kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

১০ টাকায় মিলছে কাপড়, খেলনা!

লুৎফর রহমান   

২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১০ টাকায় মিলছে কাপড়, খেলনা!

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় গতকাল দিনব্যাপী ১০ টাকায় কাপড় উৎসবের আয়োজন করে সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঊর্ধ্বমূল্যের এ বাজারে ১০ টাকায় তেমন কিছুই মেলে না বলা চলে। এ টাকায় বড়জোর সন্তানের হাতে এক প্যাকেট চিপস বা কয়েকটি চকোলেট তুলে দিতে পারেন মা-বাবা। কিন্তু কেউ যদি বলে ১০ টাকায় ভালো খেলনা, স্কুলব্যাগ, এমনকি শাড়ি, পাঞ্জাবি বা শিশুদের কাপড়ও মিলছে—তবে তা এক রকম অবাস্তব ঘটনা বলেই মনে হবে। আর এ অবাস্তব বিষয়টিকেই বাস্তবে পরিণত করেছে সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন। সংগঠনটি অসহায় দুস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষের হাতে ১০ টাকায় তুলে দিয়েছে কাপড়সহ প্রয়োজনীয় নানা জিনিস।

গতকাল রবিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় দিনব্যাপী এই ‘১০ টাকায় কাপড় উৎসবে’র আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সমন্বয়ে পরিচালিত সুইচ বাংলাদেশ। এখানে থাকা পাঁচ-ছয়টি স্টল থেকে সাধ্যের মধ্যে প্রয়োজনীয় ও একই সঙ্গে শখের জিনিস কেনার সুযোগ পায় নিম্নবিত্ত মানুষ। মূলত করোনাকালে বিভিন্ন বস্তিতে গিয়ে অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করতে গিয়ে সংগঠনের নেতাদের মাথায় এ ভাবনাটি আসে। তাঁরা ভেবে দেখেন, সমাজে অনেক মানুষ আছে যারা অল্প কিছুদিন ব্যবহার করে কাপড় ফেলে রাখে। এই ফেলে রাখা কাপড়গুলো যদি সংগ্রহ করে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় তবে তারা উপকৃত হবে। সে ভাবনা থেকেই বাসায় বাসায় গিয়ে কাপড় সংগ্রহ করে লন্ড্রির মাধ্যমে সেগুলো ধোলাই, ইস্ত্রি ও প্যাক করে ১০ টাকায় বিতরণ শুরু করেন তাঁরা। কাপড়ের পাশাপাশি তাঁরা জুতা, আসবাব, হাঁড়ি-পাতিল, খেলনাসহ সব ধরনের ব্যবহারযোগ্য জিনিসও বিতরণ শুরু করেন। খুলে ফেলেন ‘১০ টাকায় কাপড়’ নামে ফেসবুক পেজও। ১০ টাকায়ই কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ফয়সাল বলেন, ‘বাসায় বাসায় গিয়ে এগুলো সংগ্রহ এবং বিভিন্ন বস্তিতে বিতরণের খরচের কারণেই ১০ টাকায় বিতরণ। তা ছাড়া ১০ টাকা দিয়ে যিনি কিনছেন, তিনি অনুভব করছেন যে এটি তিনি কিনে ব্যবহার করছেন।’

কথা হলো উৎসবে আসা পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মেহেদীর সঙ্গে। ছোট বোন জান্নাতকে নিয়ে এখানে এসেছে সে। বাবার কাছ থেকে নেওয়া টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে বোনকে ১০ টাকায় কিনে দিয়েছে পাখি। সুন্দর খেলনা পেয়ে মাঠেই খেলতে বসে পড়েছে দুই ভাই-বোন। ঝর্ণা বেগম নামে এক নারী এসেছেন মেয়ের স্কুলব্যাগ কিনতে। তিনি বলেন, ‘দুই মেয়ের মধ্যে একজনের স্কুলব্যাগ থাকলেও ছোট মেয়ে বড় মেয়ের ব্যাগ নিয়ে টানাটানি করে। টাকার অভাবে এত দিন তাকে ব্যাগ দিতে পারিনি। এখান থেকে ১০ টাকায় ব্যাগ কিনেছি ছোট মেয়ের জন্য। সে অনেক খুশি।’ কুলসুম আক্তার নামে আরেকজন শাড়ি ও থ্রিপিস কিনেছেন উৎসবে এসে। তিনি বললেন, ‘১০ টাকা দিয়ে এমন একটি শাড়ি পাব তা কখনো ভাবিনি।’  সাত বছরের শিশু ফাহিম একটি বড় খেলনা গাড়ি পেয়ে আনন্দে ভাসছে। বজলুর রহমান এখানে এসে ছেলের জন্য জামা, নিজের জন্য পাঞ্জাবি এবং স্ত্রীর জন্য একটি শাড়ি কিনেছেন মোট ৩০ টাকা দিয়ে। অনেকে এখানে এসে প্রয়োজনীয় মগ, গ্লাস, হাঁড়ি, পাতিল, আসবাব পেয়েছেন। তাই প্রত্যেকের মুখেই ছিল আনন্দ ছাপ।

১০ টাকায় কাপড়ের সমন্বয়ক মোস্তাফিজুর রহমান এ সময় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি নিয়মিত বিতরণের পাশাপাশি বিভিন্ন বস্তিতে সপ্তাহে এক-দুই দিন ১০ টাকায় কাপড় বিতরণ উৎসবের আয়োজন করব।’

২০১১ সাল থেকেই পথশিশুদের শিক্ষাদান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর সচেতনতামূলক কর্মসূচি, বইমেলায় হুইলচেয়ার সেবাসহ বিভিন্ন সামাজিক

উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন। করোনা মহামারি সংকটে বিভিন্ন বস্তির ১২ হাজারের বেশি অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে সংগঠনটি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা