kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

গর্ভের মৃত শিশুর ডিএনএ পরীক্ষায় মায়ের খুনি ধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গর্ভের মৃত শিশুর ডিএনএ পরীক্ষায় মায়ের খুনি ধরা

২০১৪ সালের ৭ মার্চ রংপুরের পীরগঞ্জের জয়পুর এলাকার নবম শ্রেণি পড়ুয়া শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তারের (১৭) গলায় ফাঁস দেওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা ধরে অপমৃত্যুর মামলা করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ফাতেমা ৪০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। তাকে গলা টিপে হত্যার আলামতও মেলে। কিন্তু মিলছিল না হত্যার রহস্য, খুনির পরিচয়। দীর্ঘ সাত বছর পর ফাতেমার গর্ভের মৃত সেই সন্তানের পিতৃ-পরিচয় খুঁজতে গিয়ে ধরা পড়েছে হত্যাকারী।

অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ল্যাবে সন্দেহভাজন ১৩ জনের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। সম্প্রতি নিহতের চাচাতো ভাই হোসানুর জামান শিপন ওরফে টেক্কার (২৬) ডিএনএ মিলে যায়। সন্দেহভাজন আসামি টেক্কাকে সিআইডি আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেরিয়ে আসে যে ফাতেমাকে ধর্ষণ এবং পরে গর্ভবতী হওয়ায় তাকে হত্যা করেছেন টেক্কা। এরপর লাশ ঝুলিয়ে দেন। স্বীকারোক্তি পেয়ে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার দেখায়।

সিআইডি সূত্র জানায়, ফাতেমার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয় আপন চাচাতো ভাই টেক্কার। ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে একদিন দুপুরে বাড়ি ফাঁকা পেয়ে তাকে ধর্ষণ করেন টেক্কা। এতে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে ফাতেমা, কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেনি। এদিকে তার পেটে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে সন্তান। গর্ভের সন্তানের বয়স যখন সাত মাস তখন টেক্কা অন্য জায়গায় বিয়ে করেন। তার পরও ফাতেমা বিষয়টি টেক্কাকে জানাতে পারেনি। টেক্কাও বিয়ের পর ফাতেমার ডাকে আর সাড়া দেন না। এভাবে সময় গড়াতে গড়াতে গর্ভের সন্তানের বয়স যখন প্রায় ১০ মাস তখন টেক্কাকে রাতের বেলা ডেকে নিয়ে গর্ভের সন্তানের কথা জানায়। টেক্কা অনাগত সন্তানের বিস্তারিত শোনার পর উপায়-অন্ত না দেখে তাত্ক্ষণিক ফাতেমাকে গলা টিপে হত্যা করেন। এরপর তার মৃতদেহ রুমে ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে দেন।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (ফরেনসিক) রুমানা আক্তার বলেন, ‘ভিকটিমের গর্ভের সন্তানের পিতৃ-পরিচয় খুঁজতে গিয়েই মূলত ধরা পড়ে আসামি। আমরা ভিকটিমের গর্ভের বাচ্চার ডিএনএর সঙ্গে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ তিন ধাপে পরীক্ষা করি। এতে প্রথমে চারজন এবং পরে তিনজনের ডিএনএ টেস্ট করা হয়। কিন্তু তাতেও সন্তানের পিতৃ-পরিচয় মিলছিল না। পরে আরো ছয়জনের ডিএনএ টেস্ট করলে সেখানে ভিকটিমের চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে রিপোর্ট ম্যাচ করে। আর এভাবেই ভিকটিমের গর্ভের সন্তানের পিতৃ-পরিচয় তথা হত্যাকারীও চিহ্নিত হয়।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা