kalerkantho

সোমবার । ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ৮ মার্চ ২০২১। ২৩ রজব ১৪৪২

পি কে হালদারের আইনজীবী ও তাঁর মেয়ে রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পি কে হালদারের আইনজীবী ও তাঁর মেয়ে রিমান্ডে

পি কে হালদারের অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের মামলায় গ্রেপ্তার তাঁর ব্যক্তিগত আইনজীবী সুকুমার মৃধা ও তাঁর মেয়ে অনিন্দিতা মৃধাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি করে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ এই আদেশ দেন।

এর আগে গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠান অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন।

রিলায়েন্স ফিন্যান্স ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) বিরুদ্ধে ঋণের নামে জালিয়াতি করে কয়েক হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর দুপুর সোয়া ২টার দিকে আদালতে নেওয়ার পথে সুকুমার মৃধা সাংবাদিকদের বলেন,  ‘পত্রপত্রিকায় যা লেখালেখি হচ্ছে, সেই বিষয়ে পি কে হালদারের কোনো ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। তিনি কেবল আমার ক্লায়েন্ট ছিলেন।’

এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি পি কে হালদারের আরেক সহযোগী অবন্তিকা বড়ালকে গ্রেপ্তার করে দুদক।

এদিকে দুদকের সচিব মুহা. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার গণমাধ্যমকে বলেন, পি কে হালদার বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পর তাঁর অবৈধ সম্পদ দেখাশোনা করতেন সুকুমার মৃধা ও অনিন্দিতা মৃধা। পি কে হালদারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান সুকুমার মৃধা তত্ত্বাবধান করেন। তিনি আরো বলেন, পি কে হালদার ভুয়া ঋণ দেখিয়ে অবৈধভাবে অর্জিত প্রায় ১০০ কোটি টাকা তাঁর মা লীলাবতী হালদারের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে রাখেন। পরে লীলাবতী হালদারের ব্যাংক হিসাব থেকে সুকুমার মৃধা, অবন্তিকা বড়াল ও অনিন্দিতা মৃধা পি কে হালদারের কাছে হস্তান্তর ও স্থানান্তর করে মানি লন্ডারিং করেছেন মর্মে তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য পেয়েছেন।

এ ছাড়া সুকুমার মৃধার দখলে প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পদ এবং তাঁর মেয়ে অনিন্দিতার দখলে প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পদ থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে জানিয়ে এসব সম্পদ পি কে হালদারের অবৈধ উপায়ে অর্জিত বলে জানান দুদকের সচিব।

মামলার তদন্তে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় এর আগে গত ৪ জানুয়ারি পি কে হালদারের আরেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী শঙ্খ ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পি কে হালদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী শঙ্খ ব্যাপারীর নামে রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকায় একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের সন্ধান পাওয়া যায়, যা পি কে হালদারের অর্থায়নে কেনা বলে দুদকের এক কর্মকর্তা জানান।

আইএলএফএসএল গ্রাহকদের অভিযোগের মুখে পি কে হালদার বিদেশে পালানোর পর গত বছরের ৮ জানুয়ারি দুদক তাঁর বিরুদ্ধে ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করে। বিদেশে থাকা পি কে হালদার গত ২৮ জুন আইএলএফএসএলের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে তাঁর দেশে ফেরার জন্য ব্যবস্থা নিতে আবেদন করেন। আদালত তাতে অনুমতি দিলেও পি কে হালদার না ফেরায় ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ঢাকার জজ আদালত এরই মধ্যে পি কে হালদারের সব স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করারও আদেশ দিয়েছেন।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা