kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সড়ক দুর্ঘটনা

এক পরিবারের ছয়জনসহ সাত জেলায় নিহত ২২

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এক পরিবারের ছয়জনসহ সাত জেলায় নিহত ২২

বাস ও সিএনজি অটোরিকশার সংঘর্ষে একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যুর খবর শোনার পর স্বজনদের আহাজারি। দৌলতপুর উপজেলার মুলকান্দি এলাকায় মানিকগঞ্জ-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়কে গতকালের এ দুর্ঘটনায় নিহত হয় সাতজন। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকাসহ দেশের সাত জেলায় গতকাল শুক্রবার সড়কে প্রাণ গেছে ২২ জনের। এর মধ্যে মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের মুলককান্দিতে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ছয়জনসহ সাতজন নিহত হয়েছেন।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বরাতে নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত : 

ঢাকা : রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় গতকাল এক শিশুসহ দুজন নিহত হয়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল ৮টার দিকে মতিঝিল বক চত্বরে যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর নুসাইবা নামের ১০ বছরের এক শিশুকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বাকি চারজনের তিনজন নুসাইবার ভাই, ভাবি ও নানি। সিএনজিচালক হাফিজের (৩৫) অবস্থা গুরুতর। এ ছাড়া দুপুরে ডেমরার মানিকদিতে ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী ইফতিখার খলিল ইফতি (১৮) নিহত হয়েছেন। তিনি রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জে নিহতরা হলেন টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার চাষাভাদ্রা গ্রামের হরেকৃষ্ণ বাদ্যকার (৫০), তাঁর ছেলে গোবিন্দ বাদ্যকার (২৬), পুত্রবধূ ববিতা রানী (২৪), নাতনি রাধেরানী (৫), ভাইয়ের স্ত্রী খুশি রানী (৫২), ভাতিজা রায় প্রকাশ (৩০) এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক দৌলতপুর উপজেলার সমেতপুরের জামাল শেখ (৩০)। দৌলতপুর থানার ওসি রেজাউল করিম জানান, শিশু রাধেরানীর চিকিৎসার জন্য গতকাল দুুপুরে ওই পরিবারের সদস্যরা মানিকগঞ্জের এক চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছিলেন। দুপুর আড়াইটার দিকে মুলককান্দিতে পৌঁছার পর তাঁদের বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের লাশ থানায় রাখা হয়েছে। বাসটিকে আটক করা হলেও এর চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন।   

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) : মির্জাপুরে নিহতরা হলেন রংপুরের পীরগঞ্জের ইছহাক মণ্ডলের ছেলে হান্নান মণ্ডল (৫০), মজিবর রহমানের ছেলে মো. সৈয়দ আলী (৫০), ছোবহান খানের ছেলে শওকত হোসেন (১২), নুরু মিয়ার মেয়ে নুরুন্নাহার (১৬), জয়নাল হোসেনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (৩৫) ও পারভেজ আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৩০)। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পীরগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সেবা ক্লাসিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস গতকাল ভোর ৬টার দিকে কুরনি এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় বাসটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে যাত্রীরা ধাক্কা দিয়ে বাসটি প্রায় ১০০ গজ দূরে মহাসড়কের পাশে নেয়। সকাল ৭টার দিকে দ্রুতগতির একটি ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিকে ধাক্কা দিলে বাসটি পাশের একটি বসতঘরের দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এ সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটির অন্তত ১৫ যাত্রী বাস ও ট্রাকের চাকার নিচে চাপা পড়েন। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা, গোড়াই হাইওয়ে, ট্রাফিক পুলিশ ও মির্জাপুর ফায়ার স্টেশনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনের লাশ উদ্ধার করেন। এ ছাড়া আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরো দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নাটোর : নাটোরে নিহত আলাল ফকির (৬৫) সদর উপজেলার হয়বতপুর বাজার এলাকার মৃত মাসুম ফকিরের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানায়, গতকাল সকালে আলাল হয়বতপুর বাসস্ট্যান্ড মসজিদে নামাজ শেষে চা খাওয়ার জন্য হাইওয়ে পার হচ্ছিলেন। এ সময় একটি ট্রাকের চাকার নিচে তাঁর দুই পা পিষ্ট হয়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

কাহালু (বগুড়া) : কাহালুতে নিহত রিপন গাইবান্ধার মাইদুল্লাহপুর উপজেলার বড় জামালপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে। স্থানীয় লোকজন জানান, গতকাল দুুপুরে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের বিবিরপুকুর এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলচালক রিপন আহত হন। তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) :  নিহত জাহিদ হাসান (৪) ভাটরা ইউনিয়নের বেলঘড়িয়া গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে। নন্দীগ্রাম কুমিড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আজিজুর রহমান ও স্থানীয় লোকজন জানায়, গতকাল বিকেলে জাহিদ বাড়ির পাশের রাস্তায় খেলছিল। এ সময় একটি ধানবোঝাই ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান শিশুটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

মাগুরা : পৃথক দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন শালিখা উপজেলার থৈয়পাড়া গ্রামের মিল্টন মজুমদারের স্ত্রী ব্র্যাককর্মী স্বর্ণা মজুমদার (৩৫), তাঁর ভাই সুব্রত মজুমদারের স্ত্রী সাথী মজুমদার (৩৬) এবং নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কলিনগর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক আহাদ আলী (৫৫)। মাগুরা হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম জানান, গতকাল বিকেলে স্বর্ণা মজুমদার ও সাথী মজুমদার আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়ার সময় রামনগ ঠাকুরবাড়ী এলাকায় একটি ট্রাক তাঁদের চাপা দেয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক স্বর্ণাকে মৃত ঘোষণা করেন। সাথীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান। অন্যদিকে নড়াইলের আহাদ আলী মোটরসাইকেলযোগে মাগুরার মহম্মদপুরে রোগী দেখতে যাওয়ার পথে একটি ইজিবাইকের ধাক্কায় আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে মাগুরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : সরাইলে নিহত বানা মিয়া (৭০) গোগদ এলাকার রহিজ আলীর ছেলে। খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশের ওসি মো. মাহবুবুর রহমান জানান, গতকাল বিকেলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গোগদে বাস চাপা পড়ে বানা মিয়ার মৃত্যু হয়। সিলেটগামী ওই বাসটিকে আটক করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা