kalerkantho

শনিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৪ রজব ১৪৪২

সালেপুর ব্রিজে ফাটল

মেরামতে লাগতে পারে ১০-২০ দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

১৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেরামতে লাগতে পারে ১০-২০ দিন

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের আমিনবাজার এলাকার সালেপুর ব্রিজে ফাটল এবং এক পাশ দেবে যাওয়ায় ওই পাশ বন্ধ করে আরেক পাশ দিয়ে যান চলাচল করছে। ফলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্রিজটি মেরামত করতে অন্তত ১০ থেকে ২০ দিন সময় লাগতে পারে।

গতকাল শুক্রবার ঘটনাস্থলে গেলে ঢাকা-সাভারগামী মৌমিতা পরিবহনের চালক হেদায়েতুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আইজ (শুক্রবার) মাত্র একটা ট্রিপ দিছি। এরাম যদি আরো কয়দিন যানজট চলে, তয় আমরার না খাইয়া মরতে লাগবো।’

আমিনবাজারে সালেপুর ব্রিজের দুটি অংশ। ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক প্রশস্ত করার সময় নব্বইয়ের দশকে সাভার থেকে ঢাকাগামী দুই লেনের ব্রিজ লাগোয়া আরেকটি নতুন ব্রিজ তৈরি করা হয়। পুরনো ব্রিজটির নিচে এক পাশের বিমে ফাটল দেখা দিয়েছে। গত বুধবার সড়ক ও জনপথ (সওজ) ব্রিজটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে এক লেন বন্ধ করে দেয়। ফলে ব্যস্ততম মহাসড়কটিতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সালেপুরে দুই লেনের ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে ১৯৫০ সালের দিকে। প্রায় ৭০ বছর বয়সী ব্রিজটিতে লোডের কারণে ফাটল দেখা দিয়েছে। মেইনটেন্যান্স এবং বিশেষজ্ঞ ও টেকনিক্যাল টিম ব্রিজটির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছে। এ নিয়ে জরুরি সভা করা হয়েছে। সভায় ব্রিজটি কিভাবে মেরামত করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

সবুজ উদ্দিন খান আরো বলেন, ‘মেরামত দুইভাবে হতে পারে। একটা হচ্ছে, ব্রিজটিকে এই অবস্থায় রেখে তার ওপর যেন যানবাহন চলাচল করতে পারে। সে ক্ষেত্রে এটি মেরামত করতে ১০ থেকে ২০ দিন সময় লাগতে পারে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি যেন শনিবারের (আজ) মধ্যে ব্রিজটি দিয়ে বাস, প্রাইভেট কারসহ অন্যান্য হালকা যানবাহন চলাচল করতে পারে। দ্বিতীয়টি হলো, এই সেতুর পাশে আমাদের চার লেনের একটি নতুন সেতু নির্মাণের দরপত্র এরই মধ্যে আহ্বান করা হয়েছে। এটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়। অনুমোদন পেলে চার লেনের নতুন একটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।’

গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ব্রিজটির এক পাশ দেবে গেছে। গত বৃহস্পতিবার ব্রিজটির উভয় দিকে আট থেকে ১০ কিলোমিটার যানজট দেখা গেলেও গতকাল গাড়ির চাপ কম হওয়ায় যানজট কিছুটা কম ছিল। ঢাকা থেকে বের হওয়ার সময় এবং ঢাকার দিকে প্রবেশের সময় সেতুর উভয় মুখে ১৫ থেকে ২০ মিনিট গাড়িগুলোকে অপেক্ষায় রাখা হচ্ছে।

ঢাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মারুফ হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই ব্রিজ দিয়ে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। তাই প্রাথমিকভাবে প্রকৌশলী ও পরামর্শকদের নিয়ে সেতু পরিদর্শন শেষে চার দিন আগে লেন বন্ধ রাখার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’

সাভার হাইওয়ে থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘যানজট নিরসনে পুলিশ কাজ করছে। তবে উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের জেলার পরিবহনের চাপ থাকায় যানজট তৈরি হচ্ছে। সংস্কারের জন্য ব্রিজটির এক লেন বন্ধ করা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব নিয়ে পরিবহন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা