kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭। ২ মার্চ ২০২১। ১৭ রজব ১৪৪২

মাঠ ছেড়ে দেওয়ায় কেন্দ্র নাখোশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাঠ ছেড়ে দেওয়ায় কেন্দ্র নাখোশ

চলমান পৌর নির্বাচনে দলীয় মেয়র পদপ্রার্থী, সংশ্লিষ্ট এলাকার কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের জয় ছিনিয়ে আনতে কে কতটুকু ঘাম ঝরিয়েছেন সেটার হিসাব নেওয়া হচ্ছে। নিজস্ব সূত্র কাজে লাগিয়ে তৃণমূল থেকে এই আমলনামা তুলে আনছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই। সূত্রগুলো বলছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে তিনি দলের জন্য নিবেদিত, পরিশ্রমী নেতাদেরই মূল্যায়ন করবেন। আর যেসব প্রার্থী নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েও মাঠে থাকছেন না তাঁদের তালিকাও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা সদ্যঃসমাপ্ত পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পারফরম্যান্সে তেমন একটা খুশি নন। তাঁরা মনে করছেন, প্রার্থীদের আরেকটু তৎপর হওয়া দরকার ছিল। তাঁদের মতে, নির্বাচনী প্রচারণায় তাঁদের সক্রিয় ভূমিকা থাকলেও ভোটের দিন তাঁদের তৎপরতা ছিল একেবারেই কম। নেতাদের মতে, ক্ষমতাসীন দল ও প্রশাসন বিএনপির পক্ষে কাজ করবে না, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেটি বুঝে অনেকে আগেই হাল ছেড়ে দিয়েছেন। আগামী নির্বাচনগুলোতে এ বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা হবে বলে সূত্রগুলো বলছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচনে কী হচ্ছে? বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা দখল ও ডাকাতি করে নিয়ে গেছে। এমনকি খুন পর্যন্ত হয়েছে সিরাজগঞ্জে। গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রকেই তারা আজকে নষ্ট করে ফেলেছে নিজেরা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য, একদলীয় শাসনব্যবস্থাকে পোক্ত করার জন্য।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘ভোট জালিয়াতি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দৈন্যতা। যদি সৎ সাহস থাকে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করুক। সেটি করবে না, কারণ করলেই ভরাডুবি নিশ্চিত। আর আমাদের যেসব প্রার্থী পৌর নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তাঁরা যে সবাই শেষ পর্যন্ত মাঠে থেকেছেন সেটিও বলা যাবে না। যাঁরা শেষ পর্যন্ত থেকেছেন তাঁরা কেউ কেউ জয়ী হয়েছেন। সব বিষয়ই কেন্দ্র থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, যেসব প্রার্থী মাঠে থাকেননি কিন্তু মনোনয়ন পেয়েছেন তাঁদের তো অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। বিশেষ করে তৃণমূলের সুপারিশের ভিত্তিতেই এই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সুপারিশ করা নেতাদের কাছেও নির্বাচনের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন চাওয়া হবে।

দ্বিতীয় ধাপের পৌর নির্বাচনে বগুড়ার সান্তাহার থেকে নির্বাচিত দলের প্রার্থী তোফাজ্জাল হোসেন তাঁর এবারের নির্বাচনের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, এবার প্রশাসন তুলনামূলক নিরপেক্ষ ছিল। তবে ভোটের দিন মোড়ে মোড়ে ক্ষমতাসীনরা ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দিয়েছে। বিশেষ করে পুরুষ ভোটারদের কেন্দ্রে যেতেই দেওয়া হয়নি। তবে যাঁরা ভোটকেন্দ্রে যেতে পেরেছেন তাঁরা ভোট দিতে পেরেছেন।

আগামী ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় ধাপে হবে এমন পৌর নির্বাচনে পাবনার সুজানগরের প্রার্থী কামরুল হুদা বলেন, ‘মনোনয়নপত্র কেনার পর থেকেই বাধা আসছে। সর্বশেষ শনিবারও ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে আমার বাসায় হামলা হয়েছে। তারা বলছে, দেড় কোটি টাকায় নমিমেশন কিনে এনেছি। তুমি প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবে না। স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচনী অফিসকে জানানো হলেও তারা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’

বিএনপির একাধিক নেতা প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের পৌর নির্বাচনকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন, এবার পৌর নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কেন্দ্র কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। বরং যোগ্য, ত্যাগী ও স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য নেতাদের তুলে আনতে তৃণমূল শীর্ষ নেতাদের গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের সুপারিশ করা তালিকা কেন্দ্র শুধু অনুমোদন করেছে। নির্বাচনে ভালো ফল করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ফল ভালো করতে ঢাকার শীর্ষ নেতা ও সংশ্লিষ্ট জেলা কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের বলা হয়েছিল নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে কাজ করতে। সেটি অনেকেই করেননি। কেন্দ্রীয় নেতারা স্থানীয় পর্যায়ে গেলে ফল কিছুটা হলেও ভালো হয়, তার প্রমাণ দিনাজপুর সদর। সেখানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দিনভর বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম চালিয়েছেন। ফলে সেখানে অনিয়ম কমেছে এবং দল ঘোষিত প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম জয়ী হয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা