারীর ভিড়ের কারণে ভোট দিতে বিড়ম্বনায় পড়েন ভোটাররা। অনুসারীরা ভোটারদের কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকতে বাধা দিচ্ছিল।

স্থানীয়রা জানায়, আওয়ামী লীগের দলীয় ও বিদ্রোহী ওই দুই কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর অনুসারীরা শুধু ওই কেন্দ্রেই নয়, অন্যান্য কেন্দ্রেও অবস্থান নেওয়ায় দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করেছে। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ২৮ নম্বর পাঠানটুলী ওয়ার্ডের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর আবদুল কাদেরের অনুসারীরা গতকাল সকাল থেকে কেন্দ্র দখলে মরিয়া হয়ে ওঠে। পাল্টা অবস্থানে ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর পদপ্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর। বাহাদুরের অনুসারীদের শক্ত অবস্থান থাকলেও কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেছিল কাদেরের অনুসারীরা।

১৪ নম্বর লালখানবাজার ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আবুল হাসনাত মোহাম্মদ বেলালের অনুসারীদের সঙ্গে ওই ওয়ার্ডের বিদ্রোহী প্রার্থী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুমের অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। দিনভর কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম।

৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর পদপ্রার্থী পুলক খাস্তগীরের অনুসারীদের সঙ্গে বিএনপি সমর্থিত সাবেক কাউন্সিলর ইসমাইল বালীর অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। একপর্যায়ে বালীর অনুসারীরা ইভিএম মেশিন ভাঙচুর করে। এই ঘটনায় ইসমাইল বালীকে আটক করেছে পুলিশ।

৪ নম্বর চান্দগাঁও, ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী, ২ নম্বর জালালাবাদ, ৮ নম্বর শুলকবহর, ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী, ১১ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলী, ১২ নম্বর সরাইপাড়া, ১৩ নম্বর পাহাড়তলী, ১৬ নম্বর চকবাজার, ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া, ২০ নম্বর দেওয়ানবাজার, ২৪ নম্বর উত্তর আগ্রাবাদ, ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ী, ৩৬ নম্বর গোসাইলডাঙ্গা, ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহরসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষও হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রার্থীরা একে অন্যকে দায়ী করেছেন।

এবারের নির্বাচনে ৩৯টি সাধারণ ওয়ার্ডের মধ্যে ৩২টিতে আওয়ামী লীগের অন্তত ৬০ জন বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল। ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩টিতে আওয়ামী লীগের ২৮ জন বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আর বিএনপিতে সাধারণ একটি ওয়ার্ড ও দুটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে পাঁচজন বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল।

 

মন্তব্য