kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

পি কে হালদারের সহযোগী উজ্জ্বল ও রাশেদুল রিমান্ডে

৩৩ জনের নামে পাঁচ মামলা দুদকের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পি কে হালদারের সহযোগী উজ্জ্বল ও রাশেদুল রিমান্ডে

অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দুদকের মামলায় প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের সহযোগী পিপলস লিজিংয়ের চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দী ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক এমডি রাশেদুল ইসলামের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে আসামি উজ্জ্বল কুমার নন্দী ও রাশেদুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান প্রত্যেকের পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাঁদের জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুজনের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত রবিবার বিকেলে সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ারের নেতৃত্বে একটি টিম তাঁদের গ্রেপ্তার করে। তাঁদের বিরুদ্ধে ৭০ কোটি ৮২ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

উজ্জ্বল কুমার নন্দী ২০১০ সাল পর্যন্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইআইডিএফসির কম্পানি সচিব ছিলেন। ২০১৩ সালের অক্টোবরে তাঁকে এফএএস ফিন্যান্সের পরিচালক করেন রিলায়েন্স ফিন্যান্স ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদার। এরপর তাঁকে আনন কেমিক্যাল ও পিপলস লিজিংয়ের চেয়ারম্যান করা হয়। একই সঙ্গে উজ্জ্বল নন্দীকে নর্দান জুট, রহমান কেমিক্যাল ও ক্লিউইস্টন ফুডের চেয়ারম্যানের পদ দেন পি কে হালদার। অন্যদিকে রাশেদুল হক মূলত পি কে হালদারের ডান হাত হিসেবে পরিচিত। ২০১০ সালে পি কে হালদার যখন রিলায়েন্স ফিন্যান্সের এমডি ছিলেন, তখন রাশেদুল হক ওই প্রতিষ্ঠানের ডিএমডি ছিলেন। ২০১৫ সালে রাশেদুল ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের এমডি পদে যোগ দেন। এই পদে থাকা অবস্থায় তিনি যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে আড়াই হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছেন, যেগুলোর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোনো মর্টগেজ ছিল না।

পি কে হালদারসহ ৩৩ জনের নামে পাঁচ মামলা

ভুয়া ও কাগুজে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৫১ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন ও আত্মসাতের অভিযোগে বিদেশে পালিয়ে থাকা পি কে হালদারসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ গতকাল মামলাগুলো করা হয়েছে বলে দুদকের সচিব মুহা. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বোর্ডের সদস্যরা অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করে ভুয়া ও কাগুজে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৫০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ঋণ দিয়ে আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিং করেছেন।’

দুদক সচিব জানান, এসব মামলায় পি কে হালদার ছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসেসের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ হাশেম, সাবেক এমডি মো. রাশেদুল হক, ৯ জন বোর্ড সদস্য, পিপলস লিজিংয়ের চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দী, পি কে হালদারের আত্মীয়-স্বজন, সহযোগীসহ ৩৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা