kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ মাঘ ১৪২৭। ২১ জানুয়ারি ২০২১। ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ভারী হয়ে উঠছে চট্টগ্রাম শহরের বাতাস

মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম    

৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারী হয়ে উঠছে চট্টগ্রাম শহরের বাতাস

পাহাড়, সমুদ্র ও নদীর শহর চট্টগ্রাম আর আগের মতো নেই। নিয়ম না মেনে উন্নয়নকাজ করার কারণে অনেক আগে থেকেই মাত্রাতিরিক্ত দূষণের শিকার এই শহর। চলতি শীত মৌসুমেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ধুলাবালি, ধোঁয়ার সঙ্গে নগরের বাতাসে বাড়ছে ব্ল্যাক কার্বন, যা শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগের সংক্রমণ বাড়াচ্ছে। করোনাকালে এমন পরিস্থিতি স্বাস্থ্যঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে, যা থেকে পরিত্রাণ পেতে মাস্ক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অবশ্য তাঁরা বলছেন, চট্টগ্রামে বায়ুদূষণের মাত্রা ঢাকার চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম।

পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের গবেষণা বিভাগের পরিচালক ইশরাত রেজা কালের কণ্ঠকে জানান, তাঁদের বিভাগটি প্রতিদিনই চট্টগ্রাম নগর ও নগরীর আশপাশের এলাকায় বাতাসে দূষণের মাত্রা পরিমাপ করে থাকে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, নগরের বায়ুদূষণ বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে বাতাসে ধূলিকণার (পিএম২.৫) মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নগরবাসীর স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

সূত্র জানায়, পরিবেশ দপ্তর গবেষণা বিভাগ প্রতিমাসকে তিন ভাগে ভাগ করে বাতাসে ধূলিকণার (পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম) মাত্রা পরিমাপ করে থাকে। গত নভেম্বর মাসের প্রথম দশ দিনের চেয়ে মধ্য ও শেষ দশ দিনে পিএমের মাত্রা ছিল অনেক বেশি। তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নভেম্বরের মধ্য দশ দিনে ( ১১ থেকে ২০ তারিখ) পিএম২.৫-এর মাত্রা ছিল ৯৭.৭৯ পিপিএম এবং পিএম ১০ ছিল ৯৯.৬৯ পিপিএম। শেষ দশ দিনেও এই দুই ধরনের ধূলিকণার মাত্রা প্রায় একই ছিল।

পরিবেশ অধিদপ্তরের গবেষণা বিভাগ বলছে, চট্টগ্রামের বাতাসে পিএম১০ ও পিএম২.৫-এর মাত্রা মানুষের সহনীয় মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। শীতে বৃষ্টি না হওয়ায় ক্ষুদ্র ধূলিকণা ও গাড়ির কালো ধোঁয়া বাতাসে ভেসে বেড়ায়। এ ছাড়া নানা কারণে বাতাসে ব্ল্যাক কার্বনের মাত্রাও বেড়ে গেছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক সংস্কার, সম্প্রসারণ ও রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বেড়েছে। ইটভাটার কালো ধোঁয়াও বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ।

নগরীর বহদ্দারহাট, কালুরঘাট সড়ক, বাকলিয়া, নন্দনকানন, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, হালিশহর,  বড় পুল এলাকা, বন্দর সংযোগ সড়ক, বন্দর, পতেঙ্গা ইপিজেড থানা এলাকাসহ অনেক জায়গায় অসহনীয় ধুলাবালি উড়ছে। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অধীনে নালা সংস্কার বা নালা-নর্দমা পরিষ্কারের সময় তোলা মাটি নালার পারেই ফেলে রাখা হচ্ছে দিনের পর দিন। সেখান থেকেও ধুলাবালির সৃষ্টি হচ্ছে। ওয়াসার পাইপলাইন সংস্কারের কারণে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. দানেশ মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, চট্টগ্রাম শহরে বিভিন্ন সংস্থার উন্নয়নমূলক কাজ, সড়ক সংস্কার ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের সময় নিরাপত্তাব্যবস্থা সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয় না বলে দূষণ বাড়ছে। শিল্প কারখানার চিমনিবাহিত কালো ধোঁয়াও বাতাসকে দূষিত করছে। এ ছাড়া নগরীতে চলাচলকারী অধিকাংশ গণপরিবহনের ফিটনেস সমস্যা রয়েছে। এসব গাড়ির বেশির ভাগ ডিজেলচালিত। ডিজেলের কারণেও নগরীতে বায়ুদূষণের পরিমাণ বাড়ছে।

শহরে বেশি বেশি গাছ লাগালে বাতাসের দূষণের মাত্রা অনেকাংশে হ্রাস পাবে জানিয়ে পরিবেশ বিজ্ঞানের এই শিক্ষক বলেন, চট্টগ্রাম শহরে পাহাড় কাটার জন্যও পরিবেশ দূষণের ঘটনা ঘটছে। নগরের পরিবেশ সুরক্ষার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের যে কঠোর ভূমিকা পালন করা দরকার, বিভিন্ন কারণে সংস্থাটি তা করতে পারছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা