kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

সুনামগঞ্জে বিরল রায়

৪৯ শিশু নিজ বাড়িতে থেকে সংশোধনের সুযোগ পেল

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

২১ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



৪৯ শিশু নিজ বাড়িতে থেকে সংশোধনের সুযোগ পেল

সুনামগঞ্জের আদালতে পৃথক ৩৫টি মামলায় আসামি ছিল ৪৯ শিশু। তাদের বিরুদ্ধে এমন অপরাধের অভিযোগ ছিল, যা বিচারে প্রত্যেকের শাস্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বয়সগত কারণে অপরাধ বিবেচনা করে ওই শিশুদের আদালতে নিয়মিত হাজিরা থেকে মুক্তি দিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সব মামলা নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন আদালত। দণ্ডের বদলে ৪৯ শিশু এখন বাড়িতে মা-বাবা ও স্বজনদের সান্নিধ্যে থেকে নিজেদের সংশোধনের সুযোগ পেল। তবে এই সময় শিশুদের ১০টি শর্ত মানতে হবে।

গতকাল বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেন সব আসামি, তাদের অভিভাবক, আত্মীয়-স্বজন ও আইনজীবীদের উপস্থিতিতে এসব মামলায় ব্যতিক্রমী এই রায় ঘোষণা করেন।

ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট নান্টু রায় জানান, আদালত ৩৫টি শিশু অপরাধ মামলায় একসঙ্গে যুগান্তকারী একটি রায় দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, প্রবেশনের সময় অপরাধে জড়িত শিশুদের মা-বাবার আদেশ-নির্দেশ মেনে চলতে ও সেবাযত্ন করতে হবে; ধর্মীয় অনুশাসন মানতে ও ধর্মগ্রন্থ পাঠ করতে হবে; প্রত্যেককে কমপক্ষে ২০টি গাছ লাগাতে ও পরিচর্যা করতে হবে; অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে; ভবিষ্যতে তারা কোনো অপরাধে জড়াতে পারবে না। আর তাদের বাড়িতে গিয়ে এসব বিষয় তত্ত্বাবধান করবেন জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা।

আদালত উল্লেখ করেন, এই রায়ের ফলে ছোটখাটো অনেক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হলো। শিশুরা তাদের আপন ঠিকানা ফিরে পেল। মা-বাবার দুশ্চিন্তার অবসান হলো। তাঁরা আদরের সন্তানকে নিজের কাছে রেখে সংশোধনের সুযোগ পেলেন। তবে অভিভাবকদেরও শিশুদের সংশোধনের বিষয়ে নজর রাখতে হবে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রবেশনে দেওয়া এসব শিশুর বিরুদ্ধে মারামারিসহ বিভিন্ন সাধারণ অভিযোগ ছিল। আমলযোগ্য এসব অভিযোগের নিশ্চিত শাস্তির বিধানও ছিল।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা শাহ মো. শফিউর রহমান বলেন, ‘প্রবেশনকালে এই শিশুরা শর্তগুলো যথাযথভাবে পালন করছে কি না সেটির তত্ত্বাবধান করা আমার দায়িত্ব। পাশাপাশি অভিভাবকদের দায়িত্ব রয়েছে এসব শর্ত পালনে তাদের সহযোগিতা করা, পাশে থাকা। তিন মাস পর পর আদালতে এ বিষয়ে আমাকে প্রতিবেদন দিতে হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা