kalerkantho

সোমবার । ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ৮ মার্চ ২০২১। ২৩ রজব ১৪৪২

পল্লবীতে ডিএনসিসির অভিযানে হামলা ধাওয়াধাওয়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পল্লবীতে ডিএনসিসির অভিযানে হামলা ধাওয়াধাওয়ি

উচ্ছেদ : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতকাল মিরপুরের পল্লবীর নান্নু মার্কেট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযানে নেমেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম দিন অভিযান শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থানীয় লোকজন উচ্ছেদে বাধা দেয়। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়াধাওয়ি চলে। পরে ডিএনসিসির মেয়র ঘটনাস্থলে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

অভিযানের প্রথম দিন পাকা, আধাপাকা ভবনসহ চার শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল ১০টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বর এলাকার ৩ নম্বর এভিনিউয়ের ৪ নম্বর সড়কে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। অভিযান শুরুর পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষ করে অবাঙালিদের ক্যাম্পের বাসিন্দারা এতে বাধা দেয়। এমনকি রাস্তায় অভিযান পরিচালনাকারী দলকে আটকেও দেয় তারা। পরে ১২ নম্বর সেকশনের ‘এ’ ব্লকের একটি অবৈধ স্থাপনা ভাঙতে শুরু করলে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা। রাস্তার দুই পাশের বাড়িগুলো থেকেও ইটপাটকেল ছোড়া হয়। এতে পিছু হটেন ডিএনসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। কিছুক্ষণ পর কয়েক শ পুলিশ সদস্য অভিযানে যোগ দেন। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরাও জড়ো হন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে অবাঙালি ক্যাম্পের বাসিন্দাদের ধাওয়াধাওয়ি শুরু হয়। পরে সকাল ১১টার দিকে ডিএনসিসির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে আসেন। তখন পরিস্থিতি শান্ত হতে শুরু করে।

বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত চলে উচ্ছেদ কার্যক্রম। এ সময় রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া ভাঙা ভবনের ধুলাবালিতে পুরো এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর দুপুরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘যাঁরা দখল করেছেন, তাঁরা নিজেরাও অবৈধ দখলের বিষয়ে জানেন। ফলে তাঁদের আলাদা করে সময় দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যেখানেই যাঁরা অবৈধ দখল করবেন, তাঁদেরই উচ্ছেদ করা হবে।’

মেয়র আরো বলেন, ‘মিরপুরের এই এলাকা দখলমুক্ত করে ৬৮ ফুট চওড়া রাস্তা করা হবে। কালশী থেকে এখন এখানে দুটি সংযোগ সড়ক রয়েছে। উচ্ছেদের পরে আরো একটি সংযোগ সড়ক বাড়ানো হবে। এতে করে রাজধানীর যানজট নিরসন হবে। দখলদার যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

হামলার বিষয়ে মেয়র বলেন, ‘অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে হামলা হতেই পারে। এতে পিছু হটবে না সিটি করপোরেশন। উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। আগামীকাল (শুক্রবার) ও শনিবার ছুটির দিনেও চলমান থাকবে এই কার্যক্রম।’

অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থেকে মেয়র নানা দিকনির্দেশনা দেন। তিনি উচ্ছেদ অভিযান সফল করতে সহযোগিতা করায় স্থানীয় জনসাধারণ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানান।

ডিএনসিসির অঞ্চল-২-এর নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম সফিউল আজম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান চলে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিরুল ইসলাম, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক, ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুর রউফ নান্নু।

দখলকারীরা বলছেন, উচ্ছেদে তাঁদের আপত্তি নেই। কিন্তু ডিএনসিসি তাঁদের সময় দেয়নি।

অভিযানে দোকান ভাঙা পড়েছে সৈকত নামের এক ব্যবসায়ীর। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি জানি যে আমার দোকান অবৈধ জায়গায়, সিটি করপোরেশনের রাস্তা দখল করে নির্মাণ করা। তাই গুঁড়িয়ে দিছে। তবে তারা আমাদের একটু সময় দিলে ভালো হতো। মালামালগুলা সরাতে পারতাম। এখন তো সব ভাঙা ভবনের নিচে চাপা পড়েছে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা