kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

পোশাক খাতে করোনার প্রভাব

সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা সিপিডির

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা সিপিডির

করোনা সংক্রমণে দেশের তৈরি পোশাক খাতে সৃষ্ট সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠানটি গতকাল শনিবার এর জরিপ প্রতিবেদন তুলে ধরে এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে।

জরিপের ফল প্রকাশ উপলক্ষে গতকাল ভার্চুয়াল মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিপিডির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান।

প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন,  কভিড-১৯-এর প্রভাবে দেশের সরবরাহব্যবস্থা এতটাই ভেঙে পড়েছিল, যা ২০০৭-০৮ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দাকেও হার মানায়। ফলে গত বছরের এপ্রিল-মে মাস থেকে দেশের পোশাকশিল্প গভীর সংকটে। করোনার প্রথম ধাপে পোশাক খাতে ৯৩ শতাংশ অর্ডার কমে গিয়েছিল। ৪০ থেকে ৪২ শতাংশ চাহিদার সংকট তৈরি হয়। বিক্রি কমে গিয়েছিল ৭৯ শতাংশের মতো। সংকট উত্তরণে সরকারের নানা উদ্যোগ থাকলেও রাজস্ব সীমাবদ্ধতা ছিল।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘বতর্মান সংকট থেকে উত্তরণেও সব অংশীজনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নতুন বাজার ও ক্রেতা খুঁজতে হবে। আমার আশা, সরকার নতুন প্রণোদনাসহ আগের দেওয়া ঋণের সময় বাড়াবে। তিনি একতরফা শ্রমিক ছাঁটাই না করতে মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

ঢাকায় নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত হ্যারি ভারবাইজ বলেন, করোনার এই সময়ে অনেক ক্রেতা পণ্যের দাম কমিয়ে দিয়েছে, যা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তবে সরকার তাদের অনুরোধ করেছিল না কমাতে। ক্রেতাদের বাধ্য করা যায় না।

বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক বলেন, করোনার প্রথম ধাপে চায়নিজ নববর্ষ থাকায় সরবরাহব্যবস্থায় একটা বড় ধাক্কা আসে। এ সময় ১৬ শতাংশ রপ্তানি আয় কমেছে। তবে সরকারের সহায়তায় এক হাজার ৯৫৫টি পোশাক কারখানার মধ্যে এক হাজার ৩৫৫টিতে শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন বলেন, করোনাকালে দুই লাখ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। আইন অনুসারে কারখানা লে-অফ রাখার সময়সীমা ১৫ থেকে ৪৫ দিন হলেও অনেক মালিক তা চার থেকে ছয় মাস করছেন।

ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান এইচ অ্যান্ড এমের বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইথিওপিয়ার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক জিয়াউর রহমান শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর পরামর্শ দেন। শ্রমিক নেতা তৌহিদুর রহমান বলেন, কারখানা মালিকরা ৭০ শতাংশ শ্রমিক দিয়ে শতভাগ কাজ করিয়ে নিচ্ছেন।

সিপিডির বিশিষ্ট ফেলো মুস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন শ্রমসচিব কে এম সোবহান, বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কস সলিডারিটির (বিসিডাব্লিউএস) নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, বাবুল আকতার, বিজিএমইএর সহসভাপতি আরশাদ জামাল দিপু প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা