kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

সাগরে ডুবল ট্রলার, ৪ লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ ৮ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাগরে ডুবল ট্রলার, ৪ লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ ৮ জন

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের ৬৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে ‘এফভি যানযাবিল’ নামে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। গতকাল শনিবার ভোর ৪টার দিকে এ ঘটনায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চারজনের লাশ পাওয়া গেছে। জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ১৩ জন, নিখোঁজ রয়েছেন আটজন।

যাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তাঁরা হলেন মোহাম্মদ ইসমাইল, নাসির উদ্দিন, সালাম গাজী ও শাহজাহান। তাঁরা সবাই ট্রলারের নাবিক ছিলেন। তাঁদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। তবে তাঁরা নোয়াখালী ও বরিশালের বাসিন্দা। কালের কণ্ঠকে এসব তথ্য জানিয়েছেন ট্রলারটির মালিক আলী অ্যান্ড ব্রাদার্সের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী।

‘এফভি যানযাবিল’ ট্রলার বা জাহাজটির মালিক চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী। ট্রলারটিতে ২৫ জন নাবিক ছিলেন। গত ২০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম থেকে রওনা দিয়ে ট্রলারটি সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কাছে চিংড়ি ধরছিল। এই অবস্থায় দুর্ঘটনায় পড়ে ট্রলারটি কাত হয়ে ডুবে যায়। ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকটি জাহাজ এগিয়ে গিয়ে ট্রলারের বেশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করে। 

কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন) লে. কমান্ডার হাবিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর জানার পর কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ এবং নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী চারজনের লাশ আমরা উদ্ধার করেছি। আর জীবিত উদ্ধার হয়েছে ১৩ জন। বাকি আটজনের খোঁজে গভীর সাগরে অভিযান চলছে।’

চট্টগ্রাম মেরিন ফিশারিজ একাডেমি এক্স ক্যাডেট অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ, অদক্ষ নাবিক দিয়ে জাহাজ পরিচালনার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। কারণ জাহাজটির ক্যাপ্টেনের ফিশিং ট্রলার চালানোর সনদ ও যোগ্যতা নেই। শুধু ‘এফভি যানযাবিল’ নয়, এই কম্পানির ১০টি জাহাজের কোনো মাস্টারের ফিশিং ট্রলার চালানোর সনদ নেই। তবে আলী অ্যান্ড ব্রাদার্সের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, হঠাৎ বৈরী আবহওয়ার কারণে জাহাজটি কাত হয়ে ডুবে যায়। বৈরী আবহওয়া তো ছিল না উল্লেখ করলে আলী আরো বলেন, শীত মৌসুমে আচমকা কিছু ঝোড়ো বাতাসের সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। অনভিজ্ঞ, সনদবিহীন মাস্টার দিয়ে জাহাজ পরিচালনার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামসুল ইসলাম রাশেদি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আইন অনুযায়ী ফিশিং ট্রলার চালানোর জন্য কম্পিটেন্সি সনদ থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ‘এফভি যানযাবিল’ মাস্টারের সেই সনদ নেই। তিনি আরো বলেন, ‘দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মাস্টার দিয়ে এই ধরনের ট্রলার পরিচালনার জন্য আমরা অনেক দিন ধরেই আন্দোলন করছি। উদ্দেশ্য, দুর্ঘটনা রোধ করে সাগরযাত্রা নিরাপদ রাখা। আজকের ঘটনা প্রশাসনসহ সবাইকে আঙুল দিয়ে বিষয়টি দেখিয়ে দিল।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা