kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক

জুনের মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরুর ‘সতর্ক আশা’

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২০ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জুনের মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরুর ‘সতর্ক আশা’

চীনের অংশগ্রহণে মিয়ানমারের সঙ্গে বৈঠকের পর চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ আগামী এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর ব্যাপারে বাংলাদেশ সতর্কভাবে আশাবাদী বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন। গতকাল মঙ্গলবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে ভার্চুয়াল ওই বৈঠকের পর পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন এ আশার কথা জানান।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্র তৈরি করতে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক করবে। এ ছাড়া প্রত্যাবাসন সম্পর্কিত বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশ কাজ করবে।

ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বলব, আমরা সতর্কভাবে আশাবাদী। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’ তিনি বলেন, এবারের প্রত্যাবাসন উদ্যোগে যাতে সফল হওয়া যায় সে জন্য তাঁরা অতীতের দুটো ব্যর্থ উদ্যোগ থেকে শিক্ষা নিতে চান। তিনি জানান, প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে যাচাই-বাছাই দ্রুততর করা এবং অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যেও মিয়ানমারকে চাপ দিয়েছে বাংলাদেশ।

ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের পররাষ্ট্রসচিব বা সমপর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে প্রত্যাবাসনবিষয়ক বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করেন। মিয়ানমারের পক্ষে দেশটির আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক উপমন্ত্রী হাউ ডু সোয়ান এবং চীনের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার লুয়ো ঝাউহুই নেতৃত্ব দেন।

পররাষ্ট্রসচিব সাংবাদিকদের বলেন, অন্তত প্রক্রিয়াটি শুরু হওয়া প্রয়োজন। গত তিন বছরে জন্ম নেওয়া ৯০ হাজার রোহিঙ্গা শিশুসহ সব রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাতে অনেক সময় লাগবে। আরো জটিলতা আসতে পারে। তবে দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরুর কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেই (জানুয়ারি-মার্চ) প্রত্যাবাসন শুরুর প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে মিয়ানমার বলেছে, তাদের প্রস্তুতির জন্য আরো কিছু সময় প্রয়োজন। বিশেষ করে, আগামী এপ্রিলে মিয়ানমারের পার্লামেন্টে একটি বৈঠক আছে। এ বছরের মাঝামাঝি মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণও শেষ হবে।

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, দৃশ্যত প্রথম প্রান্তিকে প্রত্যাবাসন শুরু করা কঠিন হবে। প্রত্যাবাসন ইস্যুতে তাৎক্ষণিক যোগাযোগের জন্য দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মহাপরিচালক পর্যায়ে হটলাইন চালু করা হবে।

বৈঠকে রোহিঙ্গাদের গ্রামভিত্তিক প্রত্যাবাসনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে, মিয়ানমারের পক্ষ থেকে কক্সবাজারের ক্যাম্পে বসবাসকারী প্রায় আট লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গার মধ্যে এরই মধ্যে যাচাই করা ৪২ হাজার জনকে দিয়ে প্রত্যাবাসন শুরুর কথা বলা হয়েছে।

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘আমরা গ্রামভিত্তিক প্রত্যাবাসনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। কারণ, এতে নিজেদের গ্রামের বা এলাকার সবাই একসঙ্গে গেলে আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিরাপদ ও সুরক্ষিত বোধ করবে।’

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, রাতারাতি সমাধান হয়ে যাবে বলে তাঁরা মনে করেন না। আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা (আইএনজিও), আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়সহ সবাইকে সঙ্গে নিয়েই তাঁরা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় এগোতে চান। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারকে (আরআরআরসি) প্রত্যাবাসন অনুবিভাগ খুলতে চিঠি দিয়েছে। ওই অনুবিভাগ প্রত্যাবাসন বিষয়ে পুরোপুরি কাজ করবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকা থেকে সরাসরি এ কাজ করতে পারে না।

জানা গেছে, বৈঠকে মিয়ানমার পক্ষ এ দেশে জঙ্গিগোষ্ঠী আরসার (আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি) উপস্থিতির কথা জানিয়েছে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে সেখানে আইন-কানুন মানবে সে বিষয়েও আশ্বাস চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘আমরা বলেছি, আমরা আমাদের ভূখণ্ডে কোনো জঙ্গি বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী থাকতে দেব না। কিছু অপরাধী গোষ্ঠী আছে। কিন্তু তাদের কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক পরিচয় নেই।’

চীনের ভাইস মিনিস্টার যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গঠনমূলক সম্পৃক্ততার সারমর্ম তুলে ধরেছেন তখন মিয়ানমার পক্ষ বিরোধিতা করেনি। এর অর্থ এ বিষয়ে মিয়ানমার নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন।

চীনের ভাইস মিনিস্টার বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত পরিস্থিতি আরো জটিল না করে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করা। এই সমস্যা সমাধানে উন্নয়নকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, রাখাইনে বাস্তুচ্যুতি ইস্যুকে পুরোপুরি দ্বিপক্ষীয় বলে মনে করে চীন। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার—দুই দেশেরই বন্ধু হিসেবে চীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বৈঠকের ইতিবাচক ফলাফলে চীন খুশি। দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টায় সহায়ক আরো রাজনৈতিক ও অন্যান্য সহযোগিতা দিতে চীন প্রস্তুত আছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা