kalerkantho

মঙ্গলবার। ৫ মাঘ ১৪২৭। ১৯ জানুয়ারি ২০২১। ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার

সেরা সিনেমা ‘ফাগুন হাওয়ায়’ ও ‘ন ডরাই’

সেরা অভিনেতা তারিক আনাম ও অভিনেত্রী সুনেরাহ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সেরা সিনেমা ‘ফাগুন হাওয়ায়’ ও ‘ন ডরাই’

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের এবারের আসরে যৌথভাবে ‘ন ডরাই’ ও ‘ফাগুন হাওয়ায়’ সেরা সিনেমা নির্বাচিত হয়েছে। আর প্রধান চরিত্রের সেরা অভিনেতা হিসেবে তারিক আনাম খান (আরব বসন্ত) এবং সেরা অভিনেত্রী হিসেবে সুনেরাহ বিনতে কামাল (ন ডরাই) এই পুরস্কার জিতেছেন। এর মধ্যে অভিষেকেই বাজিমাত করলেন সুনেরাহ; ‘ন ডরাই’ তাঁর প্রথম অভিনীত ছবি।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রজ্ঞাপনে ২৬টি ক্যাটাগরিতে ২০১৯ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘোষণা করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়। আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা) ও কোহিনুর আক্তার সুচন্দা।

সাগরপারের এক অকুতোভয় কিশোরীর সার্ফার হয়ে ওঠার গল্প নিয়ে ‘ন ডরাই’ সিনেমাটি বানানো হয়েছে। মাহবুব উর রহমানের এই সিনেমা ছয়টি বিভাগে পুরস্কার জিতেছে। আর ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নির্ভর করে ‘ফাগুন হাওয়ায়’ সিনেমাটি বানানো হয়েছে—এই সিনেমার শ্রেষ্ঠ প্রযোজক হিসেবে রেকর্ড অষ্টমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলেন ফরিদুর রেজা সাগর। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং শতাধিক চলচ্চিত্রের প্রযোজক ফরিদুর রেজা সাগর এ বিরল সম্মানের অধিকারী হলেন। ‘ফাগুন হাওয়ায়’ তিনটি পুরস্কার জিতেছে। যুগ্মভাবে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার ছাড়াও পার্শ্ব চরিত্রের শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে ফজলুর রহমান বাবু, শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জায় খন্দকার সাজিয়া আফরিন পুরস্কার পেয়েছেন।

অন্যদিকে ‘আবার বসন্ত’ সিনেমায় একাকিত্বে ভোগা ষাটোর্ধ্ব ব্যবসায়ীর ভূমিকায় অভিনয় করে তারিক আনাম খান সেরা অভিনেতা হয়েছেন। 

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৯-এ সবচেয়ে বেশি পুরস্কার ঘরে তুলেছে মাসুদ পথিক (মাসুদ রানা) পরিচালিত ‘মায়া দ্য লস্ট মাদার’ ছবিটি। ছবিটি সেরা সংগীত পরিচালক, সেরা সুরকার, সেরা গায়িকা, সেরা গীতিকার, সেরা কাহিনীকারসহ আটটি বিভাগে পুরস্কার জিতেছে। ছবির অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের মধ্যে পুরস্কারের তালিকায় রয়েছেন শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব চরিত্র নারগিস আক্তার, শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ইমন, যুগ্মভাবে শ্রেষ্ঠ গায়িকা মমতাজ বেগম ও ফাতিমা তুয্ যাহরা ঐশী, শ্রেষ্ঠ গীতিকার কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বা কামাল চৌধুরী (যুগ্মভাবে), যুগ্মভাবে শ্রেষ্ঠ সুরকার প্লাবন কোরেশী ও তানভীর তারেক, শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার মাসুদ পথিক, শ্রেষ্ঠ সম্পাদক জুনায়েদ আহমদ হালিম ও শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যান মো. রাজু।

‘ন ডরাই’ সিনেমায় প্রধান অভিনেত্রী হিসেবে সুনেরাহ ছাড়াও পুরস্কারের তালিকায় রয়েছেন শ্রেষ্ঠ পরিচালক তানিম রহমান অংশু, শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার মাহবুব উর রহমান, শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক সুমন কুমার সরকার ও শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক রিপন নাথ।

‘সাপলুডু’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা খল চরিত্রে পুরস্কার পেয়েছেন জাহিদ হাসান। যুগ্মভাবে শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী হয়েছেন ‘কালো মেঘের ভেলা’ ছবির জন্য নাইমুর রহমান আপন’ ও ‘যদি একদিন’ ছবির জন্য আফরীন আক্তার।

‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালকের পুরস্কার পাচ্ছেন হাবিবুর রহমান। ‘শাটল ট্রেন’ চলচ্চিত্রের ‘তুমি চাইয়া দেখো’ গানের জন্য শ্রেষ্ঠ গায়কের পুরস্কার উঠেছে তরুণ গায়ক মৃণাল কান্তি দাসের ঝুলিতে।

কামাল চৌধুরীর সঙ্গে যুগ্মভাবে শ্রেষ্ঠ গীতিকারের পুরস্কার পেয়েছেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। তাঁর মেয়ে মৃত্তিকা গুণের পরিচালনায় ‘কালো মেঘের ভেলা’ চলচ্চিত্রে ‘ইস্টিশনে জন্ম আমার’ শিরোনামে একটি গান লিখেছেন নির্মলেন্দু গুণ।

শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতার পুরস্কার পেয়েছেন ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ ছবির সংলাপ রচয়িতা জাকির হোসেন রাজু। যুগ্মভাবে ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশকের পুরস্কার পেয়েছেন মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ বাসু ও মো. ফরিদ আহমেদ। শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্র হিসেবে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘যা ছিলো অন্ধকারে’ ও শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য হিসেবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের ‘নারী জীবন’ পুরস্কার জিতেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা