kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ মাঘ ১৪২৭। ২১ জানুয়ারি ২০২১। ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এইচআরডাব্লিউ

মহামারির অজুহাতে দমন-পীড়ন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহামারির অজুহাতে দমন-পীড়ন

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার বাকস্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ এবং সমালোচকদের দমন-পীড়নে কভিড মহামারিকে ব্যবহার করেছে বলে অভিমত জানিয়েছে নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ)। ২০২১ সালের বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এইচআরডাব্লিউ এই অভিমত ব্যক্ত করে বাংলাদেশকে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম বন্ধ এবং রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর ভাসানচর থেকে কক্সবাজারে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে।

এইচআরডাব্লিউ অভিযোগ করেছে, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ২০২০ সালে সাংবাদিক, শিল্পী, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, বিরোধী রাজনৈতিক সদস্যদের গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা সরকারের মহামারি মোকাবেলার উদ্যোগ বা ক্ষমতাসীন দলের সমালোচনা করেছিলেন।

এইচআরডাব্লিউর এশিয়া অঞ্চলবিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, ‘২০২০ সালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দেখিয়েছে যে বৈশ্বিক মহামারির মধ্যে কর্তৃত্ববাদী নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে তারা কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।’ তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে শিশুরা কী লিখল আর কার্টুনিস্টরা কী আঁকল তা নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চিন্তিত না হয়ে বরং তাদের কর্তৃপক্ষ এই মহামারির মধ্যে কী ধরনের নিপীড়ন চালিয়েছে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।’

এইচআরডাব্লিউ তার ৭৬১ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। প্রতিবেদনে এইচআরডাব্লিউর নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রথ লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতিতে মানবাধিকারের প্রতি সম্মানের বিষয়টি এমনভাবে থাকা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে মানবাধিকারের প্রতি কম অঙ্গীকারবদ্ধ প্রশাসন এলেও তা টিকে থাকে। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়টি কার্যত পরিত্যাগ করলেও অন্য অনেক দেশের সরকার অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে। তাই বাইডেন প্রশাসনের উচিত মানবাধিকার রক্ষার উদ্যোগ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়া নয় বরং নতুন সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যোগ দেওয়া।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, কয়েকটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর প্রতিবাদ বিক্ষোভ নারী ও শিশুর ওপর ব্যাপক মাত্রার সহিংসতার বিষয়ে সবার নজর কেড়েছে। সাধারণত এ ধরনের অপরাধীদের বিচার হয় না। এনজিওগুলো কভিড-১৯ লকডাউনের সময় বাড়িঘরে সহিংসতা বাড়ার তথ্য দিয়েছে। সত্যিকারের সংস্কার আনার দাবি থাকলেও সরকার তাড়াহুড়া করে ধর্ষণের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন সংশোধন করেছে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীর (পিপিই) অপ্রতুলতা এবং গুরুত্বপূর্ণ সেবা পেতে দুর্নীতির অভিযোগও এইচআরডাব্লিউর প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, কভিড-১৯ নিয়ে ‘গুজব’ মোকাবেলায় নজরদারি বাড়িয়ে, এ নিয়ে কথা বলা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের চুপ করিয়ে দিয়ে সরকার পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে। এইচআরডাব্লিউর তথ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তারের হার নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মানহানিকর ফেসবুক স্ট্যাটাসের জন্য পুলিশ এক শিশুকেও গ্রেপ্তার করেছে। কভিড মহামারির কারণে কর্তৃপক্ষ ২৩ হাজারেরও বেশি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের সমালোচনার কারণে যারা আটক হয়েছে, তারা এই সুযোগ পায়নি।

সরকার গুম, নির্যাতন ও মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ কমিটিগুলোর উদ্বেগ অগ্রাহ্য করে গুমের কথা নাকচ করে আসছে। বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ থাকার পরও নিরাপত্তা বাহিনীগুলো প্রায় দায়মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে। তবে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ খানের মৃত্যুর পর কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। এইচআরডাব্লিউ বলেছে, সিনহা হত্যার পর ‘ক্রসফায়ারের’ নামে বিচারবহির্ভূত হত্যা নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়া প্রমাণ করে যে কর্তৃপক্ষ চাইলে এটি বন্ধ করা সম্ভব।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা