kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

ভারতে টিকা প্রয়োগ শুরু

বিতরণে বৈষম্য হচ্ছে : জাতিসংঘ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভারতে টিকা প্রয়োগ শুরু

পাশের দেশ ভারতে কভিড-১৯-এর টিকা প্রয়োগ শুরু হয়েছে। নয়া দিল্লিতে এক স্বাস্থ্যকর্মীর শরীরে প্রয়োগের মধ্য দিয়ে গতকাল শনিবার এই কার্যক্রম শুরু করে মোদি সরকার। অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত এই টিকা উৎপাদন করছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট। টিকা নিয়ে কোনো ধরনের গুজবে কান না দিতে ভারতীয়দের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

টিকা বিতরণে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেছেন, অনেক ধনী দেশে টিকা প্রয়োগ শুরু হলেও গরিব দেশগুলোর অপেক্ষা শেষ হচ্ছে না।

এদিকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় গত শুক্রবার এ ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

ভারতের মোট জনসংখ্যা ১৩০ কোটির মতো। এর মধ্যে ৩০ কোটি মানুষকে আগামী জুলাইয়ের মধ্যে করোনার টিকা দেবে ভারত সরকার। গতকাল শনিবার প্রথম দিন টিকা দেওয়া হয় তিন লাখ মানুষকে। প্রথমে স্বাস্থ্যকর্মী, গুরুতর অসুস্থ ও পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের টিকা দেওয়া হবে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন উপলক্ষে ভারতের বিভিন্ন হাসপাতাল ফুল দিয়ে সাজানো হয়। টিকা দেওয়ার জন্য মুম্বাইয়ের ১৫ হাজার শয্যার ফিল্ড হাসপাতালে বসানো হয়েছে ১৫টি বুথ। এসব বুথে কাজ করছেন প্রায় এক হাজার স্বাস্থ্যকর্মী। এই বুথে প্রথম টিকা দেওয়া হয় এক নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে।

টিকা প্রয়োগ শুরু হওয়ায় ভারতের কোটি কোটি মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফিজিওথেরাপিস্ট স্মিতা রিংগানেকার বলেন, ‘বাড়িতে আমার বৃদ্ধ মা-বাবা আছেন। তাঁরা যাতে সংক্রমিত না হন, সে জন্য আমি কয়েক মাস ধরে আবাসিক হোটেলে থেকে দায়িত্ব পালন করছি। আশা করি শিগগিরই আমার বাড়ি ফেরার অপেক্ষা শেষ হবে।’

কলকাতা শহরের শান্তা রায় নামে এক স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, ‘আমি অনেক মানুষকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মরতে দেখেছি। এখন আশার একটা আলো দেখা যাচ্ছে।’

গতকাল সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে টিকা কর্মসূচি উদ্বোধন করেন নরেন্দ্র মোদি। এ সময় তিনি অল্প সময়ের মধ্যে করোনার টিকা আবিষ্কার করায় গবেষক ও বিজ্ঞানীদের ধন্যবাদ জানান। এ ছাড়া টিকা প্রয়োগ শুরু হলেও জনসাধারণকে আগের মতোই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

ভারতে কয়েক মাস ধরে সংক্রমণের হার অনেকটাই কম। কমেছে মৃত্যুহারও। গত শুক্রবার দেশটিতে মৃত্যু হয় ১৭৫ জনের। যদিও দেশটিতে দিনে চার হাজার মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ভারতে উৎপাদিত করোনার টিকা পেতে যাচ্ছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। এরই মধ্যে বিশেষ একটি বিমান ব্রাজিল থেকে মুম্বাইয়ে পৌঁছেছে। বিমানটি ২০ লাখ টিকা নিয়ে চলতি সপ্তাহেই ব্রাজিলে ফিরবে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য প্রিন্ট’ জানায়, টিকা পেতে নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখেছিলেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারো। এরপর চলতি মাসের শুরুতে মোদি সরকারের সঙ্গে ব্রাজিলের একটি চুক্তি চূড়ান্ত হয়। ওই চুক্তির অধীনেই ‘বিশেষ মূল্যে’ টিকা পেতে যাচ্ছে ব্রাজিল।

এদিকে করোনার টিকা বিতরণে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘বিজ্ঞান সফল হয়েছে, কিন্তু আমাদের ঐক্যের চেষ্টা ব্যর্থতায় রূপ নিচ্ছে। আমরা টিকার  হাহাকার দেখতে পাচ্ছি। ধনী দেশগুলোতে টিকা প্রয়োগ শুরু হয়েছে, কিন্তু গরিব দেশগুলোতে টিকার কোনো খবর নেই।’ কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে গুতেরেস বলেন, ‘কিছু দেশ টিকা কিনতে গোপনে চুক্তি করছে। যদিও এসব দেশের টিকার ঘাটতি নেই।’ তিনি আরো বলেন, ‘নিজ দেশের জনগণের টিকা নিশ্চিত করা অবশ্যই সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু জাতীয়তাবাদী চিন্তাকে প্রাধান্য দিলে করোনার বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াইয়ে সহজে জেতা সম্ভব হবে না।’

বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের ২১৯টি দেশ ও অঞ্চলে শনাক্ত কভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ৯ কোটি ৪৪ লাখ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে গত শুক্রবার আক্রান্ত হয় সাত লাখ ৬১ হাজার ৪৪৭ জন। মৃতের সংখ্যা ২০ লাখ ২০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে শুক্রবার মৃত্যু হয় ১৪ হাজার ৮৮৫ জনের। সেরে ওঠার সংখ্যাও কম নয়, ছয় কোটি ৭৪ লাখের বেশি। চিকিৎসাধীন আছে প্রায় দুই কোটি ৪৯ লাখ মানুষ। এদের মধ্যে মৃদু উপসর্গ রয়েছে দুই কোটি ৪৮ লাখ মানুষের (৯৯.৫ শতাংশ)। বাকিদের (দশমিক ৫ শতাংশ) অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিশ্বে প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১২ হাজার ১১৩ জন। আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুহার ৩ শতাংশ। সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা