kalerkantho

শনিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৪ রজব ১৪৪২

রেজাউলের ভোট স্বজনের টাকায় মামলায় জর্জরিত শাহাদাত

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রেজাউলের ভোট স্বজনের টাকায় মামলায় জর্জরিত শাহাদাত

একে একে ৪৮টি মামলা মাথায় নিয়ে ভোটের মাঠে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় মামলার সংখ্যা ছিল ৪০। গত দুই বছরে মামলার বোঝা আরো বেড়েছে। তেমনি আয়-রোজগারও বেড়েছে সমানতালে। আবার দেনার পরিমাণও বেড়েছে।

এদিক দিয়ে অনেকটাই নিশ্চিন্তে আছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী। মামলার ঝামেলা যেমন নেই, তেমনি দায়দেনামুক্ত স্বচ্ছ ইমেজের রেজাউলের নির্বাচনী খরচও বহন করছে স্বজনরা। চসিক নির্বাচনের প্রধান দুই মেয়র প্রার্থীর নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

মেয়র পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা ১১ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে লড়ছেন সাতজন। তাঁরা হলেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আবুল মনজুর (আম), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এম এ মতিন (মোমবাতি), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ (চেয়ার), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জিন্নাতুল ইসলাম (হাতপাখা), আওয়ামী লীগের এম রেজাউল করিম চৌধুরী (নৌকা), বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন (ধানের শীষ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী খোকন চৌধুরী (হাতি)।

হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের আয়ের চেয়ে দেনার পরিমাণ বেশি। দুই ব্যাংকে তাঁর প্রায় তিন কোটি ৩৪ লাখ টাকা দেনা রয়েছে। এর মধ্যে উত্তরা ফিন্যান্স ইনভেস্টমেন্টে শাহাদাতের দেনার পরিমাণ তিন কোটি দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে দেনা রয়েছে ২৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা। দুই বছর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দেনার পরিমাণ ছিল চার কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

পেশায় চিকিৎসক এই নেতার দুই বছরের ব্যবধানে আয় বেড়েছে ১০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় শাহাদাতের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছিল ৪২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। দেড় বছরের ব্যবধানে আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ লাখ ১৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে চিকিৎসক পেশা থেকে আয় ১৭ লাখ ২১ হাজার ৬০০ টাকা, নগদ ১৫ লাখ টাকা এবং ব্যাংকে আছে ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। নির্বাচনী ব্যয় ৩০ লাখ টাকার ২০ লাখ টাকা দেবেন নিজের আয় থেকে। বাকি ১০ লাখ টাকা নেবেন দুই বোনের কাছ থেকে।

তবে এই নেতাকে বেশি ভোগাচ্ছে ৪৮টি মামলা, যেগুলোর বেশির ভাগই অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে দায়ের হয়েছে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তিনি ৪০টি বিচারাধীন মামলার কথা উল্লেখ করলেও চসিক নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামায় ৪৮টি মামলার হিসাব দিয়েছেন। সব মামলাই বিচারাধীন। দ্রুত বিচার আইনের আরেকটি মামলায় এরই মধ্যে খালাস পেয়েছেন বলে তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় বিত্তে কম হলেও মামলাহীন, দায়দেনাবিহীন থেকে তুলনামূলক স্বচ্ছ ভাবমূর্তি নিয়ে নির্বাচন করছেন রেজাউল করিম চৌধুরী। প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন করায় তাঁর আগের হলফনামার সঙ্গে তা বিশ্লেষণের সুযোগ নেই। নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিমের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক। পেশায় ব্যবসায়ী এই নেতার আয়ের মূল উৎস বাড়িভাড়া। এই খাতে বছরে তাঁর আয় চার লাখ ১৪ হাজার টাকা। এ ছাড়া ব্যবসা থেকে আয় সাড়ে তিন লাখ টাকা। আর পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে পাওয়া চারটি অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য ধরেছেন এক কোটি ৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া নিজের ও স্ত্রীর নামে ব্যাংকে আছে ৪০ লাখ টাকা। নগদ হাতে আছে আরো চার লাখ ৫১ হাজার টাকা।

মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে ৩০ লাখ টাকা খরচের সুযোগ থাকলেও তিনি ২০ লাখ টাকা নির্বাচনী ব্যয় করবেন বলে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ফরমে উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে মাত্র দেড় লাখ টাকা ব্যয় করবেন নিজের ব্যাবসায়িক আয় থেকে। বাকি টাকা স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান হিসেবে স্ত্রী ও ভাইদের কাছ থেকে নেবেন বলে জানিয়েছেন।

হলফনামায় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অন্য প্রার্থীরা দলীয় ফান্ড থেকে নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহ করবেন বলে জানিয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা