kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭। ৪ মার্চ ২০২১। ১৯ রজব ১৪৪২

কাকরাইলে মা-ছেলে হত্যা

দ্বিতীয় স্ত্রী শ্যালকসহ গৃহকর্তার মৃত্যুদণ্ড

সন্তান হত্যার জন্য মৃত্যুদণ্ডই প্রাপ্য : আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দ্বিতীয় স্ত্রী শ্যালকসহ গৃহকর্তার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর কাকরাইলে মা ও ছেলের হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় গৃহকর্তা আবদুল করিমসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। নিহতরা হলেন আবদুল করিমের প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহার করিম (৪৬) ও তাঁর ছেলে শাওন। রায়ে আসামিদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। দণ্ডিত অন্য দুজন হলেন আবদুল করিমের দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন মুক্তা ও মুক্তার ভাই আল-আমিন ওরফে জনি।

ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলমের আদালত গতকাল রবিবার এই রায় ঘোষণা করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁদের এজলাসে তোলা হয়। এরপর তাঁদের উপস্থিতিতে বিচারক রায় পড়া শুরু করেন। রায় পড়া শেষে সকাল ১১টা ৪৩ মিনিটে বিচারক রায় ঘোষণা করেন।

গত ১০ জানুয়ারি আসামি আবদুল করিমের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য গতকাল রবিবার দিন ধার্য করেন। এর আগে গত বছরের ৯ ডিসেম্বর দুই আসামি শারমিন আক্তার মুক্তা ও মুক্তার ভাই আল-আমিন ওরফে জনির পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে নির্দোষ দাবি করে তাঁদের খালাস চান আসামিপক্ষের আইনজীবী। এর আগে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে তিন আসামির সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন। গত বছরের ১২ নভেম্বর তিন আসামি আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।

রায়ের পর্যাবেক্ষণে আদালতের বিচারক বলেন, ‘সন্তান হলো পিতার কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত ও শ্রেষ্ঠ আশ্রয়স্থল। সেই সন্তানকে পিতা অন্যদের সহযোগিতায় হত্যা করে যে জঘন্যতম অপরাধ করেছেন তার জন্য মৃত্যুদণ্ডই একমাত্র প্রাপ্য। তাই তিনজনকেই মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হলো।’

এদিকে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সালাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘রায় দ্রুত কার্যকর হবে এমন প্রত্যাশা আমাদের।’ মামলার বাদী আশরাফ আলী বলেন, ‘অনেক হুমকি-ধমকি পেরিয়ে আজ বোন ও ভাগ্নে হত্যার বিচার পেয়েছি। রায়ে আদালত আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এতে আমরা সন্তুষ্ট। এখন দ্রুত এই রায় কার্যকর হওয়া দেখতে চাই।’

মামলার অভিযোগে যা বলা হয় : ২০১৭ সালের ১ নভেম্বর কাকরাইলের পাইওনিয়র গলির ৭৯/১ নম্বর বাসায় শামসুন্নাহার করিম ও তাঁর ছেলে শাওনকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পরদিন রাতে নিহত শামসুন্নাহারের ভাই আশরাফ আলী বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় নিহতের স্বামী আবদুল করিম, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন মুক্তা ও মুক্তার ভাই জনিসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা আবদুল করিম ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মডেল শারমিন মুক্তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর ওই বছরের ৩ নভেম্বর গোপালগঞ্জ থেকে মামলার মূল আসামি জনিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা