kalerkantho

সোমবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭। ১ মার্চ ২০২১। ১৬ রজব ১৪৪২

বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে উভয় সংকটে আ. লীগ

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১৯ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে উভয় সংকটে আ. লীগ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে বিজয়ী করতে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে মেয়র প্রার্থীর ভোট নিয়ে দলের নেতারা যতটা চিন্তিত, তার চেয়ে বেশি চিন্তিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের ভোট নিয়ে। কারণ বেশির ভাগ ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে উভয় সংকটে রয়েছে আওয়ামী লীগ।

দলের নেতারা বলছেন, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের বারবার হুঁশিয়ারির পর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বরাবর লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু এর পরও বিদ্রোহী প্রার্থীদের অনেককে নির্বাচনী মাঠে নিষ্ক্রিয় করা যায়নি। উল্টো বিদ্রোহীরা নিজেদের পক্ষে ভোট চেয়ে নির্বাচনী মাঠে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। সমান তালে তাঁরা প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

কয়েক দিন ধরে কেন্দ্রীয় নেতাদের কেউ কেউ বলছেন, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ। আবার মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার তাঁদের নেই। ব্যবস্থা গ্রহণের সম্পূর্ণ এখতিয়ার কেন্দ্রীয় কমিটির।

এদিকে প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে গতকাল সোমবার একাধিক গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দল সমর্থিত ৫৫টি সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। এর মধ্যে ১৮ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর হারুন অর রশিদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি ও সদস্যসচিব মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের যৌথ স্বাক্ষরে প্রকাশিত ‘নির্বাচনে চট্টগ্রামের উন্নয়নে শেখ হাসিনার প্রার্থীদের ভোট দিন’—এই শিরোনামে ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এম রেজাউল করিম চৌধুরীকে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে চট্টগ্রামের চলমান উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিন। একই সঙ্গে ৪১ জন সাধারণ ও ১৪ জন সংরক্ষিত মহিলা আসনে দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিজয়ী করতে আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হয়ে এলাকাভিত্তিক উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখুন। এর বাইরে আমাদের কোনো দলীয় প্রার্থী নেই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা গতকাল জানান, এটা এক ধরনের নির্বাচনী কৌশল। নানা হিসাব-নিকাশ চলছে ভোট নিয়ে। ভোটে কিভাবে দলীয় প্রার্থীদের বিজয় করা যায়, দলীয় মেয়র প্রার্থীর ভোটে যাতে কোনো প্রভাব না পড়ে, সেই সঙ্গে বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের কারণে আবার দল সমর্থিত প্রার্থীরা যাতে কোনো সমস্যায় না পড়েন। ভোটকেন্দ্রে ভোটার যাতে বেশিসংখ্যক উপস্থিত হয়। এসব নানা হিসাব-নিকাশ করে দলকে অগ্রসর হতে হচ্ছে। যদি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, অর্থাৎ সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয় তবে তাঁরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারেন। বহিষ্কার করলে মেয়র প্রার্থীর পাশাপাশি দল সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের ভোটেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ রকম নানা বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ চলছে।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আমাদের দলীয় প্রার্থীদের নাম প্রকাশের অর্থ হচ্ছে দল বিদ্রোহীদের সঙ্গে নেই। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থক সবাইকে দলের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করতে হবে। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আজ বা কাল চূড়ান্ত একটা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু বিদ্রোহী নয়, তাদের সমর্থনে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছে তাদের ব্যাপারেও কেন্দ্রে লিখিত এবং মৌখিকভাবে জানিয়েছি।’

একই কমিটির দপ্তর সম্পাদক হাসান মো. শমসের কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এরই মধ্যে আমরা ফ্যাক্সযোগে দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করে চিঠি পাঠিয়েছি। এরপর আমাদের একজন নেতা দুদিন আগে এসংক্রান্ত কাগজপত্র কেন্দ্রে নিয়ে গেছেন। বিদ্রোহীদের আমরা নানাভাবে বার্তা দিচ্ছি, তাঁরা যেন দলের ক্ষতি না করে নির্বাচনী মাঠে দল সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেন।’ নগর আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, এরই মধ্যে রামপুর ওয়ার্ডে এরশাদ উল্লাহ, সরাইপাড়ার অধ্যাপক হোসেন, এনায়েতবাজারে সাব্বির আহমদ, দক্ষিণ বাকলিয়ায় আবদুল মান্নান ও চকবাজার ওয়ার্ডে নূর মোস্তফা টিনুর পক্ষ থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কথা জানিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগ বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও ৮৬ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে সাধারণ ওয়ার্ডে ৫৮ জন, সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ২৮ জন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা