kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ মাঘ ১৪২৭। ২১ জানুয়ারি ২০২১। ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

জৈব সার ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বারোপ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জৈব সার ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বারোপ

দেশে আবাদি জমির পরিমাণ ক্রমেই কমছে। জমিকৃষি থেকে অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। অনেক জমি কৃষিকাজের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার ঊর্ধ্বগতির কারণে আবাস ও নগরায়ণের প্রয়োজনে হারিয়ে যাচ্ছে কৃষিজমি। এ অবস্থায় জমিতে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহার, একই ফসলের বারবার চাষ মাটির উর্বরতা নষ্ট করছে, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বয়ে আনছে হুমকি।

এমন প্রেক্ষাপটে আজ ৫ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘কিপ সয়েল এলাইভ, প্রটেক্ট সয়েল বায়োডাইভার্সিটি’। কৃষি মন্ত্রণালয় এর বাংলা করেছে, ‘মাটিকে সজীব রাখুন, মাটির জীববৈচিত্র্য রক্ষা করুন’।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন কৃষিজমির উৎকৃষ্ট ব্যবহার। তাঁরা জোর দিচ্ছেন জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ, মাটিতে জৈব বালাইনাশক ও সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগের ওপর। তাঁদের মতে, জৈব সার ব্যবহারে মাটির উর্বরতা দীর্ঘস্থায়ী হয়। উৎপাদিত ফসল হয় স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ।

বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস উপলক্ষে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, সয়েল সায়েন্স সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজন করেছে সেমিনার ও প্রদর্শনীর।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, দেশে আবাদি জমির পরিমাণ ৮৫.৭৭ লাখ হেক্টর। মাটির উর্বরতা রক্ষা, পরিমিত মাত্রায় সার প্রয়োগ ও বালাইনাশকের ব্যবহার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিস, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৃত্তিকা সম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানসহ অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান। এর সঙ্গে রয়েছে বেসরকারি উদ্যোগও।

সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিসের ফেসবুক পেজ ‘এআইএস ঢাকা’র পাশাপাশি ‘কৃষি কথন’ বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক প্রচারের মাধ্যমে কৃষক এবং কৃষি উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করছে। ‘কৃষি কথন’ পেজ থেকে জৈব বালাইনাশক, সুষম মাত্রায় সার ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে কৃষকদের সচেতনতা বাড়াতে প্রচার অব্যাহত রয়েছে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান খান বলছেন, ‘অসম মাত্রায় সার ও কীটনাশকের ব্যবহারের কারণে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়। জৈব সার, জৈব বালাইনাশক ব্যবস্থা শুধু যে মাটির পুষ্টি বৃদ্ধি করে তা নয়, এটি মাটির গুণাগুণও বৃদ্ধি করে। অতিমাত্রায় সার ব্যবহার না করে জৈব উপায়ে তৈরি কম্পোস্ট পিট, ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া শস্য বিন্যাসের মাধ্যমেও মাটির গুণাগুণ বজায় রাখা যায়।’

ড. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘রাসায়নিক সারে তো ভেজালও থাকতে পারে, কোনো উপাদান কমবেশি থাকতে পারে, যা মাটিকে পরবর্তী সময়ে দূষিত করে তুলবে। বাংলাদেশের বেশির ভাগ মাটিরই জৈব মাত্রা কম, যা একটা প্রধান সমস্যা।’ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কৃষককে জৈব সার, আইপিএম প্রভৃতি ব্যবহারে আরো বেশি উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সবুজ সার হিসেবে ধইঞ্চা চাষ করা যেতে পারে। মূলত ফসলচক্রকে ঠিক রাখার জন্য ধইঞ্চা একটি সমন্বয়কারী ফসল। সাধারণত এক ফসল থেকে আরেক ফসলের মাঝখানে যে সময় জমি ফাঁকা থাকে ওই সময়ে কৃষকরা ধইঞ্চা বীজ বপন করেন। অনেক সময় ১৫ থেকে ২০ দিনের ধইঞ্চা লাঙল দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়। তা মাটিতে অবস্থানরত অণুজীবের সঙ্গে মেশে এবং এগুলো জৈব সারে পরিণত হয়। এরপর ধইঞ্চা গাছ থেকে তৈরি উপাদান ধীরে ধীরে উদ্ভিদের জন্য উপকারী সার হয়ে ওঠে। এতে মাটির জৈব মাত্রা সমৃদ্ধি পায়। মাটিকে পুষ্টি দেওয়ার পাশাপাশি পুষ্টি ধরে রাখা ও পানি ধরে রাখার ক্ষমতাও বাড়ায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা