kalerkantho

শুক্রবার । ২০ ফাল্গুন ১৪২৭। ৫ মার্চ ২০২১। ২০ রজব ১৪৪২

করোনাকালেও সচল দেশের অর্থনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাকালেও সচল দেশের অর্থনীতি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের কারণে করোনাকালেও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে। চলমান উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে বলে মনে করেন সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় তাঁরা এমন দাবি করেন। এই আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ দলীয় সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

গতকাল রবিবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই আলোচনায় অংশ নেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, সরকারি দলের এ কে এম শাহজাহান কামাল ও দীপংকর তালুকদার এবং জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ। এর আগে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা ও উত্তর টেবিলে উপস্থাপন এবং ৭১ বিধির নোটিশের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই ২০৪১ সালের মধ্যে দেশ বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশে পরিণত হবে। এ জন্য তাঁর নেতৃত্বে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ বলেন, বৈশ্বিক মহামারি সফলভাবে মোকাবেলা করে দেশ আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। গত এক যুগে দেশে আবাসন খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে। এ ছাড়া পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, কর্ণফুলী বঙ্গবন্ধু টানেলসহ ২৪টি মেগাপ্রকল্প সাফল্যের সঙ্গে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ হলে দেশের অর্থনীতি বদলে যাবে।

বিরোধীদলীয় সদস্যের ক্ষোভ : সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্যের শুরুতে ক্ষোভ প্রকাশ করে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘সব দলের সদস্যরা আছেন। জোট করে নির্বাচন করেছি। বিরোধী দলে বসেছি, এটা হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, আমাদের কারো কারো বক্তব্যে বোঝা যায় না কোন দলের সদস্য। কোনো কোনো সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির নাম উচ্চারণ করেননি, এরশাদের নাম উল্লেখ করেন নাই। অথচ দল থেকে মনোনীত সংসদ সদস্য। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করেছি। কিন্তু নমিনেশন দিয়েছিল আমাদের দল।’ দলীয় ফোরামে এটা নিয়ে আলোচনা করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারের উন্নয়নের পেছনে জাতীয় পার্টির ‘ভূমিকা আছে’ দাবি করে ফিরোজ রশীদ আরো বলেন, আওয়ামী লীগের কোনো নেতা একবারও জাতীয় পার্টির কথা বলেন না। ২০১৪ সালে যে ধ্বংসযজ্ঞ ছিল, সেই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি না এলে নির্বাচন হতো না।

প্রধানমন্ত্রী কাজ করছেন, অথচ টাকা ‘লুটপাট’ হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে বিরোধী দলের এই সংসদ সদস্য বলেন, ব্যাংক খাতে লুটপাট চলছে। লিজিং কম্পানির হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে টাকা চলে গেছে।

স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি বন্ধের দাবি উত্থাপন করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে কিছু সংগঠন আছে। একটি সংগঠন আছে ‘নাস্তিক নির্মূল কমিটি’। আরেকটি ‘ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’। এই নির্মূল করার ক্ষমতা এদের কে দিয়েছে? আমি জানতে চাই। তুমি কে নির্মূল করার? আমার দেশে কোর্ট-কাচারি আছে না? অনেক বিচার করেছে এই সরকার। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হচ্ছে, রাজকারদের বিচার হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে, তুমি কেন? আমি মনে করি এদেরকেই প্রতিরোধ করা দরকার।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা