kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন

কঠিন পরীক্ষায় দুই ডজন হেভিওয়েট কাউন্সিলর প্রার্থী

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কঠিন পরীক্ষায় দুই ডজন হেভিওয়েট কাউন্সিলর প্রার্থী

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) বিগত পাঁচ নির্বাচনের প্রতিটিতে অংশ নিয়ে জয়ী হয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন ১৬ নম্বর চকবাজার সাধারণ ওয়ার্ডে সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু এবং ৪, ৫ ও ৬ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে জোবাইরা নার্গিস খান। আওয়ামী লীগ সমর্থিত এই দুই কাউন্সিলর প্রার্থী টানা ষষ্ঠবার নির্বাচনে এসে দলের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে এবার কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন।

একই কারণে তিন থেকে চারবার নির্বাচিত নগরের বিভিন্ন সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের ডজনখানেক কাউন্সিলর প্রার্থীও এবার ঝুঁকির মুখে। আবার আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর কারণে কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী, যাঁরা তিনবারের বেশি কাউন্সিলর হয়েছেন, তাঁরাও সহজে পার পাবেন কি না তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

সব মিলিয়ে আগামীকালের ভোটে অতীতে তিন থেকে পাঁচবার নির্বাচিত প্রায় দুই ডজন সাবেক কাউন্সিলরকে এবার কঠিন পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। তাঁদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী। ভোটের হিসাব-নিকাশে কোনোটিতে দ্বিমুখী আবার কোনোটিতে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলেছে।

নগর আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা জানান, বেশির ভাগ ওয়ার্ডে ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে। আবার কিছু ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ ও দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি ভোটযুদ্ধ হতে গিয়ে বিএনপি সমর্থিত একক প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বিএনপির একক প্রার্থী এ কে এম সালাউদ্দীন কাউসার লাভু। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু। এরই মধ্যে পাঁচবার বিজয়ী সাবেক কাউন্সিলর মিন্টুর অনুসারীরা জানান, দলের দুইজন বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে তাঁকে (মিন্টু) এবার বেগ পেতে হচ্ছে। কে জয়ী হবেন তা নিয়ে আগেভাগে মন্তব্য করাটা কঠিন হয়ে পড়েছে।

২৮ নম্বর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত হ্যাটট্রিক বিজয়ী সাবেক কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাহাদুর গতকাল সোমবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিএনপির প্রার্থী নিয়ে কোনো চিন্তা করছি না। দলের দুজন বিদ্রোহীর কারণে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এর মধ্যে আমার একজন নিবেদিত কর্মীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এক প্রার্থী কারাগারে থাকলেও তাঁর ক্যাডারদের হুমকি-ধমকিতে ভোটাররা উদ্বিগ্ন।’

১৫ নম্বর বাগমনিরাম ওয়ার্ডে টানা চারবারের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আমি এলাকায় অনেক কাজ করেছি। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’

এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সমর্থিত হেভিওয়েট সাবেক কাউন্সিলরদের মধ্যে ২০ নম্বর দেওয়ানবাজার ওয়ার্ডে চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, ৩২ নম্বর আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডে জহর লাল হাজারী, ১৭ নম্বরে শহীদুল আলম, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মধ্যে ১২ নম্বরে আফরোজা কালাম, ১৪ নম্বরে শাহানুর বেগম; ৩৩, ৩৪ ও ৩৫ নম্বরে লুত্ফুন্নেছা দোভাষ বেবী; ১ নম্বরে ফেরদৌস বেগম মুন্নী; ১৬, ২০ ও ৩২ নম্বরে আনজুমান আরা এবং বিএনপি সমর্থিতদের মধ্যে ২২ নম্বর এনায়েত বাজার ওয়ার্ডে আবদুল মালেক, ১৯ নম্বর বাকলিয়া ওয়ার্ডে ইয়াছিন চৌধুরী আছু, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মধ্যে ১৪, ১৫, ২১ নম্বরে মনোয়ারা বেগম মনি রয়েছেন। এর বাইরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত এবং বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন করছেন আরো কয়েকজন হেভিওয়েট কাউন্সিলর প্রার্থী।

নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বন্দর নগরের ৩৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৬৯ জন এবং ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৫৭ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৩২টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৬২ জন এবং ১৩টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ২৮ জন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। আর বিএনপিতে একটি সাধারণ ও দুইটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মোট পাঁচজন বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী ভোটযুদ্ধে আছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা