kalerkantho

শনিবার। ২ মাঘ ১৪২৭। ১৬ জানুয়ারি ২০২১। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বিশেষজ্ঞ মত

নতুন প্রজন্মের মনোজগৎকে শিক্ষিত করা যাচ্ছে না

ড. মেহতাব খানম

১০ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন প্রজন্মের মনোজগৎকে শিক্ষিত করা যাচ্ছে না

এককথায় বলতে গেলে আমাদের গোড়ায় গলদ। অর্থাৎ আমরা দেশের নতুন প্রজন্মের মনোজগৎকে শিক্ষিত করতে পারছি না। সার্টিফিকেটের পড়াশোনা মানেই শিক্ষা না। নৈতিক শিক্ষাই আসল শিক্ষা। এটা যেমন পরিবারের, তেমনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের। এখন মা-বাবা কুলিয়ে উঠতে পারছেন না, শিশুদের মনোজগৎ সুরক্ষায় কিংবা সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারছেন না। স্কুলে শিক্ষকরাও সঠিকভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত না। তাঁরাও সার্টিফিকেটের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চাকরি নেন। ফলে তাঁরাও শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষায় এগিয়ে নিতে পারেন না।

এর মধ্যে করোনার প্রভাবে এখন অনলাইন শিক্ষার নামে শিশু ও টিনএজারদের বিপথগামী হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে। যে শিশুরা স্কুলেই সরাসরি শিক্ষকের সামনে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে না, তার কাছ থেকে কী করে আমরা অনলাইনে পড়াশোনার আশা করছি। আর টিনএজাররা তো বয়সের কারণে, হরমোনের প্রভাবে এমনিতেই একটু সেক্সুয়াল আকর্ষণে থাকবে। সেটা দেখভাল করার উপায় আমরা সঠিকভাবে অভিভাবকদের শেখাতে পেরেছি, পারিনি। যদি তাই না পারি, অভিভাবকরা কি ঠিকমতো দেখতে পারছেন তাঁর টিএনএজার সন্তানটি পড়াশোনার নামে কী করছে? আবার অভিভাবকদের মধ্যেও তো নানা রকম অবক্ষয় আছে। এখন যেভাবে সবাই ধনী হয়ে যাচ্ছেন রাতারাতি, তাঁদের এই ধনী হওয়ার উৎস কতটা সততাপূর্ণ সেটা নিয়েও তো প্রশ্ন আছে। যদি কোনো পরিবারে অসততার মাধ্যমে আভিজাত্য বা বিলাসিতার আশ্রয় নেওয়া হয়, তবে সেই পরিবারের সন্তানরাও তো সঠিক পথে না চলা এবং সঠিক শিক্ষা বা নৈতিক শিক্ষা না পাওয়ার কথা।

আমরা এখন যে শিশুর ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন সেটা তো আমাদের সমাজেরই অবক্ষয়ের চরম এক পরিণতি। এটা তো তাদের একার দায় নয়। আমি তো আজ কেঁদে ফেললাম যখন দেখছি মেয়েটির সহপাঠীরা ছোট ছোট শিশু-কিশোর রাস্তায় নেমে বিচার চায়। কিন্তু কার বিচার চায়, কেন বিচায় চায়, তাদের কেন বিচার চাইতে রাস্তায় নামতে হবে! এটা আমাদের দেশের, রাষ্ট্রের, সমাজের—সবার দায়। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো যৌন শিক্ষার মাত্রা বাড়াতে পারেনি। পরিবারে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় না। পরিবারের অভিভাবকরা শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সময়মতো ভাবেন না, সময়মতো তাদের মনোজগৎ বুঝতেও চেষ্টা করেন না। কোনো সমস্যা আছে কি না সেটা জানতে চান না। ফলে সব মিলিয়ে এই খারাপ পরিস্থিতির মুখে আমরা পড়েছি।

লেখক : মনোবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক

মন্তব্য