kalerkantho

রবিবার। ২২ ফাল্গুন ১৪২৭। ৭ মার্চ ২০২১। ২২ রজব ১৪৪২

নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে লড়াই ৪ বাংলাদেশির

শামীম আল আমিন, নিউ ইয়র্ক   

২৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে লড়াই ৪ বাংলাদেশির

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের একটি আসনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার প্রার্থীর লড়াই জমে উঠেছে। কুইন্সের ডিস্ট্রিক্ট ২৪-এর কাউন্সিলম্যান ররি ল্যাংকম্যান স্টেট গভর্নর অফিসে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ায় পদটি শূন্য হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিলের এই আসনে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আর এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চার বাংলাদেশিসহ মোট ৯ জন।

নির্বাচনে গত ২৩ জানুয়ারি থেকে আগাম ভোট দেওয়া শুরু হয়ে গেছে; তা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। করোনা মহামারির মধ্যেও সামাজিক দূরত্ব মেনে প্রার্থীরা প্রাণপণ প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিহাসে এবারই প্রথম নিউ ইয়র্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর থেকে কোনো বাংলাদেশির কাউন্সিলম্যান হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একই আসনে চার বাংলাদেশি প্রার্থী থাকায় ভোট ভাগাভাগি হয়ে সেই সম্ভাবনা হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে এই আসনের সাবেক কাউন্সিলম্যান জেমস জিনারো আবারও জয়ী হতে পারেন।

কুইন্সের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যামাইকার কিউ গার্ডেন্স হিলস, ফ্রেশ মেডোজ, হিলক্রেস্ট, পমোনক, জ্যামাইকা হিলস ও ব্রায়ারউড নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী এলাকার ৩৩ শতাংশের বেশি ভোটার  বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত।

নির্বাচনে পছন্দের ক্রমানুসারে পাঁচজন প্রার্থীকে ভোট দেওয়া যাবে। প্রথম পছন্দের ব্যক্তি ৫১ শতাংশ ভোট না পেলে অঙ্কের হিসাব হবে ভিন্ন। সে ক্ষেত্রে চতুর্থ, তৃতীয় ও দ্বিতীয় প্রার্থীর ভোট থেকে নির্দিষ্ট একটি অংশ চলে যাবে প্রথম পছন্দের ঘরে। নিউ ইয়র্কের স্থানীয় ও প্রাইমারি নির্বাচনে এবারই প্রথম এই ব্যবস্থা চালু হলো। এতে করে এখনো কোনো একজন বাংলাদেশির জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন।

নির্বাচনে ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে চার বাংলাদেশি হলেন অ্যাটর্নি সোমা সাঈদ, মৌমিতা আহমেদ, ড. দীলিপ নাথ ও মুজিব উর রহমান। স্থানীয় টেলিভিশনগুলোতে টক শো করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন অ্যাটর্নি সোমা সাঈদ। নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি ও কুইন্স কাউন্টি উইমেন বারের প্রেসিডেন্ট অ্যাটর্নি সোমা গত কয়েকটি নির্বাচনে মিজান রহমানের পক্ষে মাঠে ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি এগিয়ে যেতে চাইছেন।

কালের কণ্ঠকে সোমা সাঈদ বলেন, ‘অনেক দিন ধরে নিজেকে তৈরি করেছি। মানুষের জন্য কাজ করেছি। করোনা মহামারির মধ্যেও প্রয়োজনে মানুষ আমাকে পাশে পেয়েছে। আশা করছি তারা আমাকে বিজয়ী করবে।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সাড়াজাগানো ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজের অনুসারী হিসেবে মৌমিতা আহমেদের একটি জোরালো অবস্থান তৈরি হয়েছে। তিনি এর আগে অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ২৪-এর ডেমোক্রেটিক ডিস্ট্রিক্ট লিডার পদে লড়াই করেছেন।

মৌমিতা বলেন, ‘বিপুলসংখ্যক মানুষ আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশিসহ সব দেশের মানুষ আছে। মূলধারার রাজনীতিকদের অনেকে সমর্থন জানিয়েছেন। আশা করছি এবার নতুন ইতিহাস তৈরি হবে।’  

হেলথ কেয়ার এক্সিকিউটিভ ড. দীলিপ নাথ আগেও এই আসনে নির্বাচন করেছেন। এবারও শক্তভাবেই মাঠে আছেন তিনি। ড. দীলিপ জানান, কংগ্রেসম্যান টম সাওজি, স্টেট সিনেটর রক্সেন পরসডসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদরা তাঁর পাশে  আছেন। জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। 

অন্যদিকে বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি মুজিব উর রহমানও একজন শক্ত প্রার্থী। কেননা বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় সংগঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। নির্বাচন করা এবং এসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়েও তিনি অভিজ্ঞ। ফলে বাংলাদেশিসহ অন্য ভোটারদের কাছে টানতে পারলে তিনিও জয়লাভ করতে পারেন।

 

মন্তব্য