kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন

বাড়ছে স্নায়ুচাপ চলছে সংঘাত

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

২১ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বাড়ছে স্নায়ুচাপ চলছে সংঘাত

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ভোটের দিন যতই কাছে আসছে, প্রার্থীদের স্নায়ুচাপের পারদ ততই বাড়ছে। আর ছয় দিন পর আগামী বুধবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচন যে সংঘাতময় হয়ে উঠছে, তা প্রার্থীদের প্রচারণার গতিবিধিতেই সুস্পষ্ট হচ্ছে। এরই মধ্যে নির্বাচনী মাঠে লাশ দেখেছে চট্টগ্রাম। প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে হামলা-পাল্টাহামলা আর ভাঙচুরের মতো ঘটনা। এমনই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন সংঘাতহীন করতে নানা পরিকল্পনার ছক কষছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।

এদিকে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন শেষ করতে ৪২৩ কেন্দ্র পরিদর্শনে থাকবেন ২০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। নির্বাচন কমিশনের উপসচিব (আইন) আফরোজা শিউলী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানা গেছে। প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, ২৫-২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা।

গতকাল বুধবার বিকেলেও নগরের বাকলিয়ার বলিরহাটে প্রচারণার সময় যুবদলের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে যুবদলের ১০-১৫ জন আহত হওয়ার দাবি করে বিএনপির প্রচারণা সেলের সদস্যসচিব ইদ্রিস আলী বলেন, ‘পুলিশ মুখে নিরাপত্তার কথা বলছে, বাস্তবে ধানের শীষের প্রচারণায় হামলা অব্যাহত রয়েছে।’ তবে ইদ্রিস আলীর দাবির সমর্থন পাওয়া যায়নি বাকলিয়া থানার ওসি রুহুল আমীনের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের মিছিলে যুবদল হামলা করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। সেখান থেকে এক যুবদলকর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।’

এদিকে নিরাপত্তার ছক তৈরির পাশাপাশি মৌখিক নির্দেশনায় প্রার্থীদের প্রচারণার সময় পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর প্রচারণায় আগে থেকেই পুলিশের উপস্থিত লক্ষ করা যেত। দুই দিন ধরে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের প্রচারণায়ও পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে ডা. শাহাদাতের প্রচারণার সময় সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল। এসব ঘটনায় তিনি নির্বাচন কমিশনে অভিযোগও করেছিলেন।

দুই প্রার্থীর প্রচারণায় পুলিশের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করে সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, প্রার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালাতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই পুলিশ প্রচারণার সময় আশপাশে থাকছে।

গতকাল সিএমপি কার্যালয়ে বসে একজন উপকমিশনার বলেছেন, মূলত সংঘাত এড়ানোর জন্য প্রার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। অফিস আদেশ না দিয়ে মৌখিক নির্দেশনায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। সংঘাতের শঙ্কা নিয়ে প্রার্থীদের যাতে প্রচারণা চালাতে না হয়, সেই লক্ষ্যে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, নির্বাচনকে সংঘাতমুক্ত রাখতে সব ধরনের পরিকল্পনা হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত হলে ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। কিন্তু তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীরা মাঠে থাকায় নির্বাচনের পরিবেশ আদৌ শান্তিপূর্ণ রাখা যাবে কি না, সেই বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের মনে সংশয় আছে। এমন সংশয় থাকার পরও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে এখনো সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেনি সিএমপি। দিনে-রাতে বিভিন্ন স্থানে চৌকি বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কিন্তু তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান কোনো অভিযান নেই। যদিও পুলিশ কমিশনার একাধিক বক্তব্যে দাবি করেছেন, সন্ত্রাসী ও নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নেবে।

সিএমপির বিশেষ শাখার উপকমিশনার মো. আবদুল ওয়ারিশের কক্ষে গিয়ে দেখা গেছে তাঁর ব্যস্ততা। কথা বলার ফুরসতও যেন নেই। কেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েনের পরিকল্পনা, আশপাশের জেলা থেকে যে পুলিশ ফোর্স পাঠানোর কথা, তাদের বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য নেওয়াসহ নানা কার্যক্রম চলছিল।

পাশেই অতিরিক্ত উপকমিশনার মির্জা সায়েম মাহমুদের কক্ষ। তাঁর কক্ষের দরজায় একটি কাগজে ‘অনুমতি ছাড়া প্রবেশ নিষেধ’ লিখে স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই কক্ষের ভেতরই চলছে পুরো পরিকল্পনা সাজানোর কাজ।

উল্টো দিকে আরেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের কক্ষ। তাঁর কক্ষেই পাওয়া গেল মির্জা সায়েম মাহমুদকে। দরজার সামনে ‘প্রবেশ নিষেধ’ লিখে রাখার বিষয়ে বলেন, ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত আছি।’ কী কাজে এত ব্যস্ততা—প্রশ্নের জবাবে বললেন, ‘সিটি নির্বাচন।’ অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘নির্বাচনে নিরাপত্তায় প্রায় ৯ হাজার পুলিশ ফোর্স মোতায়েন হচ্ছে। এর মধ্যে ছয় হাজারের মতো সিএমপিতে আছে। বাড়তি তিন হাজার অন্য রেঞ্জের বিভিন্ন জেলা থেকে আসছে। সেই সব তথ্যই হালনাগাদ করতে হচ্ছে।’

আবার নির্বাচনের আগমুহূর্তে অন্য ইউনিট থেকে আসা প্রায় তিন হাজার ফোর্সের থাকা ও খাওয়ার বিষয়ে এবার নতুন নির্দেশনা দিয়েছেন সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর। আগামী সোমবার সন্ধ্যার মধ্যেই ফোর্সগুলোর চট্টগ্রামে পৌঁছার কথা। মঙ্গলবার সকালেই নির্বাচন কমিশন স্থানে পৌঁছতে হবে নির্বাচনকেন্দ্রের সরঞ্জাম বুঝে নিতে। এর আগে শুনতে হবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ব্রিফিং।

বিএনপি অফিসে হামলা : চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির প্রধান কার্যালয়ে গতকাল রাতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। অতর্কিত এই হামলার সময় বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনসহ নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। বুধবার রাত ১১টার দিকে কোতোয়ালি থানার নাসিমন ভবনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা