kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

প্রত্যাশিত ৩-০ ব্যবধানেই জিতল বাংলাদেশ

মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম থেকে   

২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




প্রত্যাশিত ৩-০ ব্যবধানেই জিতল বাংলাদেশ

সিরিজ জয় : শেষ ম্যাচেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের এ জয়ে ৩-০ ব্যবধানে ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করেছে তামিম ইকবালের দল। ছবি : মীর ফরিদ

বাংলাদেশ : ৫০ ওভারে ২৯৭/৬

ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ৪৪.২ ওভারে ১৭৭

ফল : বাংলাদেশ ১২০ রানে জয়ী

 

এই সিরিজ শুরুর আগেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘ফ্যাব ফাইভ’ থেকে মাশরাফি বিন মর্তুজা খসে পড়ার পর এখন তাঁরা চারজন। এই চারজনে মিলে অভূতপূর্ব এক ঘটনার সাক্ষীও বানিয়ে রাখলেন সবাইকে। একই ম্যাচে সবার নামের পাশে ফিফটি যে এবারই প্রথম!

এঁদের মধ্যে তামিম ইকবাল যথারীতি এক প্রান্ত আগলে রাখা ব্যাটিংয়েই মনোযোগী ছিলেন। আর ৩৮ রানে ২ উইকেট হারানোর পর নেমে প্রথম বলেই জীবন পাওয়া সম্ভবত আরো সাবধানী করে থাকবে সাকিব আল হাসানকে। তাই করলেন নিজেকে গুটিয়ে রাখা ব্যাটিংও। তাতে নিষেধাজ্ঞার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে পেলেন প্রথম ফিফটির দেখা। টানা দ্বিতীয় ফিফটি করলেন ওয়ানডে অধিনায়কও। যদিও ইনিংস আরো বড় করতে না পারার অনুযোগ তাঁদের ঘিরে ঠিকই থাকল। তবে শেষ বিচারে রানের গতি কিছুটা হারানোর দায় নিতে হলো না।

কারণ মুশফিকুর রহিম আর মাহমুদ উল্লাহ মিলে দ্রুতগতিতে রান তুলে এমন পুষিয়ে দিলেন যে ব্যাপারটি শেষ পর্যন্ত রানোৎসবের চেহারাই নিল। তামিম-সাকিবের ব্যাটিং ভিত গড়ে থাকলে তার ওপর দাঁড়িয়ে মুশফিক-মাহমুদের ফিফটি সিরিজে প্রথমবার আগে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশকে গড়ে দিল ২৯৭ রানের ইমারত। এই রান তাড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাধ্যসীমা প্রথম দুটি ওয়ানডেই জানিয়ে রেখেছিল। তারা বেশি দূর যেতে পারলও না। ১২০ রানের জয়ে প্রত্যাশিত ৩-০ হলো। ক্যারিবীয়দের দ্বিতীয়বারের মতো ডোবানো গেল হোয়াইটওয়াশের লজ্জায়।

তাতে আইসিসি ওয়ানডে সুপার লিগের এই সিরিজ থেকে পুরো ৩০ পয়েন্টই পেল স্বাগতিকরা। এই ভাবনা গুরুত্ব পাওয়ায় ২০২৩ বিশ্বকাপ সামনে রেখে নতুনদের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হলেও তা বেমালুম ভুলে গেল টিম ম্যানেজমেন্ট। খেলার সুযোগ পেলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও তাসকিন আহমেদ। মুস্তাফিজুর রহমান (২/২৪) জোড়া আঘাত হেনে শুরু করার পর নিরাশ করলেন না তাঁরাও। ৫১ রানে ৩ উইকেট নিলেন সাইফউদ্দিন। সোয়া তিন বছর পর ওয়ানডে খেলার সুযোগ পাওয়া তাসকিনকে (১/৩২) অবশ্য শিকারসংখ্যা দিয়েই বিচার করলে হচ্ছে না। ৪ ওভারের প্রথম স্পেলে মাত্র ৮ রান খরচ করাও প্রতিপক্ষের ওপর চাপ বাড়িয়েছে নিঃসন্দেহে। সেই সঙ্গে দ্বিতীয় ওয়ানডের সেরা মেহেদী হাসান মিরাজ (২/১৮) আরেকবার জানান দিয়েছেন নিজের কার্যকারিতার।

বোলিংয়ের আগে ব্যাটিংয়ে ঠিক এ রকমই সম্মিলিত পারফরম্যান্স। তবু অধিনায়ক তামিম যে রকম নিখুঁত পারফরম্যান্স আশা করেছিলেন, সে রকম হলো না। সেটি লিটন কুমার দাস (০) আরেকবার টিকতে পারলেন না বলেই শুধু নয়। সাকিবকে চারে ঠেলে তিন নম্বরে যাঁকে খেলার সুযোগ দেওয়া হলো, সেই নাজমুল হোসেন শান্ত (২০) আরেকবার সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলেন। দুয়ে মিলে শুরুর চাপ আরো বাড়েনি কাইল মায়েরস সাকিবের ফিরতি ক্যাচ নিতে না পারায়।

সেখান থেকে তামিম আর সাকিব এমন সতর্ক হয়ে গেলেন যে মনোযোগ দিলেন এক-দুই করে রান তোলায়। বড় শট খেলার অনাগ্রহে তাঁদের ৯৩ রানের পার্টনারশিপের একপর্যায়ে ১৫ ওভার কোনো চার-ছক্কার দেখাই মেলেনি। ৭০ বলে ফিফটি করা তামিম (৮০ বলে ৬৪) অবশ্য সুযোগ হারিয়েছেন ইনিংস আরো বড় করার। ৭৮ বলে ফিফটি করা সাকিবও (৮১ বলে ৫১) তা-ই।

তামিম-সাকিব থামার পর দলের রান সংগ্রহ নতুন গতি পায় মুশফিক-মাহমুদের ব্যাটে। পাল্লা দিয়ে রান বাড়াতে থাকেন তাঁরা। ৪৭ বলে ফিফটিতে পৌঁছান মুশফিক। মাহমুদের লাগে আরো কম বল, ৪৩। ৬১ বলে তাঁরা দুজনে যোগ করেন ৭২ রান। ৫৫ বলে ৬৪ রান করে মুশফিক বিদায় নিলেও দলের তিন শর দিকে ছোটা বাধাগ্রস্ত হতে দেননি মাহমুদ। ৩টি করে চার আর ছক্কায় ৪৩ বলে খেলেন ৬৪ রানের হার না মানা ইনিংস। এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এক ম্যাচে চারটি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংসের দেখা পাওয়া বাংলাদেশ শেষ ১০ ওভারে তোলে ১০০ রানও।

এই প্রথম একসঙ্গে চার সিনিয়রের ফিফটি যেন সিরিজের শেষ ম্যাচে দেখিয়ে দিল পূর্ণাঙ্গ টিম পারফরম্যান্সও। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা