kalerkantho

শনিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৪ রজব ১৪৪২

ব্যারিকেড ভেঙে দিল্লির রাজপথে কৃষকের ট্রাক্টর

লালকেল্লায় উড়ল ‘খালসা পতাকা’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্যারিকেড ভেঙে দিল্লির রাজপথে কৃষকের ট্রাক্টর

বিক্ষোভ: ভারতের বিতর্কিত কৃষি আইনের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাক্টর মিছিল করে গতকাল রাজধানীতে ঢোকেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা। ছবি : এএফপি

ভারতে কৃষি সংস্কার প্রস্তাবের প্রতিবাদে বিক্ষোভরত কৃষকদের ট্রাক্টর মিছিলকে কেন্দ্র করে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘাতে জড়ায় বিক্ষুব্ধ কৃষকরা। এতে পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

আন্দোলনকারী কৃষকদের দাবি, পুলিশের ছোড়া গুলিতে ট্রাক্টর উল্টে একজন কৃষক নিহত হয়েছে।

দেশটির প্রজাতন্ত্র দিবসে ব্যারিকেড ভেঙে পুলিশের লাঠিপেটা আর কাঁদানে গ্যাস উপেক্ষা করে রাজধানীতে ট্রাক্টর নিয়ে প্রবেশ করে হাজার হাজার কৃষক। তাদের একটি অংশ ঐতিহাসিক লালকেল্লায় উড়িয়ে দেয় শিখ ধর্মের প্রতীক ‘খালসা পতাকা’।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দিল্লির কিছু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় মেট্রো রেলের অনেক স্টেশন। জরুরি বৈঠকে বসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, হাজার হাজার কৃষক হেঁটে, ট্রাক্টর চালিয়ে শহরে প্রবেশ করে। কয়েকটি জায়গায় তারা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে এবং তাদের জন্য নির্ধারিত রুটে না গিয়ে অন্য পথে ভেতরের দিকে এগিয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের ‘বাজারবান্ধব’ সংস্কারের বিরুদ্ধে ভারতের ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ এই কৃষক আন্দোলন চলছে প্রায় দুই মাস ধরে। এতে শামিল হয়েছে দেশটির ৪০০টির বেশি কৃষক সংগঠন।

প্রজাতন্ত্র দিবসে রাজধানীর রাজপথে ট্রাক্টর মিছিল করার ঘোষণা আগেই দিয়েছিল আন্দোলনরত কৃষকরা। তারা জানিয়েছিল, এদিন দিল্লির  রাজপথে ৫০ থেকে ৬০ হাজার ট্রাক্টর নামাবে। একই সঙ্গে দেশের প্রায় ২০০ জেলায় তারা ট্রাক্টর মিছিল করবে। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর সীমান্তসহ বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

কয়েক দফা আলোচনার পর পুলিশ শর্ত সাপেক্ষে ট্রাক্টর মিছিলের অনুমতি দিয়েছিল। কোনোভাবেই প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানের বিঘ্ন ঘটাবে না। রাজপথে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেড শেষে ট্রাক্টর মিছিল বের হবে। তবে প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান শুরুর আগেই সকাল ৮টার দিকে নয়াদিল্লিতে ঢোকার প্রবেশমুখগুলোতে জড়ো হয় হাজারো কৃষক।

দিল্লির ছয়টি প্রবেশপথ থেকে কর্মসূচি শুরুর কথা ছিল কৃষকদের। পুলিশ এর সব কটিই অবরোধ করে রেখে ট্রাক্টর মিছিলের জন্য একটি  নির্দিষ্ট রুট ঠিক করে দেয়। কিন্তু সিংঘু, টিকরি ও গাজিপুর—এই তিন জায়গায় কৃষকরা ব্যারিকেড ভেঙে শহরে ঢোকে। একপর্যায়ে পুলিশ কৃষকদের লাঠিপেটা করে। কৃষকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। পুলিশকে লক্ষ্য করে কৃষকরাও ইটপাটকেল ছোড়ে। দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়াধাওয়ির ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়।

ট্রাক্টর মিছিলের একপর্যায়ে একদল কৃষক ঐতিহাসিক লালকেল্লায় পৌঁছে যায় এবং খুঁটি বেয়ে উঠে ‘খালসা পতাকা’ উড়িয়ে দেয়। তবে ভারতের জাতীয় পতাকায় তারা হাত দেয়নি।

যে তিনটি আইনের বিরোধিতা করে কৃষকরা এত বিক্ষোভ দেখাচ্ছে, তাতে কৃষিকে উন্মুক্ত বাজার ব্যবস্থার আওতায় নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির সরকার এই সংস্কারের পক্ষে। অবশ্য সরকার এরই মধ্যে প্রস্তাবিত আইনটি আপাতত স্থগিত করার কথা জানিয়েছে। তবে কৃষকরা এটি প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় রয়েছে। এ পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে কৃষকদের ১১ দফা বৈঠক হলেও সংকটের কোনো সুরাহা হয়নি। সূত্র : এএফপি, পিটিআই, বিবিসি, এই সময়, আনন্দবাজার পত্রিকা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা