kalerkantho

সোমবার । ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ৮ মার্চ ২০২১। ২৩ রজব ১৪৪২

ডা. শাহাদাত ভোটের শেষটাও দেখতে চান

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

২২ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



ডা. শাহাদাত ভোটের শেষটাও দেখতে চান

২০১৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) শেষ নির্বাচনে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী এম মনজুর আলম ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ছেড়েছিলেন নির্বাচনী মাঠ। তবে সেই পথে হাঁটতে চান না এবারের ধানের শীষের প্রার্থী ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি ভোটের শেষ ছবিটাও দেখতে চান। এই নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে তাঁর দল। অন্যদিকে আওয়ামী লীগও মেয়রসহ দল সমর্থিত কাউন্সিলরদের বিজয় দেখতে মরিয়া। কয়েক দিন ধরে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় অনেক নেতা ভোটের মাঠে দলের মেয়র পদপ্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর পক্ষে ঘাম ঝরাচ্ছেন। ফলে চট্টগ্রামের ভোটে সরকারি দলও যে খুব সহজে জয়ের নৌকা তীরে ভেড়াবে, সেটাও হচ্ছে না।

প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মেয়র পদপ্রার্থী যেসব কেন্দ্রে নিজেদের ভোট বেশি, সেসব এলাকায় বেশি সময় দিচ্ছেন। তাঁদের অনুসারীরাও যার যার এলাকায় ভোট বেশি পেতে নানা কৌশলে প্রচারণা চালাচ্ছে। সে সঙ্গে কিছু কিছু এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠায় উভয় প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষও বাধছে।

এদিকে প্রচারণা শুরুর পর থেকে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী ও বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন নিয়ে একে অন্যকে দায়ী করে পাল্টাপাল্টি নালিশ করছেন নির্বাচন কার্যালয়ে। সেই অভিযোগের ফিরিস্তি এখনো চলমান।

পর্যবেক্ষক মহল মনে করে, নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি কঠোরভাবে মোকাবেলা করা না হলে আগামী বুধবার অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে দুই মেয়র পদপ্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। এত দিন ভোটের মাঠ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাউন্সিলর পদের আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও তাদের বিদ্রোহী প্রার্থীদের অনুসারীদের মধ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ডে সংঘাত চললেও সময় যত ফুরিয়ে আসছে বড় দুই দলের মেয়র প্রার্থীর সমর্থকরাও রগচটা হয়ে উঠেছে। গণসংযোগ ও প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি নির্বাচনী মাঠে নিজেদের আধিপত্য জানান দিতে হাঙ্গামায় জড়াচ্ছে।

সর্বশেষ গত বুধবার বিকেলে নগরের বাকলিয়া এবং রাতে কাজীর দেউড়ি এলাকা ও তার পাশে নগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনে সামনে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় বিএনপি নেতাদের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিএনপি এ ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, নগর বিএনপি কার্যালয় ও আশপাশে নৌকা মার্কার নির্বাচনী পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার সঙ্গে নৌকা ও দল সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ভেঙে দিয়েছে বিএনপি। এদিকে গত বুধবার বাকলিয়া, বিএনপি কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ এবং আকবর শাহ এলাকায় নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা চলাকালে হামলার ঘটনায় গতকাল বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মীর নামে তিনটি মামলা হয়েছে।

এর আগের কয়েক দিন নৌকা ও ধানের শীষের সমর্থকদের মধ্যে যোলশহর মেয়র গলি, রামপুরসহ কয়েকটি এলাকায় ধাওয়াধাওয়ি ও সংঘর্ষ হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপি ও আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীর সমর্থনে নগরের বিভিন্ন এলাকায় গতকালও শোডাউন হয়েছে।

উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নাসিমন ভবনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চসিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত বুধবারের ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছে। সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, তারা (আওয়ামী লীগ) এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, যাতে মানুষ নির্বাচনের আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, ভোটকেন্দ্রে না যায়। গেলেও তাদের (আওয়ামী লীগ) নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় পুরো নির্বাচন চলে। এ নির্বাচনের তো কোনো প্রয়োজন নেই।

অন্যদিকে গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা গত বুধবারের ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেছেন।

বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু বলেন, বিএনপি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কয়েক দিন আগেও বিএনপি কার্যালয়ে নিজেদের কর্মীরা ভাঙচুর করেছিল। তারা নির্বাচনে জেতার চেয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করছে বেশি।

আওয়ামী লীগ মেয়র পদপ্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া জানতে মুঠোফোনে গতকাল বেশ কয়েকবার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শতভাগ জয় লাভের জন্য মাঠে নির্বাচনী মাঠে নেমেছি। নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকব। নির্বাচনকে আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীনির্ভর রাজনৈতিক দল হওয়ায় তারা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমার প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে।’

এদিকে দুই মেয়র পদপ্রার্থীর প্রচারণা এখন তুঙ্গে উঠেছে। এর মধ্যে নিজেদের ভোট ব্যাংক সুরক্ষিত রাখতে উভয় প্রার্থীর সমর্থকরা রাত-দিন সমানে প্রচারণা চালাচ্ছেন। নগরের বৃহত্তর বাকলিয়া এলাকাটিকে বলা হয়, ‘বিএনপির ভোট ব্যাংক’। ওই এলাকায় বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থীর বাড়ি। তবে ওই এলাকার তিনটি ওয়ার্ডের মধ্যে এবার একটিতে আওয়ামী লীগ কাউন্সিলর পদপ্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে কোতোয়ালি-বাকলিয়া এই সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

এদিকে রামপুর ওয়ার্ডটি আওয়ামী লীগের ‘ভোট ব্যাংক’। সেখানে গত সপ্তাহে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থীর প্রচারণায় যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এর আগে গত সোমবার ষোলশহর এলাকায় প্রচারণা চলাকালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই এলাকাটি আওয়ামী লীগের ‘ভোট ব্যাংক’ হিসেবে পরিচিত।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই প্রার্থীর পাশাপাশি আরো পাঁচজন মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এসব প্রার্থী সমানে শেষ মুহূর্তের গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এ ছাড়া নির্বাচনে সাধারণ ওয়ার্ডের ৪০টিতে ১৭৩ জন এবং সংরক্ষিত ১৪টি ওয়ার্ডে ৫৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে সাধারণ ওয়ার্ডে ৬৩ জন এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ২৮ জন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। অন্যদিকে একটি সাধারণ এবং দুটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে বিএনপির পাঁচজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা